বার্ধক্যে বাতব্যথা

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

ডা. এম ইয়াছিন আলী

বার্ধক্য কোনো রোগ নয়। এটা জীবনের একটি প্রক্রিয়া। জন্মালে মরতে হবে যেমন সত্য, তেমনি বেঁচে থাকলে বার্ধক্য আসবে। এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আর বর্তমানে বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। যার ফলে বয়স্ক ব্যক্তি বা প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও বেড়েছে। আর এ প্রবীণ জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগই বয়সজনিত হাড়ের ক্ষয় রোগে আক্রান্ত। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যেমন চুল পেকে যায়, তেমনি হাড়ের ক্ষয়ও বৃদ্ধি পেতে থাকে। বিশেষ করে মহিলাদের মেনোপেজ পরে হাড়ের ক্ষয় দ্রুত হতে থাকে। এ হাড়ের ক্ষয় ছাড়াও জয়েন্ট বা অস্থি-সন্ধির অভ্যন্তরীণ উপাদান যেমন-সাইনোভিয়াল ফ্লুইডও কমে, যার ফলে শরীরের জয়েন্টগুলোয় ব্যথা-বেদনা দেখা দেয়। বিশেষ করে মেরুদন্ড, ঘাড়, কোমর, হাঁটু, কাঁধ ইত্যাদিতে বেশি ব্যথা দেখা যায়, যা মেডিক্যাল পরিভাষায় স্পনডাইলোসিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, অস্টিওপরোসিস ইত্যাদি কারণে হয়ে থাকে। এ ব্যথার ফলে রোগীরা ব্যক্তিগত কাজকর্ম যা মেডিক্যাল পরিভাষায় ডেইলি অ্যাক্টিভিটিজগুলোও করতে পারে না। যেমন-বসা থেকে উঠতে পারেন না, নিচে বসতে পারেন না, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে পারেন না, টয়লেটে বসতে পারেন না ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় ভুগে থাকেন। এ সমস্যাগুলোর চিকিৎসা হলো ওষুধ। যেমন-এনএসআইডি, কন্ড্রোটিন সালফেট, ক্যালসিয়াম, হ্যালুরনিক অ্যাসিড ইত্যাদি। বয়স্ক লোকদের যেহেতু এ রোগ বেশি হয় তাই ওষুধের ব্যবহার যত কম করা যায় তত ভালো। ওষুধের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি ও থেরাপিউটিক ব্যায়াম যা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীনভাবে সমস্যাগুলো কমিয়ে এনে রোগী স্বাভাবিক জীবনযাপনের উপযোগী করে তুললে এবং রোগীর মাংসপেশির শক্তি বজায় রাখার জন্য বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের নির্দেশিত ব্যায়ামগুলো নিয়মিত করলে বার্ধক্যজনিত ব্যথা-বেদনামুক্ত সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব।

লেখক : চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট

ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল

ধানমন্ডি, ঢাকা

"