টনসিল অপারেশন

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

অধ্যাপক ডা. এম আলমগীর চৌধুরী

মানুষের গলার ভেতরে দুই পাশে দুটি টনসিল থাকে। আমাদের দেশে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে অনেকের টনসিলে ক্রনিক ইনফেকশন হয়। সাধারণত ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণে টনসিলের প্রদাহ হয়। টনসিল ইনফেকশনে শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হয়। এ রোগে স্কুলমুখী ছেলেমেয়েরাই বেশি আক্রান্ত হয়। টনসিল প্রদাহকে টনসিলাইটিস বলা হয়।

টনসিল প্রদাহের উপসর্গগুলো : টনসিল প্রদাহের উপসর্গগুলোর মধ্যে প্রধান উপসর্গ হচ্ছে গলায় ব্যথা। কেউ কেউ বছরে অনেকবার টনসিলের প্রদাহে আক্রান্ত হয়। অনেকে বছরের পর বছর টনসিল প্রদাহে ভুগে থাকেন। অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে টনসিল ও গলার লসিকাগ্রন্থি বড় হয়ে যায়, অনেক শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়। ক্রনিক প্রদাহের ফলে বিশেষ করে শিশুদের বেলায় টনসিল এত বড় হয়ে যায়, রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে এবং খাওয়া-দাওয়ায় অসুবিধা হয়। দীর্ঘমেয়াদি টনসিলের প্রদাহ হলে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা দেয়, যেমন : রিউমেটিক ফিভার, হার্ট এবং কিডনিতে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। সর্বোপরি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে।

কখন টনসিল অপারেশন করাবেন : টনসিলের তীব্র প্রদাহ ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি টনসিল প্রদাহের অর্থাৎ যাদের বছরে চার থেকে পাঁচবারের বেশি ইনফেকশন হয় অথবা যেসব রোগী বছরের পর বছর ভুগে থাকেন তাদের অপারেশন করে ফেলা প্রয়োজন। টনসিল অনেক বড় হয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে অসুবিধা হলে শিশুদের রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, টনসিলে যদি ফোঁড়া হয়, হঠাৎ করে একদিকের টনসিল অনেক বড় হয়ে গেলে যদি ক্যানসার সন্দেহ হয়, টনসিলে টিবি রোগ এবং অন্যান্য কারণে টনসিল অপারেশন করা দরকার।

টনসিল অপারেশনের পদ্ধতিগুলো : টনসিল অপারেশনের বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। যেমন :

ডিসেকশন ম্যাথড

ইলেকট্রকটারি

লেজার

কোবলেশন

আলট্রাসনিক

ডিসেকশন ম্যাথড বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়। এ উপায়ে অপারেশনের সময় কিছু রক্তপাত হয় এবং রক্তনালিগুলো সেলাই করে দিতে হয়।

লেজার, কোবলেশন এবং আলট্রাসনিক উপায়ে টনসিল অপারেশন অনেক উন্নতমানের; কিন্তু ব্যয়বহুল। এতে উপযুক্ত ট্রেনিংপ্রাপ্ত দক্ষ সার্জনের প্রয়োজন।

ইলেকট্রকটারি, লেজার পদ্ধতিতে টনসিল অপারেশনের সুবিধাগুলো : রক্তপাতহীন, নিরাপদ, আধুনিক এবং অত্যন্ত কম সময় লাগে। ইলেকট্রকটারি, লেজার পদ্ধতিতে টনসিল অপারেশনে কোনো সেলাই লাগে না। অপারেশনের পরই রোগী মুখে খেতে পারবে। দ্রুত আরোগ্য লাভ এবং রোগী অতি শিগগির দৈন্দদিন স্বাভাবিক কর্মকা-ে ফিরে যেতে পারে।

লেখক : নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ সার্জন

অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইএনটি

আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

"