কানে শোঁ শোঁ শব্দ

প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

অধ্যাপক ডা. এম আলমগীর চৌধুরী

কানে শোঁ শোঁ বা টিনিটাস হলো একটি লাতিন শব্দ, যার অর্থ হলো রিং। টিনিটাস কানের বা শরীরের অন্য কোনো রোগের উপসর্গমাত্র, যা রোগী তার নিজ কানে অনুভব করে। বাইরের কোনো কোলাহল ছাড়া নিজের কানে অস্বাভাবিক এক ধরনের শব্দ শোনাই হলো টিনিটাস।

এ শব্দটি নানা ধরনের হতে পারে। যেমন বাঁশির শব্দ, ঘণ্টার শব্দ, বাতাস প্রবাহের শব্দ, গুনগুন শব্দ অথবা সাপের ফোঁস ফোঁস শব্দ। এ ধরনের শব্দ সচরাচর এক কানে অনুভূত হয়, তবে দুই কানেও হতে পারে।

টিনিটাস তিন ধরনের হতে পারে। যেমনÑ

সাবজেকটিভ : বাইরের কোনো কোলাহল ছাড়া রোগী যখন কোনো অর্থহীন শব্দ শুনতে পায়। এ শব্দটির তীব্রতা নানা ধরনের হতে পারেÑ২৪ ঘণ্টা একটানা অথবা একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর। যেমন ঘণ্টার শব্দ, বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ অথবা গুনগুন শব্দ। এটি রোগীর ঘুমে অসুবিধা করে এবং রোগী মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারে না। দীর্ঘদিন টিনিটাসে ভুগলে রোগীর মধ্যে এক ধরনের হতাশা দেখা দেয়।

অবজেকটিভ : এক ধরনের অস্বাভাবিক শব্দ, যেটা রোগীর নিজের শরীর থেকে অনুভূত হয়। যেমন বাতাস প্রবাহের শব্দ। ঘূর্ণায়মান রক্তের প্রবাহ, মাথার মাংসপেশির সংকোচন, কানের ভেতর মাংসপেশির সংকোচন। অবজেকটিভ টিনিটাস চিকিৎসক স্টেথস্কোপের সাহায্যে শুনতে পান।

অডিট রিহ্যালুসিনেশন : অনেক সময় রোগী নির্দিষ্ট সময় পরপর কথা বলার শব্দ অথবা কোলাহল শুনতে পায়। যার বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। এটাই হলো অডিট রিহ্যালুসিনেশন। এটি সাধারণত ব্রেনের স্নায়ুকোষ থেকে উৎপন্ন হয়। এটি সাধারণত মানসিক রোগীর (সিজোফ্রেনিয়া) বেশি হয়ে থাকে; যেমন কথা বলার শব্দ, গানের শব্দ। কানের কিছু কিছু অপারেশন, যেমন টিমপেনোপ্লাস্টি, টিমপেনোটোমিতে টিনিটাস হতে পারে। কিছু কিছু ওষুধ কেটামিন, হেরোইন, মারিজুয়ানার কারণে হতে পারে।

কারণ : অটোলজিক বা কর্ণজনিত কারণ

বহিঃকর্ণ বা এংটার্নাল ইয়ার

কানের ময়লা বা খৈল

কেরাটোসিস অবটুর‌্যান্স

মধ্যকর্ণ বা মিডল ইয়ার

অটোস্ক্লেরোসিস

আটাইটিসমিডিয়া উইথ ইফিউশন বা মধ্যকর্ণে পানিজমা

টেমপোরোÑম্যান্ডিবুলারজয়েন্ট ডিজ অর্ডার।

অন্তঃকর্ণের রোগ

মিনিয়ার্স ডিজিজ

শব্দদূষণজনিত বধিরতা

অটোটক্সটি (কিছু ওষুধ যা কানের শ্রবণশক্তি হ্রাস করে বা কানে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হয়)

অন্তঃকর্ণের প্রদাহ।

নিউরোÑঅটোলজিক :

গ্লোমাস টিউমার

একসটিক নিউরোমা

৩. কানে আঘাতজনিত কারণ

৪. সাধারণ কারণ

উচ্চ রক্তচাপ

নিম্ন রক্তচাপ

হাইপোগ্লাইসেমিয়া

মাইগ্রেন

চিকিৎসা

প্রথমে রোগীকে বোঝাতে হবে এটা কোনো জীবনসংহারী সমস্যা নয়। রোগীকে সুন্দরভাবে রোগের বিস্তারিত জানাতে হবে এবং সব সময় চিন্তামুক্ত থাকতে বলতে হবে।

শোঁ শোঁ শব্দের কারণ বের করে সে অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হবে।

প্রয়োজনে কানে যন্ত্র ব্যবহার করতে হবে। যেমন হেয়ারিং এইড বা কানে শোনার যন্ত্র, টিনিটাস মাস্কার।

বালিশের পাশে অ্যালার্ম ঘড়ি অথবা বালিশের নিচে হালকা শব্দে রেডিও-মিউজিক ছেড়ে ঘুমাতে পারে। রোগীকে কাত হয়ে কানের নিচে হাত রেখে ঘুমাতে নিষেধ করতে হবে।

লেখক : অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইএনটি

আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

"