ডায়াবেটিসে চোখের সমস্যা

প্রকাশ : ১০ মে ২০১৮, ০০:০০

ডা. শাহজাদা সেলিম

ডায়াবেটিস শরীরের যেসব অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তার মধ্যে চোখ অন্যতম। ডায়াবেটিসে চোখের সর্বস্তরের কাঠামোই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে রেটিনার ক্ষতিই সবচেয়ে মারাত্মক। কেননা তাতে ডায়াবেটিক রোগীর দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা থেকে যায়। চক্ষু পার্শ্বস্থিত অন্যান্য উপাদান জড়িত হলে দৃষ্টি অস্বচ্ছ হতে পারে। কিছু কিছু সমস্যার কারণে রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কাও দেখা দিতে পারে। ডায়াবেটিক রোগীর চোখের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রক্তনালির সমস্যাটিই মূলত এ জন্য দায়ী। চোখের এসব সমস্যাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।

* নন-প্রলিফারেটিভ ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি (NPDR)

* প্রলিফারোটিভ ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি (PDR)

* মাকুলার ইডিমা

ডায়াবেটিক রোগীর চোখে সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি হলো

* ডায়াবেটিসের উপস্থিতির সময়কাল, টাইপ-১ ও টাইপ-২ উভয় ধরনের ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে তা প্রয়োজন।

* ঠিকমতো ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থতা।

* উচ্চরক্তচাপ।

* প্রস্রাবে আমিষের (প্রোটিনের) উপস্থিতি।

* রক্তের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল।

* গর্ভধারণ ও রক্তস্বল্পতা।

ডায়াবেটিক রোগীকে নিয়মিত চোখের কাঠামোগত পরিবর্তনের হিসাব রাখতে হবে। এ জন্য ডায়াবেটিস ধরা পড়ার সময় থেকে শুরু করে প্রতি দুই বছরে কমপক্ষে একবার চোখ পরীক্ষা করাতে হবে। আর চোখে যদি কোনো সমস্যা থাকে (রেটিনোপ্যাথি) তবে চক্ষুবিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। ডায়াবেটিক রোগীর কারো কারো উচ্চ ইন্ট্রাঅকুলার (IOL) চাপ থাকতে পারে।

ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি থেকে রক্ষা পেতে হলে নিয়মিত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

* কঠোরভাবে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

* রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ : ডায়াবেটিক রোগীকে রক্তচাপ ১৩০/৭০ মিলিমিটার পারদ রাখতে পারলে ভালো। এ ক্ষেত্রে এসিইআই (ACEI)ও এআরবি (ARB) জাতীয় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রক ওষুধগুলো ভালো।

মনে রাখতে হবে-

* সময়মতো ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করতে পারলে দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা কমে যায়।

* ডায়াবেটিসের স্থায়িত্ব সময়কালে রেটিনোপ্যাথির তীব্রতা ও চক্ষুগোলকের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে।

* চিকিৎসা করেও চোখের মারাত্মক সমস্যার তেমন কোনো উন্নতি করা যায় না, এতে চোখের ক্ষতির পরিমাণ স্থবির করা যায়।

* যাদের দৃষ্টিশক্তি কমতে থাকছে এবং ইন্ট্রাঅকুলার চাপ বাড়ছে তাদের সত্বর চক্ষুবিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে।

* ১০ থেকে ৩০ বছর বয়সী সব ডায়াবেটিক রোগী, যাদের বছরোর্ধ্ব সময় ধরে ডায়াবেটিস আছে এবং ৩০ বছরের বেশি বয়সের ডায়াবেটিক রোগীর চক্ষুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

আজকাল লেজার চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির রোগীকে। এতে তাদের দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা কমেছে।

লেখক : হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

"