কান্নায় উপকার

প্রকাশ : ০৩ মে ২০১৮, ০০:০০

ডা. এম ইয়াছিন আলী

মানুষ কাঁদে কারণে আবার কখনোবা অকারণে। কান্না-হাসি মিলিয়েই আমাদের জীবন। বেঁচে থাকতে হলে হাসি-কান্নার মধ্যেই বাঁচতে হবে। আবেগ, অভিমান, বেদনায় মানুষ কাঁদে। আবার কোনো কোনো সময় প্রাপ্তিতে উল্লাসে ও তৃপ্তিতেও মানুষ কাঁদে। যাই হোক, মানুষ যেভাবেই কাঁদুক না কেন, এ কান্না কিন্তু শরীরের জন্য বেশ উপকারী। আমাদের মস্তিষ্কের একই অংশ থেকেই হাসি অথবা কান্নার অনুভূতির উৎপত্তি হয়। একটা মানুষ কতটুকু কাঁদবে, তা নির্ধারণ করে জিন। আবার পুরুষ ও মহিলাদের কাঁদার ক্ষমতার তারতম্য রয়েছে। সাধারণত ছেলেদের চেয়ে মেয়েরাই বেশি কেঁদে থাকে। সম্প্রতি এক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে, হাসি শরীরের জন্য যাতটা উপকারী, কান্নাও ঠিক ততটাই। হাসি ঠিক যেভাবে রক্তচাপ কমায়, শরীরকে ঝরঝরে ও তরতাজা রাখে, কান্নাও ঠিক তাই করে। নিউরোসাইকোলজিস্টরা সম্প্রতি গবেষণার মাধ্যমে জানিয়েছেন, কান্না মানসিক চাপ কমায় ও মনকে চাঙ্গা করে ভালোভাবে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা যায়, ৮৫ ভাগ মহিলা ও ৭৩ ভাগ পুরুষ কান্নার পর ভালো বোধ করছেন, তাদের মানসিক চাপ কমে যাচ্ছে। জীবনে মাঝেমধ্যেই এমন কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে যেগুলোর জন্য মানুষ প্রস্তুত থাকে না। ঠিক তখনই আমাদের মনে কান্নার অনুভূতি সৃষ্টি হয়। এ অনুভূতিগুলো মনের ওপরই তীব্র প্রভাব ফেলার পাশাপাশি শারীরিকভাবে তাৎক্ষণিক কিছু পরিবর্তন করে। এর মধ্যে অন্যতম হার্টের রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, শরীরে লবণের মাত্রা কমে গিয়ে অসুস্থ হয়ে কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া। মনের ওপর চাপ সৃষ্টির কারণে অনেকে কাঁদেন আবার অনেকেই বিমূঢ় হয়ে নির্বাক হয়ে যান। পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে, মনের ওপর চাপ সৃষ্টির কারণে যারা কেঁদেছেন, তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক সুস্থ আছেন। অন্যদিকে যারা না কেঁদে নির্বাক ছিলেন, তাদের মধ্যে একটা অংশ পরবর্তী সময়ে বিষণœতাসহ শারীরিক নানা রোগে ভুগছেন। তাই দুঃখ পেলে কাঁদুন, যতক্ষণ ইচ্ছে হয়। মনে রাখবেন, কান্না দুঃখকে জয় করার ও মনকে শক্তিশালী করার ক্ষমতা রাখে।

লেখক : চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট

ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল

ধানমন্ডি, ঢাকা

 

 

"