সিটি এনজিওগ্রাম

প্রকাশ : ০১ মে ২০১৮, ০০:০০

ডা. মো. মফিজুর রহমান রাজীব

এনজিওগ্রাম করে আমরা সহজেই শরীরের রক্তনালির অবস্থা বুঝতে পারি। এর একটা অসুবিধা হলো এ জন্য রোগীর বড় একটি ধমনীতে ফুটো করে তাতে একটা ক্যাথেটার হার্ট পর্যন্ত ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এতে কিছু ঝুঁঁকি তো থাকেই, এ ছাড়া এই পরীক্ষাটি অনেক রোগীর মনে ভীতিরও সঞ্চার করে থাকে। এই ঝুঁঁকি ও ভীতি থেকে মুক্তির জন্য সিটি স্ক্যান করেও রক্তনালির অবস্থা জানার একটি পরীক্ষা আবিষ্কৃত হয়েছে, এর নাম করোনারি সিটি এনজিওগ্রাম। ইশকেমিক হার্ট রোগ নির্ণয়ে এটি একটি সর্বাধুনিক নন-ইনভেসিভ (ঘড়হ-রহাধংরাব) পরীক্ষা। এটি করার জন্য হাতের শিরা (ধমনী নয়) দিয়ে আয়োডিনযুক্ত কন্ট্রাস্ট ডাই (ঈড়হঃৎধংঃ ফুব) প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সিটি স্ক্যান মেশিনের মাধ্যমে হৃৎপি-ের রক্তনালি বা অন্য কোনো অঙ্গের রক্তনালি পর্যবেক্ষণ করা হয়। ধমনীর গায়ে চর্বি বা ক্যালসিয়াম জমে সরু হয়ে গেলে তা সহজেই বোঝা যায়। ধমনীর যেকোনো ধরনের ব্লক এই পরীক্ষার মাধ্যমে ধরা পড়ে। অপেক্ষাকৃত সহজ, ঝুঁকিহীন ও সংক্ষিপ্ত এ পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হয় না, তাই যেসব রোগী এনজিওগ্রাম করার ঝুঁকির ভীতিতে চিকিৎসা নেওয়া থেকে বিরত থাকেন, তাদের জন্য সিটি এনজিওগ্রাম এক নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচন করেছে। এই পরীক্ষাটির একটি সীমাবদ্ধতা হলো এতে শুধু রোগ নির্ণয় করা যায়, সঙ্গে সঙ্গে স্টেন্ট বা রিং পরিয়ে দেওয়া যায় না। তাই এই পরীক্ষার মাধ্যমে কারো হার্টের ধমনীতে ব্লক ধরা পড়লে তাতে স্টেন্ট পরাতে অবশ্যই ইনভেসিভ এনজিওগ্রাম করতে হবে।

"