হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যানটেশনে চুল প্রতিস্থাপন

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

ডা. মাহবুবুর রহমান শাহীন

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যানটেশন এক যুগান্তকারী চিকিৎসা পদ্ধতি। যাদের টাকমাথা; অর্থাৎ যাদের মাথার পেছনে বা সাইডে চুল আছে, কিন্তু কপালের ওপর বা মাথার উপরিভাগে চুল নেই এবং যাদের বয়স ৩৫ ও এর ঊর্ধ্বে, তাদের জন্য হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যানটেশনের মাধ্যমে চুল প্রতিস্থাপন উত্তম পদ্ধতি। চিকিৎসাবিজ্ঞানে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যানটেশনের মাধ্যমে চিকিৎসকরা বর্তমানে চুল প্রতিস্থাপন করছেন। হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যানটেশন বলতে মাথার পেছনে বা সাইড থেকে চুলসহ চামড়া কেটে এনে সেলাই করতে হয় আবার মাথার পেছন থেকে ও সাইড থেকে একটি করে চুল গোড়াসহ এনে টাক জায়গায় স্কিন ফুটো করে ঢুকিয়ে দিতে হয়। বর্তমানে দুটি পদ্ধতির মাধ্যমে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যানটেশন করা হয়। একটি হলো FUT ev Follicular Unit Plantation, যার মাধ্যমে মাথার পেছন ও সাইড থেকে চুলসহ চামড়া কেটে এনে সেলাই করতে হয়। অপরটি হলো ঋটঞ (Follicular Unit Extraction). এ পদ্ধতিতে মাথার পেছন ও সাইড থেকে একটি করে চুল গোড়াসহ এনে টাক জায়গায় স্কিন ফুটো করে ঢুকিয়ে দিতে হয়। প্রশ্ন থাকে, একজন রোগী কোন পদ্ধতি ব্যবহার করবেন। তাই এ পদ্ধতির চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। অনেকেই মাথার চুল পড়লে বা মাথায় টাক থাকলে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। কী করবেন ভেবে পান না। সোজা কথা হলো, এ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া উচিত। রোগী যদি মনে করেন তাহলে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যানটেশনের দুটি পদ্ধতি সম্পর্কে বিশদ ধারণা থাকা জরুরি।

পদ্ধতি-১

FUT (Follicular Unit Plantation) পদ্ধতিতে মাথার পেছন থেকে চুলসহ স্কিন কেটে এনে সেলাই করা হয়, যা শুকাতে ১০ দিন সময় লাগে। তবে মাথায় চুল কামাতে হবে না। এ পদ্ধতিতে ৪ ঘণ্টায় ২ হাজার চুল লাগানো যায়। এ পদ্ধতি সূক্ষ্ম। কারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে চুল আলাদা করা হয়। এ পদ্ধতিটি ব্যয়বহুল নয়। একজন ডাক্তার ইচ্ছে করলে এক দিনে ৬ হাজার পর্যন্ত চুল লাগাতে পারেন। সেলাই করতে হয় বলে বেশি ব্যথা ও দাগ থাকে। তবে বড় জায়গায় ট্রান্সপ্ল্যানটেশনের জন্য এ পদ্ধতিটি খুবই উপযোগী।

পদ্ধতি-২

FUT (Follicular Unit Extraction)পদ্ধতির মাধ্যমে মাথার পেছন থেকে একটি করে চুল তুলে আনা হয় ও প্রতিস্থাপন করা হয়, যা শুকাতে দুই থেকে তিন দিন লাগে। ধীর পদ্ধতিতে চুল লাগাতে হয় বা ১০ ঘণ্টায় ২ হাজার চুল লাগানো সম্ভব। এ পদ্ধতিতে একদিনে সর্বোচ্চ ২ হাজার চুল লাগানো সম্ভব। তবে এ পদ্ধতিটি ব্যয়বহুল। সেলাই করতে খুব অল্প ব্যথা এবং কোনো দাগ থাকে না। ছোট এরিয়ার ট্রান্সপ্ল্যানটেশনের জন্য এ পদ্ধতি সহায়ক। এ দুই পদ্ধতিতে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যানটেশন করার ফলে চুলগুলো স্বাভাবিক বড় হতে থাকে। চুল তুলে আনার পর পেছনের চুলগুলো গজাতে থাকে। তবে মূল কথা হলো, আপনাকে ভেবেচিন্তে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যানটেশন করাতে হবে। এতে ঝুঁকি কম এবং আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন।

লেখক : কসমেটিক ও হেয়ার প্ল্যানটেশন সার্জন, অরোরা স্কিন অ্যান্ড অ্যাসথেটিক, ধানমন্ডি, ঢাকা

"