অতিরিক্ত ওজন ও অ্যাজমা

প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস

জার্মান গবেষকরা এক সমীক্ষায় অ্যাজমা ও অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার মধ্যে সম্পর্ক আছে বলে দাবি করেছেন। তবে তারা স্থূলতা ও অ্যালার্জির মধ্যে কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাননি। তারা ধারণা করছেন, অ্যাজমা ও স্থূলতার সম্পর্ক জেনেটিক নয়, বরং শারীরিক। বিশেষভাবে তারা মনে করছেন, স্থূল ব্যক্তির ফুসফুসকে শরীরের চাহিদা পূরণের জন্য বাড়তি কাজ করতে হয়, ফলে অ্যাজমার সূত্রপাত ঘটে। এ দুই রোগের মধ্যে আন্তসম্পর্কের সূত্র এটাই।

স্থূলতার আরেকটি কারণ শারীরিক ব্যায়ামের অভাব। এটিও অ্যাজমার উৎপত্তিতে ভূমিকা রাখে। ব্যায়ামের সময় গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে হয়। ফলে শ্বাসতন্ত্রের গভীরতম অংশগুলোও সঙ্কোচন-প্রসারণে অংশ নিতে পারে। ফলে তারা শক্তিশালী হয়ে ওঠে ও অ্যাজমা প্রতিরোধে সম্ভব হয়।

দুর্ভাগ্যবশত অনেকগুলো কারণ যারা অ্যাজমা ও স্থূলতা তৈরিতে ভূমিকা রাখে, তারা আবার পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। কখনো কখনো একটি অন্যটির প্রকোপ বাড়িয়ে দেয়। যেমন অনিয়ন্ত্রিত অ্যাজমা ও শ্বাসতন্ত্রের অন্যান্য রোগের কারণে রোগী শারীরিক পরিশ্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়। তখন এ কায়িক শ্রমহীনতা আবার অ্যাজমার প্রকোপ প্রতিরোধে শারীরিক সক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

তদুপরি শ্বাসকষ্টের কারণে শিশুরা অধিক সময় ঘরে থাকতে বাধ্য হয়, তাদের শরীরের ক্যালরি ঠিক পরিমাণে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় বা এর ফলে তাদের স্থূলতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

স্থূলতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেকটি বিষয় অ্যাজমা চিকিৎসায় বিরূপ ভূমিকা পালন করে; তা হচ্ছে, বিষাদ বা হতাশা। যেসব কিশোর-কিশোরী বেশি স্থূল হয়ে যায়, তারা হীনম্মন্যতায় ভোগে। তাদের আত্মবিশ্বাস কমে যায়। এ হতাশার কারণে অ্যাজমা আক্রান্ত শিশু ঠিকমতো ওষুধ ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করে। ফলে অ্যাজমার প্রকোপ বেড়ে যায়। আবার এ অ্যাজমার আক্রমণে শিশু ঘরে বন্দি থাকতে বাধ্য হয়। তার শারীরিক ব্যায়াম বন্ধ হয়ে যায়, ফলে তার আরো মোটা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

অ্যাজমা এবং স্থূলতার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক আছে কিনা, সে বিতর্ক হয়তো আরো কিছুদিন ধরে চলতে থাকবে। এ ব্যাপারে স্থির উপসংহারে পৌঁছানো এখনো সম্ভব হয়নি। তবে এটি অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই, শিশুদের মধ্যে ভিডিও গেম ও টেলিভিশন দেখার বেশি বেশি প্রবণতা অ্যাজমা ও স্থূলতা উভয় রোগের প্রকোপ বাড়িয়ে দেয়।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, অ্যালার্জি বিভাগ

সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

 

 

"