ঠোঁটে ঘা

প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

ডা. দিদারুল আহসান

অনেকের মুখে প্রায়ই ঘা দেখা দেয়। মুখে ঘা যেমন ভিটামিনশূন্যতার কারণে দেখা দিতে পারে, তেমনি মুখ ও ঠোঁটে বিভিন্ন ভাইরাসের সংক্রমণেও হতে পারে। মুখে সাধারণত হারপিস ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে, যা হারপিস সিমপ্লেক্স ও হারপিস জোস্টার নামে পরিচিত। হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস প্রধানত লালা এবং শরীরের অন্যান্য নিঃসৃত রসের মাধ্যমে মুখে সংক্রমিত হয়ে থাকে। হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস দিয়ে প্রাথমিক সংক্রমণের ক্ষেত্রে মাড়ি ও ঠোঁটে ইনফেকশন দেখা দিতে পারে, যা জিনজাইভো স্টোমাটাইটিস নামে পরিচিত।

হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসের প্রাথমিক সংক্রমণের ক্ষেত্রে অধিকাংশ রোগী কোনো কষ্ট অনুভব করে না। রোগটি এমনিতেই ভালো হয়ে যায়, যা হারপিস ল্যাবিয়ালিস নামে পরিচিত। বারবার হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ঠোঁটে ফুস্কুরিসহ প্রদাহ দেখা দিতে পারে, যা সাধারণ মানুষের কাছে জ্বরঠোসা নামে পরিচিত। তবে সিফিলিসের কারণেও ঠোঁটে ঘা দেখা দিতে পারে।

ক্যানডিড অ্যালবিকানস (ফাঙ্গাস রোগ) সংক্রমণের ক্ষেত্রেও ঠোঁটে প্রদাহ দেখা দিতে পারে। যারা প্রাপ্ত বয়সে হারপেটিক সংক্রমণে আক্রান্ত হয়, দীর্ঘমেয়াদি আকারে হারপিস রোগ শরীরে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে এবং সেখান থেকে এনকেফালাইটিসের মতো মস্তিষ্কেও প্রদাহ হতে পারে। হারপিস ভ্যারিলিসা জোস্টার ভাইরাসের প্রাথমিক সংক্রমণের কারণে চিকেন-পক্স হয়।

চিকিৎসা : অ্যাসাইক্লোভির গোত্রভুক্ত ট্যাবলেট ভাইরাস (সাত থেকে ১৪ দিন) সংক্রমণের মাত্রা এবং ধরন অনুযায়ী খেতে হয়। তবে যারা দীর্ঘমেয়াদি হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসে আক্রান্ত তাদের ক্ষেত্রে ওষুধ অনেক সময় উপকারে নাও আসতে পারে। রোগীকে এ সময় প্রচুর পরিমাণে পানি পান করাতে হয়। সর্বোপরি মুখের অভ্যন্তর পরিষ্কার রাখতে হবে। এ জন্য ক্লোরোহিক্সিডিন মাউথওয়াশ ০.২% ব্যবহার করতে হবে দুই সপ্তাহ। গর্ভাবস্থায় ভাইরাস ট্যাবলেট সেবন করা যাবে না। তা ছাড়া দুগ্ধদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যাদের কিডনি সমস্যা আছে অথবা রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেশি থাকে, তাদের কোনো অবস্থায়ই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন করা ঠিক নয়। ঠোঁটের ঘা বা ক্ষতে অ্যাসাইক্লোভিন ক্রিম ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

লেখক : চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ

আল-রাজী হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা

 

 

"