এমএসএফের পরিসংখ্যান

রাখাইনে আগস্টের সহিংসতায় ৬৭০০ রোহিঙ্গা হত্যা

প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মিয়ানমারের রাখাইনে আগস্টে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর এক মাসে অন্তত ছয় হাজার ৭০০ রোহিঙ্গা হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মেডেসিনস স্যান্স ফ্রন্টিয়েরস (এমএসএফ)। বাংলাদেশে অবস্থানরত শরণার্থীদের ওপরে করা এক জরিপ শেষে এ তথ্য জানায় দাতা সংস্থাটি। সংস্থাটির দেওয়া এক বিবৃতির বরাত দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার এ খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত অভিযানে ৪০০ জনের প্রাণহানির দাবি করলেও এমএসএফ বলছে, এ সংখ্যা আরো অনেক বেশি। অভিযানের মুখে সীমান্তের দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে সমীক্ষা শেষে মানবাধিকার সংগঠনটির বক্তব্য, এটা এখন পর্যন্ত ‘মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ব্যাপকতর সহিংসতার স্পষ্ট নিদের্শন’ হিসেবেই দেখা যাচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান শুরুর পর এখন পর্যন্ত লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। অভিযানের কারণ হিসেবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী অভিযোগ তুলছে রোহিঙ্গাদের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলাকে। একই সঙ্গে তারা নিজেদের অপকর্মের অভিযোগও বরাবর অস্বীকার করে আসছে।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের পর প্রায় সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এমএসএফও বলছে, এ সংখ্যা ছয় লাখ ৪৭ হাজারেরও বেশি। মানবাধিকার সংগঠনটির সমীক্ষা অনুযায়ী, মিয়ানমার সেনাবাহিনী এখন পর্যন্ত সরাসরি ছয় হাজার ৭০০ রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে। আবার ২৫ আগস্ট থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র এক মাসেই সংঘাতের শিকার হয়ে মারা গেছে নয় হাজার রোহিঙ্গা, যার মধ্যে ৭৩০ জন ছিল পাঁচ বছরেরও কম বয়সী শিশু।

এমএসএফের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যে ছয় হাজার ৭০০ জনকে সরাসরি হত্যা করা হয়েছে, তাদের ৬৯ শতাংশেরই প্রাণ গেছে গুলিতে। ৯ শতাংশকে মারা হয়েছে তাদের ঘরে অগ্নিসংযোগ করে জীবন্ত পুড়িয়ে, ৫ শতাংশকে মারা হয়েছে পিটিয়ে। বাকিদেরও মারা হয়েছে নানা নৃশংস কায়দায়। আর যে শিশুদের হত্যা করা হয়েছে, তাদেরও ৫৯ শতাংশকে মারা হয়েছে গুলি করে, ১৫ শতাংশকে পুড়িয়ে এবং ৭ শতাংশকে মারা হয়েছে পিটিয়ে।

এমএসএফের মেডিক্যাল ডিরেক্টর সিডনি ওং বলেন, ‘সমীক্ষা চালিয়ে আমরা যা পেয়েছি তা পুরোপুরি হতভম্ভ করে দেওয়ার মতো, সেটা সহিংসতার কারণে মৃত্যু হোক অথবা নৃশংস কায়দায় হত্যা ও জখমের ঘটনা হোক।’

এ মানবাধিকার নেতা বলেন, যেহেতু বাংলাদেশের সব শরণার্থী স্থাপনায় যাওয়া যায়নি, তাই এ পরিসংখ্যান ‘অপূর্ণাঙ্গ’ হতে পারে। তাছাড়া অনেক নিপীড়িত বা স্বজন হারানো পরিবারই মিয়ানমারের বাইরে তাদের ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য দিতে পারেনি।

এই সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে অভিযান শিথিল করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। বিশ্ববাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে নভেম্বরে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিও করে মিয়ানমার সরকার। কিন্তু আতঙ্কিত রোহিঙ্গারা এখনো বাংলাদেশ অভিমুখে যাচ্ছে বলে এটিকে অনেক বেশি ‘তাড়াহুড়ো করে সম্পাদিত অপূর্ণাঙ্গ’ (প্রিম্যাচিউর) চুক্তি বলছে এমএসএফ।

"