শিশুদের চর্মরোগ

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৮, ০০:০০

ডা. এ এস এম বখতিয়ার কামাল

শিশুদের অনেক কারণে অ্যালার্জি হতে পারে। ঠান্ডার জন্য, ধুলাবালুর কারণে, ফুলের রেণু, কোনো কিছু খাওয়ার মাধ্যমে শিশুর অ্যালার্জি হতে পারে। অ্যালার্জি হলে হঠাৎ করেই সারা শরীরে অতিরিক্ত চুলকানি শুরু হয়। পুরো শরীর লাল লাল চাকার মতো হয়ে ফুলে যায়। শরীর ব্যথা হয়। শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। অনেক শিশুর পশমি বা সিনথেটিক কাপড়ে অ্যালার্জি হয়। শিশুর কেন অ্যালার্জি হয়, তা বাবা-মা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে তারা এর কারণ নির্ণয় করতে পারবেন। তখন লিখে রাখতে হবে শিশু ওই দিনে কী কী খাবার গ্রহণ করেছে। পরবর্তী সময়ে আবার অ্যালার্জি দেখা দিলে সেদিন তাকে কী কী খাওয়ানো হয়েছে-তা থেকে সহজেই বুঝতে পারা যায় শিশুর কোন খাবারের প্রতি অ্যালার্জি। বাজারের অনেক বেবি লোশন, পাউডার, সাবান, ইত্যাদি অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে। যেসব কারণে অ্যালার্জি হয় তা পরিত্যাগ করতে পারলেই অ্যালার্জি থেকে শিশুকে মুক্ত রাখা যায়।

খোসপাঁচড়া : এটি একটি ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ; যা বড়দের তুলনায় ছোটদের বেশি হয়। শিশুরা খুবই আদরের। তারা বিভিন্নজনের সংস্পর্শে আসে। সাধারণত দুই আঙুলের ফাঁকে, বগলে, কুচকি, পেটের দুই পাশসহ সারা শরীর এ রোগে আক্রান্ত হয়ে জটিল অবস্থা হতে পারে। ছোট ছোট লাল পানির ফোঁটা হয়। চুলকানির তীব্রতা রাতের বেলায় বেড়ে যায় এবং আক্রান্ত শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে ও কষ্ট পেয়ে থাকে। স্ক্যাবিস বা খোসপাঁচড়া রোগের চিকিৎসা দ্রুত গুরুত্ব সহকারে করানো দরকার এ কারণে যে, অযথা দেরি করলে শিশুদের অনেক সময় কিডনি রোগ হয়, অনেকের বাতজ্বর হয়। অ্যাকুউট গ্লোমেরুলো নেফ্রাইটিস হতে পারে। ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা যেমন-নখ ছোট রাখতে হবে। কারণ বেশি তরল ওষুধ বা মলম শরীরে লাগাতে হয়। সঙ্গে অ্যান্টিহিস্টামিন ভিটামিন এমনকি প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিকও দেওয়া হয়। পরার কাপড়-চোপড়, বিছানার চাদর, বালিশ-লেপের কভার, কাঁথা ইত্যাদি গরম পানিতে সিদ্ধ করতে হবে। কাপড় ইস্ত্রি করে নিতে হবে।

দাদ : এটা ত্বকের ওপর সৃষ্ট এক ধরনের ফাঙ্গাসের রোগ। এ রোগ শিশু-বৃদ্ধ সবারই হতে পারে। অপরিষ্কার শিশু বা বয়সীদের সবচেয়ে বেশি হতে দেখা যায়। মাথা, পা, বগল ছাড়া অন্যান্য স্থানেও এ রোগ হয়ে থাকে। অত্যন্ত চুলকানিসহ এতে আঠালো স্রাব নিঃসরণ ঘটতে দেখা যায়। এ রোগের বিশেষত্ব হলো আধুলির মতো গোলাকার লালচে দাগ শরীরে দেখা যায়। চাকা চাকা হয়ে একটি বা একাধিকও হতে পারে। এ রোগে আক্রান্ত হলে ক্ষতস্থান সব সময় শুকনো রাখতে হবে। পানি যত কম লাগানো হবে, ততই ভালো। শরীরে সাবান ব্যবহার করা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির কাপড়, চিরুনি অন্যের ব্যবহার করা উচিত নয়। তার ব্যবহৃত কাপড় প্রতিদিন ফোটানো পানিতে সিদ্ধ করা উত্তম। যেহেতু এ রোগে কুকুর, বেড়াল, ছাগল, গরু, ইঁদুর, মুরগি আক্রান্ত হয়ে এর জীবাণু

মানুষের শরীরে আসতে পারে, সে কারণে আক্রান্তকে দূরে রাখাই শ্রেয়। চুলকানি কমানোর জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন ০.১ মিলিগ্রাম শিশুর প্রতি কেজি ওজনের জন্য প্রতিবার রোজ তিনবার খাওয়ানো যেতে পারে। এক চামচে দুই মিলিগ্রাম ওষুধ থাকে গ্রাইসোফালভিন সিরাপ ১০ মিলিগ্রাম। প্রতি কেজি ওজনের জন্য প্রতিদিন চার থেকে ছয় সপ্তাহ ব্যবহার করা হয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করানোই উত্তম।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, চর্ম ও যৌন

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

"