বিজয়ের ধারাবাহিকতা চায় আ.লীগ, কৌশলী বিএনপি

প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি

নড়াইল সদর উপজেলার একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন এবং লোহাগড়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে নড়াইল-২ আসন। ভোটার সংখ্যা তিন লাখ সাত হাজার ৩৫০। দক্ষিণাঞ্চলের এই আসনটি আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত। মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে বর্তমানে ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি এমপি রয়েছেন শেখ হাফিজুর রহমান। আওয়ামী লীগ মনে করছে, এবারও আসনটি তাদের আয়ত্তেই থাকবে। বিজয়ের ধারা ধরে রাখতে চায় দলটি। অপরদিকে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি চাইছে যেকোনো কৌশলে এ আসনটি তাদের দখলে নিতে। সভা-সমাবেশে বিএনপিকে মাঠে তেমন দেখা যাচ্ছে না, তবে নীরবে কাজ করে চলেছেন তাদের নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগ নিয়ে দাঁড়াতে চাইছে তারা। কারণ জেলা আওয়ামী লীগ ও লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যেই দুভাগে বিভক্ত। বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকার উন্নয়নে তারা সংসদ

সদস্য হিসেবে নতুন মুখ বা নতুন নেতৃত্ব দেখতে চান। এ আসনের বেশিরভাগ সংসদ সদস্যই নিজের আখের গোছানোসহ দলীয় গ্রুপিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। তাই নতুন মুখ বা ক্লিন ইমেজের নেতার প্রতি রয়েছে বেশি চাহিদা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এস এম আসিফুর রহমান বাপ্পী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ আইয়ুব আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরীফ মনিরুজ্জামান মনির, শিক্ষানুরাগী শিল্পপতি শেখ মো. আমিনুর রহমান হিমু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বাসুদেব ব্যানার্জী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বর্তমানে সদর পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাবিবুর রহমান তাপস, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাবেক উপকমিটির সহসম্পাদক মো. রাশিদুল বাসার ডলার, অ্যাডভোকেট সাঈফ হাফিজুর রহমান খোকন, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ আলী, লে. কর্নেল (অব.) সৈয়দ হাসান ইকবাল ও শরীফ হুমায়ুন কবীর।

অপরদিকে বিএনপির মনোনায়ন প্রত্যাশা করছেন সাবেক এমপি শরীফ খসরুজ্জামান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের সিকদার, জুলফিকার আলী মন্ডল, মো. মনিরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন সিকদার ও মেজর (অব.) মঞ্জুরুল ইসলাম প্রিন্স। এ ছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি বর্তমান এমপি শেখ হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, জেলা জাসদের (আম্বিয়া) সভাপতি অ্যাডভোকেট হেমায়েতুল্লাহ হিরু, জাসদের (ইনু) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম, জেলা জাতীয় পার্টির (এ) নেতা শরীফ মুনীর হোসেন এবং বাংলাদেশ পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ মনোনয়নপ্রত্যাশী।

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এস এম আসিফুর রহমান বাপ্পী। তার বাবা বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ মো. আতিয়ুর রহমান ও মা সাবেক এমপি ফরিদা রহমানের পরিচিতিতেই এলাকায় বেশি পরিচিতি লাভ করেছেন। অ্যাডভোকেট সৈয়দ আইয়ুব আলী সদ্য সমাপ্ত জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন এনে ব্যাপক আলোচনায় আসেন।

বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরীফ মনিরুজ্জামান মনির ১৯৯০ সালে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অগ্রণী সৈনিক ছিলেন তিনি। অন্যতম মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক কুমড়ি গ্রামের মরহুম শরীফ আবদুস ছালামের ছেলে মনিরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন। শিক্ষানুরাগী শেখ মো. আমিনুর রহমান হিমু আগামী দুই বছরের মধ্যে নড়াইলকে বেকারমুক্ত করাসহ মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বাসুদেব ব্যানার্জী বলেছেন, তিনি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান করে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করছেন। তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে হাবিবুর রহমান তাপস যুবকদের কাছে অনেকটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।

"