কোমলপানীয় থেকে নানা রোগ

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

ডা. এম ইয়াছিন আলী

কোমলপানীয়তে রয়েছে বিপুল পরিমাণ চিনি, ফসফরিক, অ্যাসিড, ক্যারামেল রং, ক্যামেইন, কার্বনেটেড পানি, প্রিজারবেটিভ এবং আরো বহু ধরনের রাসায়নিক উপকরণ, যা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী নয়। যেমন- ফসফরিক অ্যাসিডের কথাই ধরা যাক, এ উপকরণটি যোগ করার ফলে কোমলপানীয়ে অম্লতা বা অ্যাসিডিটি মারাত্মক বৃদ্ধি পায় (চ.ঐ৩.৪)। এক গ্লাস কোলার অ্যাসিডিটিকে নিরপেক্ষ বা নিষ্ক্রিয় করতে দরকার হবে ৩২ গ্লাস উচ্চ পিএইচের ক্ষারধর্মী পানির। গবেষণায় দেখা গেছে, ফসফরিক অ্যাসিড দাঁতের ক্যালসিয়ামের সঙ্গে বিক্রিয়া করে দাঁতের ক্ষয়সহ দাঁত ধ্বংস করতে পারে। এ ছাড়া ফসফরিক অ্যাসিড পেটে হাইনার অ্যাসিডিটি এবং আলসারের অবনতি ঘটায়।

কোমল পানিতে প্রচুর পরিমাণ চিনি ব্যবহার করা হয়। ১২ আউন্স (৩৫৫ মিলি.) কোমল পানীয়তে ৯ টেবিল চামচ পরিশোধিত চিনি থাকে, যা পান করলে পাওয়া যাবে ১৫০ ক্যালরি। ড. এ থ্রাশ পরীক্ষা করে দেখতে পান, প্রতিদিন ২৪ চা চামচ চিনি গ্রহণ করলে শরীরে জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা ৯২ শতাংশ কমে যায়। উচ্চমাত্রায় চিনি বা কর্ণসিরাপ (দাম কমানোর জন্য চিনির পরিবর্তে ব্যবহৃত হয় কর্ণসিরাপ) ব্যবহারের কারণে বিশ্বব্যাপী মানুষের বিশেষ করে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীদের ওজন বা স্থূলতা ব্যাপক হারে বেড়ে চলেছে। আর স্থূলতার কারণে মানুষের শরীরে বাসা বাঁধছে অসংখ্য মরণঘাতী রোগ। যেমনÑ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, হৃদরোগ, আর্থ্রাইটিস ইত্যাদি।

কোমলপানীয়তে ব্যবহৃত ক্যাফেইন এক ধরনের স্নায়ু উত্তেজক। অতিমাত্রায় কোমলপানীয় পান করলে শরীরে ক্যাফেইনের মাত্রা বেড়ে ক্যাফেইন অ্যাডিকশন বা মাদকাসক্তি বাড়ায়। তা ছাড়া মাত্রাতিরিক্ত কোমলপানীয় পান করলে শরীরে ম্যাটাবলিক কর্মকান্ডে ব্যাঘাত ঘটতে পারে, শরীরে পেনিসিলিন, অ্যাম্পিসিলিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতায় বিঘ্ন ঘটায়। বিশেষ করে চল্লিশোর্ধ্ব বয়সের মানুষের ক্ষেত্রে কিডনি অনেক সময় বাড়তি পরিমাণ ফসফরাস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না বলে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই যাদের কিডনি সমস্যা রয়েছে, কোমলপানীয় পানের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

খাদ্যগুণ বিচারে কোমলপানীয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো একমাত্র চিনি থেকে প্রাপ্ত ক্যালরি। আর ডায়েট কোমলপানীয় হলো কতগুলো ক্ষতিকর উপকরণসমৃদ্ধ শুধু পানি। সুতরাং অত্যধিক কোমলপানীয় পান থেকে আমাদের সাবধান থাকা উচিত।

লেখক : চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট

ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল

ধানমন্ডি, ঢাকা

"