বার্ধক্য রোগ নয়

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

ডা. মহসীন কবির

বার্ধক্য কোনো রোগ নয়। এটি জীবনের শেষ পরিণতি। বেঁচে থাকলে সবাইকে বার্ধক্য মেনে নিতেই হবে। জন্মের পর থেকেই প্রতিটি মানুষ একটু একটু করে বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

একটি শিশু পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকেই শৈশব, কৈশোর ও যৌবন পেরিয়ে একসময় জীবনের শেষ ধাপে এসে পৌঁছায়। আর জীবনের এ শেষ ধাপটিই হলো বার্ধক্য। তাই প্রতিটি মানুষকে তার নিজের বার্ধক্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং এখন থেকেই নিজের বার্ধক্যের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। জীবনের এ সময়টাতে আমাদের শরীরে ও মনে নানা ধরনের পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। এ পরিবর্তনগুলো বাস্তবতা; কিন্তু অনেকেই এ পরিবর্তনগুলোকে নানা সময় গুরুতর ব্যাধি বলে ভাবতে থাকেন। আসুন জেনে নেই বার্ধক্যকালীন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনগুলো- বার্ধক্যে শরীরবৃত্তীয় কারণে মানুষের সাধারণ কিছু শারীরিক পরিবর্তন হয়-

* শক্তি কমে যাওয়া

* চোখে কম দেখা

* কানে কম শোনা

* দাঁত পড়ে যাওয়া

* চামড়া কুঁচকে যাওয়া

* চুল সাদা হয়ে যাওয়া

* চুল কমে যাওয়া

* ত্বকের লাবণ্য হ্রাস পাওয়া

বার্ধক্যকালীন শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়-

* দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে আসা

* শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া

* দুর্বলতা

* বাত-ব্যথা

* হাড়ের ক্ষয়রোগ

* ত্বকে সমস্যা

* হৃদরোগ

* ডায়াবেটিস

* ঘুমের সমস্যা

* পেটের সমস্যা

বার্ধক্যে প্রবীণদের শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি কিছু মানসিক সমস্যা দেখা যায়-

* ডিমনেশিয়া

* অ্যালজেইমারস ডিজিজ

* দুশ্চিন্তা ও মৃত্যুচিন্তা

* খিটখিটে মেজাজ

* বিষণœতা

* সামাজিক ভীতিরোগ

বার্ধক্যে মানসিক সমস্যার কারণ-

* দেহের এনাটমিক্যাল পরিবর্তন

* দেহের ফিজিওলজিক্যাল পরিবর্তন

* দৈনন্দিন জীবনযাপনে অনিয়ম

* প্রয়োজনের তুলনায় কম খাওয়া

* প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাওয়া

* কায়িক পরিশ্রম বা ব্যায়াম না করা

* প্রয়োজনীয় শারীরিক যত্নের অভাব

বার্ধক্যকালীন শারীরিক সমস্যা সমাধানে আমাদের যে পদক্ষেপগুলো নিতে হবে-

* প্রবীণদের তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। দেহে কোনো রোগ হলে তা পুষে না রেখে দ্রুত চিকিৎসা করাতে হবে।

* পরিবারের সবাইকে প্রবীণদের প্রতি যত্নশীল ও দায়িত্ববান হতে হবে।

* হাসপাতালগুলোয় প্রবীণদের জন্য স্বল্প খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

* জাতীয় স্বাস্থ্যনীতিতে প্রবীণদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সুস্পষ্ট নীতি উল্লেখ করতে হবে।

* প্রতিটি হাসপাতালে জেরিয়েট্রিক ইউনিট চালু করতে হবে।

* জেরিয়েট্রিক ফিজিশিয়ান, ফিজিওথেরাপিস্ট, নার্স ও সমাজকর্মী তৈরির জন্য সরকারকে নানা পদক্ষেপ নিতে হবে।

বার্ধক্যে মানসিক সমস্যা সমাধানে যা করতে হবে-

* পারিবারিক সুসম্পর্ক।

* প্রয়োজনীয় বিনোদনের ব্যবস্থা।

* প্রবীণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।

* সামাজিক ব্যবস্থায় প্রবীণদের নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া।

* প্রবীণদের যথাযথ সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা দেওয়া।

* সামাজিক নানা কর্মকা-ে প্রবীণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

* সমাজে নবীণ-প্রবীণের সুসম্পর্ক নিশ্চিত করা।

"