অ্যালার্জিজনিত খাবার

প্রকাশ : ১৭ মে ২০১৮, ০০:০০

ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস

আমরা নানা ধরনের খাদ্য খেয়ে থাকি, আমাদের শরীরে লাগে বা ভেতরে ঢোকে এবং তার বিরুদ্ধে অতি বা পরিবর্তিত ও বর্ধিত প্রতিক্রিয়া শরীরে হলে তাকে অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া বলে। গরুর দুধ, গরুর গোশত, ডিম, কলা, বেগুন, চিংড়ি, ইলিশ মাছ তো আমরা সবাই খাই। কেউ কেউ এসব খেয়ে পেটে ব্যথা, হাঁপানি বা সর্দিতে ভোগেন। এগুলোই খাদ্যের অ্যালার্জিক রিয়্যাকশন। খাদ্য গ্রহণ করার পর অস্বাভাবিক ইমুনোলোজিক্যাল ছাড়া অন্য প্রতিক্রিয়ায় খাদ্য গ্রহণ করার পর অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

কোন কোন খাদ্য থেকে অ্যালার্জি হয়ে থাকে?

প্রায় সব ধরনের খাদ্য থেকে অ্যালার্জি হয়ে থাকে। বিশেষ করে গরুর দুধ ও গোশত, ডিম, বাদাম, সয়াবিন, ইলিশ, চিংড়ি, পুঁটি, বোয়াল, শৈল মাছ, বেগুন, কুমড়া, কচু ইত্যাদি।

খাদ্যে অ্যালার্জিজনিত লক্ষণগুলো শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে দেখা দেয়, যেমন-ত্বক বা চামড়া চুলকাতে থাকে এবং সঙ্গে সঙ্গে চাকা চাকা হয়ে লাল হয়ে যায়।

চোখ চুলকায়, চোখ দিয়ে পানি পড়ে, লাল হয়ে থাকে, ফুলে ওঠে।

ওপরের শ্বাসনালিতে, নাকে ও গলা চুলকাতে থাকে। গলা ফুলে গেছে বলে মনে হয়, এমনকি কথা বলার সময় অসুবিধা হয়, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ বন্ধ ভাব, অনেক সময় শব্দও থাকে।

নিচের শ্বাসনালিতে শ্বাসকষ্ট, কাশি, দম খাটো খাটো ভাব, বাঁশির মতো আওয়াজ।

পরিপাকতন্ত্রে বমি বমি ভাব, পেটে ক্র্যাম্প বা ব্যথা, ডায়রিয়া দেখা যায়। জননতন্ত্রে-স্ত্রী ও পুরুষ অঙ্গে চুলকাতে থাকে ও ইউটেরাসে ক্র্যাম্প বা ব্যথা শুরা হয়।

কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম মাথাব্যথা ও রক্তের চাপও কমে বা বেড়ে যেতে পারে।

কীভাবে এ রোগ নির্নয় করা যায়?

রোগের ইতিহাস থেকে, যেমন কত সময় ধরে শুরু হয়েছে রোগের লক্ষণ, খাদ্য গ্রহণ ও প্রতিক্রিয়ার মধ্যবর্তী সময় এবং এটপিক ডার্মাটাইটিস, অ্যাজমা, অ্যালার্জিক রাইনাইটিস রোগে ভুগে থাকেন কিনা।

ল্যাবরেটরি পরীক্ষা-স্কিন প্রিক টেস্ট, স্পেসিফিক আইজিই।

অ্যালার্জিজনিত খাদ্য খাওয়ার পর অ্যাজমা হওয়ার সম্ভাবনা কতটা?

সাধারণত অ্যালার্জিজনিত খাদ্য খাওয়ার পর শুধু অ্য্যাজমা হয় না, তবে অন্য উপসর্গের মধ্যে অ্যাজমার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে অ্যালার্জিজনিত খাদ্য খাওয়ায় অন্যান্য প্রতিক্রিয়া যেমন ঠোঁট ফুলে ওঠে, মুখে চুলকায়, নাক দিয়ে পানি পড়ে, চোখ ফুলে ওঠার সঙ্গেও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। অ্যাজমা আক্রান্ত রোগীকে জিজ্ঞাস করলে তাদের ২০ থেকে ৬০ ভাগ মনে করেন, তাদের অ্যাজমার জন্য কোনো না কোনো খাদ্য দায়ী। যেসব খাদ্যকে তাদের অ্যাজমার জন্য দায়ী মনে করেন সেই খাদ্য তাদের খাওয়ানোর পর দেখা যায়, মাত্র ২ থেকে ৫ ভাগ ক্ষেত্রে ফুসফুসের ক্ষমতা কমে গেছে বা অ্যাজমা রোগের তীব্রতার পরিমাণ বেড়েছে। শিশুদের ৬ থেকে ৮ ভাগ অ্যাজমা এ এলার্জিজনিত খাদ্য থেকে হয়ে থাকে। বড়দের ক্ষেত্রে খুব কমই খাদ্য থেকে হয়ে থাকে। তাই অ্যাজমা আক্রান্ত রোগীরা প্রায়ই এলার্জিজনিত খাদ্য খান না যদিও ওই খাদ্যগুলো খেলে তাদের অ্যাজমা আক্রান্ত হওয়ার কোনো ভয় নেই।

লেখক : সাবেক অধ্যাপক, অ্যালার্জি বিভাগ

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

দি অ্যালার্জি অ্যান্ড অ্যাজমা সেন্টার

"