প্রবীণদের বয়সসীমা ৬৫ বছর করা প্রয়োজন : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। তাই প্রবীণদের বয়সসীমা ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ বছর করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গতকাল সোমবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সিনিয়র সিটিজেন মেডিক্যাল রিসোর্ট ‘অবসরÑআমার আনন্দ ভুবন’-এর দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামাল, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ প্রমুখ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, যেহেতু আমাদের গড় আয়ু বেড়েছে। প্রবীণ হওয়ার বয়স ৬৫ বছরে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নিতে হবে। বর্তমান সরকারের আরো এক বছর সময় আছে। এ বিষয়ে উদ্যোগ নিলে বিবেচনা করা হবে।

নবীনদের অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনারা প্রবীণদের একটু আনন্দ দেবেন। যাতে তারা আনন্দে বেঁচে থাকেন।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামালও প্রবীণদের বয়স ৬০ থেকে বাড়ানোর পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, আমাদের অর্থমন্ত্রীর বয়স ৮০ বছর পার হওয়ার পর তিনি সুন্দর বাজেট করছেন। আমার আশা, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন তিনি বাজেট দেবেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশে পুরুষের গড় আয়ু ৭০ বছর এবং নারীদের ৭২ বছর, যা কখনো কখনো ৮০ থেকে ৯০ বছরও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। দেশে বর্তমানে ষাটোর্ধ্ব প্রবীণদের সংখ্যা দেড় কোটিও বেশি, যা মোট জনসখ্যার ৭ শতাংশ। বছরে প্রবীণ বৃদ্ধি পাচ্ছে ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। এ বৃদ্ধিহার জন্মহারের চেয়ে বেশি।

এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০৩০ সালে ষাটোর্ধ্ব প্রবীণদের সংখ্যা দাঁড়াবে সোয়া দুই কোটি এবং ২০৩০ সালে হবে চার কোটি। এ জন্য প্রবীণদের পুনর্বাসন প্রয়োজন। আর এ বিষয়টি মাথায় রেখে সিনিয়র সিটিজেন মেডিক্যাল রিসোর্ট ‘অবসরÑআমার আনন্দ ভুবন’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সমাজসেবা অধিদফতর যৌথ উদ্যোগে দেশে প্রথমবারের মতো প্রবীণদের জন্য মেডিক্যাল রিসোর্ট তৈরি হবে।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এ রিসোর্ট নির্মাণ করা হবে। যেখানে ১০০ নিরাপদ আবাসন ও ৫০ শয্যাবিশিষ্ট একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল, খোলা মাঠ, জলরাশি ও সবুজের সমারোহ থাকবে। অনুষ্ঠানে ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্তী ও সমাজসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী মোহাম্মদ নুরুল কবির নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

"