দুশ্চিন্তা করাও একটি রোগ

প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

ডা. মুনতাসীর মারুফ

দুশ্চিন্তা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জীবন চলার পথে নির্দিষ্ট মাত্রার দুশ্চিন্তারও প্রয়োজন বটে। কর্মক্ষেত্রে কিছুটা দুশ্চিন্তা না থাকলে কাজে উদ্যম থাকে না, লক্ষ্যপূরণের প্রস্তুতিও যথাযথ হয় না। যেমন : পরীক্ষা নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন বা চিন্তিত থাকাটা স্বাভাবিক। এ চিন্তাই পরীক্ষার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়ার মূল চালিকাশক্তি। পরীক্ষা নিয়ে যার কোনো ভাবনাই নেই, সে তো প্রস্তুতিই নেবে না ঠিকভাবে। কিন্তু পরীক্ষার এ ভাবনা যখন স্বাভাবিকতার সীমা অতিক্রম করে চরম দুর্ভাবনা আর অতিরিক্ত উদ্বেগে রূপ নেয়, তখন পরীক্ষার ব্যাপারটি হয়ে দাঁড়ায় ভীতিকর বিষয়ে। মানসিক চাপ বিপর্যস্ত করে তোলে পরীক্ষার্থীকে। সেটা উল্টো পরীক্ষার প্রস্তুতির পরিবর্তে হয়ে দাঁড়ায় নেতিবাচক। জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেই ব্যাপারটি একইভাবে সত্য। কোনো বিষয়ে দুশ্চিন্তা যখন স্বাভাবিকতার মাত্রা অতিক্রম করে ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবন বা দক্ষতাকে বাধাগ্রস্ত করে, তখন তা রোগের পর্যায়ে পড়ে।

উদ্বেগজনিত রোগ বা অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারে ব্যক্তির নানা শারীরিক ও মানসিক উপসর্গ দেখা দেয়। শারীরিক উপসর্গের মধ্যে যেমন : মাথা ঘোরানো, মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, জিহ্বা শুকিয়ে যাওয়া, গিলতে কষ্ট হওয়া, ঘাড়ে ব্যথা, শ্বাস নিতে কষ্ট, বুক ধড়ফড় করা, পেট ফাঁপা, বারবার প্রস্রাব হওয়া, বেশি ঘামা প্রভৃতি। মানসিক উপসর্গের মধ্যে অতিরিক্ত উদ্বেগের পাশাপাশি নেতিবাচক চিন্তা, ভুলে যাওয়া, অমনোযোগিতা, একই ভাবনার পুনরাবৃত্তি অন্যতম। দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগের ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াসহ নানা ক্ষতিকর রোগ হতে পারে।

যে কারণে অতিরিক্ত উদ্বেগ থেকে মুক্ত থাকতে হবে। উদ্বেগের কারণগুলো হয়তো পুরোপুরি সেরে ফেলা সম্ভব নয়; কিন্তু এর সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে উদ্বেগের ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে রাখার চেষ্টা করা যেতে পারে। এ জন্য প্রয়োজন রুটিনমাফিক শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন। প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম করুন। নিজের জন্য আলাদা কিছুটা সময় বরাদ্দ রাখুন। ভালো লাগা কোনো কাজ, যেমন : গান শোনা, বই পড়া, বাগান পরিচর্যায় সময় দিন। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী জীবনে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করুন, অবাস্তব লক্ষ্যের পেছনে ছোটা উদ্বেগ বাড়ায়। সব সময় অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করবেন না, সবকিছুতেই প্রতিযোগিতা করার প্রয়োজন নেই। দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক রাখুন। নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে শিখুন। ধূমপান ও মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকুন। দুশ্চিন্তার সময় রিল্যাক্সেশন বা শিথিলায়ন করতে পারেন। প্রয়োজনে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানীর সহায়তা নিন।

লেখক : মানসিক রোগবিশেষজ্ঞ

মনমিতা মানসিক হাসপাতাল

শ্যামলী, ঢাকা

"