খুঁতখুঁতে ও শুচিবায়ু রোগ

প্রকাশ : ৩০ মে ২০১৮, ০০:০০

ডা. মুনতাসীর মারুফ

অনেকেই স্বভাবগতভাবে খুঁতখুঁতে প্রকৃতির। খাবারের আগে থালা একবার পরিষ্কার করে সন্তুষ্ট নন, দরজায় তালা লাগিয়ে বার-দুয়েক টেনে নিশ্চিত হয়ে নিতে হয়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে অন্যদের চেয়ে কিছুটা বেশি সতর্ক থাকেন। এসব ব্যক্তিচরিত্রের বৈশিষ্ট্য। তবে এ ধরনের ব্যাপারগুলো যখন মাত্রাতিরিক্ত হয়ে পড়ে, তখন অনেক সময় নষ্ট, দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে, তবে সেটি রোগের পর্যায়ে চলে গেছে কিনা- তা পর্যালোচনার প্রয়োজন পড়ে। যে রোগটি সম্পর্কে বলা হচ্ছে, চিকিৎসা পরিভাষায় তাকে ‘অবসেসিভ-কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার’ বা সংক্ষেপে ওসিডি বলা হয়। ওসিডিতে আক্রান্ত ব্যক্তির মনে একই চিন্তা বা ছবি বারবার আসা, অথবা একই কাজ বারবার করার উপসর্গ দেখা যায়। তিনি এ চিন্তা মাথা থেকে সরাতে চেষ্টা করেন; কিন্তু পারেন না। চিন্তার কারণে বা চিন্তা সরানোর চেষ্টায় ব্যর্থতার কারণে তার মধ্যে অস্থিরতা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। একই চিন্তার পুনরাবৃত্তির ফলে একই কাজ বারবার করতে থাকেন তিনি। যেমন বারবার মনে হতে থাকে হাতে ময়লা লেগে আছে। এ কারণে তিনি বারবার হাত ধুতেই থাকেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাজনিত অবসেশনের কারণে অনেকের ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় লেগে যায় গোসলে। ‘শুচিবায়ু’ বলতে অনেকে যা বোঝেন তা হলো, ওসিডির একটি ধরন। যেহেতু অধিকাংশ রোগী বুঝতে পারেন তার চিন্তা ও আচরণগুলো অহেতুক এবং অতিরিক্ত, তিনি এর জন্য লজ্জিত বোধ করেন এবং উপসর্গগুলো অনেক সময় অন্যের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখতে চেষ্টা করেন।

অবসেসিভ-কম্পালসিভ রোগটির কোনো নির্দিষ্ট কারণ বলা যায় না। তবে এ রোগে আক্রান্তদের মস্তিষ্কে সেরোটোনিন নামে নির্দিষ্ট একটি রাসায়নিকের তারতম্য দেখা যায়। যাদের বংশে ওসিডির ইতিহাস আছে, তাদের বংশগতির মাধ্যমে, অথবা আক্রান্ত বাবা-মাকে অনুকরণের ফলে সন্তানের এ রোগের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া গবেষণায় দেখা যায়, পরিবেশগত নানা আচরণ, বিশ্বাস, মূল্যবোধ এবং বিশেষ কিছু শারীরিক রোগের সঙ্গে এ রোগের সম্পর্ক রয়েছে।

ওসিডি একটি দীর্ঘমেয়াদি মানসিক রোগ। চিকিৎসার মাধ্যমে এর উপসর্গগুলো অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। অনেক রোগীর জন্য ওষুধ, আবার কারো জন্য কগনিটিভ ও বিহেভিয়ার থেরাপি বা আচরণগত চিকিৎসা পদ্ধতিতে ভালো ফল পাওয়া যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, ওষুধ এবং কগনিটিভ-বিহেভিয়ার থেরাপি একত্রে প্রয়োগ করলে রোগীর উপকার বেশি হয়।

লেখক : মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ, মেডিনোভা, মালিবাগ, ঢাকা

 

 

"