জন্ডিস রোগে বিশ্রাম

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

মো. আরিফুর রহমান ফাহিম

জন্ডিস কোনো রোগ নয়, এটি রোগের লক্ষণ মাত্র। আমাদের রক্তের লোহিত কণিকাগুলো একটা সময়ে স্বাভাবিক নিয়মেই ভেঙে গিয়ে বিলিরুবিন তৈরি করে, যা পরবর্তীকালে লিভারে প্রক্রিয়াজাত হয়ে পিত্তরসের সঙ্গে পিত্তনালির মাধ্যমে পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করে এবং অন্ত্র থেকে বিলিরুবিন মলের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। বিলিরুবিনের এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় যেকোনো অসংগতি দেখা দিলে রক্তে বিলিরুবিন বেড়ে যায় আর দেখা দেয় জন্ডিস। জন্ডিসের মাত্রা বেশি হলে হাত, পা এমনকি সারা শরীরও হলুদ হয়ে যেতে পারে। জন্ডিসে অধিকাংশ ক্ষেত্রে লিভার আক্রান্ত হয়। লিভারের রোগ জন্ডিসের প্রধান কারণ। আমরা যা কিছুই খাই না কেন তা লিভারে প্রক্রিয়াজাত হয়। লিভার নানা কারণে রোগাক্রান্ত হতে পারে। হেপাটাইটিস-এ, বি, সি, ডি এবং ই ভাইরাসগুলো লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যাকে বলা হয় ভাইরাল হেপাটাইটিস। আমাদের দেশসহ সারা বিশ্বেই জন্ডিসের প্রধান কারণ এই হেপাটাইটিস ভাইরাসগুলো। তবে উন্নত দেশগুলোয় অতিরিক্ত মদ্যপান জন্ডিসের একটি অন্যতম কারণ। এ ছাড়া অটোইমিউন লিভার ডিজিজ, বংশগত কারণসহ আরো কিছু অপেক্ষাকৃত বিরল ধরনের লিভার রোগেও জন্ডিস হতে পারে। ওষুধ যেহেতু লিভারে প্রক্রিয়াজাত হয়, তাই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়ও অনেক সময় জন্ডিস হয়। ভাইরাস থেকে শুরু করে নানা ধরনের ওষুধ (যেমন প্যারাসিটামল কিংবা টিবি রোগের ওষুধ), অ্যালকোহল ইত্যাদির প্রভাবে একিউট হেপাটাইটিস হতে পারে। ভাইরাল হেপাটাইটিস সাধারণত তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণ সেরে যায়। এ সময় ব্যথার ওষুধ, যেমন- প্যারাসিটামল, এসপিরিন, ঘুমের ওষুধসহ অন্য কোনো অপ্রয়োজনীয় ও কবিরাজি ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। অন্যভাবে বলতে গেলে, জন্ডিস হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধই বাস্তবে সেবন করা ঠিক না। এতে হিতে বিপরীত হওয়ার ঝুঁকিটাই বেশি থাকে। যেহেতু জন্ডিসে বমি হয়, এর ফলে শরীর থেকে পানি বের হয়ে যায়। ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা এড়ানোর জন্য পানীয় খেতে বলা হয়। তা ছাড়া পর্যাপ্ত পানি খেলে মূত্রের সাহায্যে রক্তের অতিরিক্ত বিলিরুবিনও বেশি নিষ্কাশিত হয়ে যায়। তবে বেশি বেশি পানি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হয় বলে তা কিছুটা হালকা রঙের হয়ে এলেও রক্তে বিলুরুবিনের পরিমাণ এতে কমে না। বরং বারবার প্রস্রাব করতে গিয়ে রোগীর বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটে। অথচ এ বিশ্রামই হলো জন্ডিসের প্রধান চিকিৎসা। প্রাণঘাতী রোগ হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের টিকা সর্বত্র পাওয়া যায়। তাই সব বয়সের মানুষের এ টিকা অবশ্যই নেওয়া উচিত। পরিবারের কোনো সদস্যের হেপাটাইটিস-বি হলে অন্য সবাইকে প্রতিষেধক টিকা নেওয়া জরুরি। হেপাটাইটিস-সির প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কার হয়নি। তাই সাবধানতাই বর্তমানে এ রোগ থেকে বাঁচার উপায়।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, ফার্মেসি বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, শুক্রাবাদ, ঢাকা

"