লবণের কারণে উচ্চ রক্তচাপ

প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

অধ্যাপক আর কে খন্দকার

উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব ঘাতকব্যাধি। বাংলাদেশে এক-চতুর্থাংশ মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভোগে। হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি রোগ, পক্ষাঘাত, অন্ধত্বসহ নানাবিধ জটিল অসুখের জন্য উচ্চ রক্তচাপ একটা মারাত্মক রিস্ক ফ্যাক্টর বা ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান। উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো অধিক লবণ গ্রহণ। বিশ্বের যেসব জনগোষ্ঠী লবণ কম খায় তাদের শতকরা ৮০ ভাগের উচ্চ রক্তচাপ থাকে না। উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ অধিক লবণ গ্রহণের ফলে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হয়ে থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের শারীরিক অক্ষমতা এবং পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ স্ট্রোক এবং হৃদরোগ। উচ্চ রক্তচাপের কারণে শতকরা ৪৯ ভাগের করনারি হৃদরোগ এবং ৬৪ ভাগের স্ট্রোক হয়ে থাকে। লবণ কম গ্রহণ করলে রক্তচাপ কম হয় এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। দীর্ঘদিন ধরে লবণ কম গ্রহণ করলে তা বৃদ্ধ বয়সে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা প্রতিরোধে সহায়তা করে। চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর কাছ থেকে নিয়মিত রক্তচাপ মাপা প্রয়োজন। আসুন জেনে নিই কীভাবে লবণ কম গ্রহণ করা যায়।

একটু সদিচ্ছা থাকলেই অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ থেকে বিরত থাকা যায়। লবণ এবং সোডিয়াম কম গ্রহণের জন্য যা করণীয়Ñ

* খাবারের সঙ্গে আলগা (পাতে) লবণ খাবেন না।

* রান্না করার সময় খাবারে অল্প লবণ ব্যবহার করুন।

* ফাস্টফুড, রেস্টুরেন্ট ও ক্যান্টিনের খাবারে প্রচুর লবণ থাকে, এ জন্য এসব খাবার কম খাবেন।

* টিনজাত স্যুপ, সবজি, মাছ, প্রক্রিয়াজাত পনির এবং মাংস, হিমায়িত খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন।

* খাদ্যকে সংরক্ষণ করার জন্য লেবুর রস, ভিনেগার, কাঁচা রসুন, মসলা ব্যবহার করুন।

* খাদ্যকে সুস্বাদু করার জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন দ্রব্য যেমন কেচাপ, সয়াসস, সালাদ বানানোর উপকরণ কম ব্যবহার করুন।

* কাঁচা ফলমূল বা শাকসবজি খাওয়ার সময় লবণ দিয়ে খাবেন না।

* বাড়িতে একেবারে কম লবণ দিয়ে সস, কেচাপ, আচার, সালাদ বা অন্যান্য খাদ্য তৈরি করুন।

* শুঁটকি মাছ, আচারজাতীয় খাবার কম খান।

* লবণবিহীন ক্র্যাকার্স, পপকর্ন এবং বাদাম খান।

* খাদ্য নির্বাচনের আগে কম লবণ এবং সোডিয়াম কমসমৃদ্ধ খাবারগুলো নির্বাচন করুন।

* ঘরে-বাইরে উচ্চ লবণযুক্ত খাবার পরিহার করুন।

* আপনার সন্তানকে শৈশব থেকেই কম লবণযুক্ত খাদ্য খাওয়ানোর অভ্যাস করুন।

লেখক : চেয়ারম্যান, হাইপারটেনশন কমিটি

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ

 

"