মনোনয়ন চান প্রবাসী ও তরুণরা

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

ওমর ফারুক নাঈম, মৌলভীবাজার

চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারে আগেভাগেই বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জমজমাট আলোচনা চলছে চা-বাগান, হাওর ও পাহাড়ের পর্যটন এলাকায়। বড় বড় দলের মনোনয়ন নিতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন অনেকে। সেখানে পুরনোদের সঙ্গে আছেন নতুন মুখ, আছেন প্রবাসীরাও। প্রবাসী-অধ্যুষিত এ জেলায় রয়েছে চারটি সংসদীয় আসন। চার আসনেই আওয়ামী লীগ-বিএনপির পাশাপাশি থাকবেন জাতীয় পার্টির একাধিক প্রার্থী। থাকবেন স্বতন্ত্র প্রার্থীও। অনেকেই ধরনা দিচ্ছেন কেন্দ্রের সিনিয়র নেতাদের কাছে। রাখছেন সুসম্পর্ক। রমজানে, ঈদ কিংবা যেকোন দিবসে সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় গণযোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। অনেকে বন্যাদুর্গতের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের মাধ্যমে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। এবার মৌলভীবাজারে উভয় দলেই তরুণ ও প্রবাসী প্রার্থীদের তৎপরতা চোখে পড়ছে বেশি।

মৌলভীবাজার-১ (জুড়ী-বড়লেখা) : এ আসনে প্রচারণায় এগিয়ে আছেন ক্ষমতাসীন দলের বর্তমান এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ মো. শাহাবউদ্দিন। বিএনপি থেকে প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন, দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবাদুর রহমান চৌধুরী, জুড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাসের উদ্দীন আহমেদ মিটু ও যুবদলের সাবেক আন্তর্জাতিক-বিষয়ক সম্পাদক প্রবাসী শরিফুল হক সাজু। জাতীয় পার্টি থেকে বড়লেখা উপজেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট আফজল হোসেন, জুড়ী উপজেলা সভাপতি মাহবুবুল আলম শামীম ও আহমদ রিয়াজ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানা গেছে।

মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) : এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান এমপি আবদুল মতিন, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, পুলিশের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সৈয়দ বজলুল করিম নির্বাচনী আলোচনায় রয়েছেন। এ ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আতাউর রহমান শামীম, ডা. রুকন উদ্দিন আহমদ, আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান আ স ম কামরুল ইসলাম, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, লন্ডন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক কামাল হাসান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনুও নির্বাচনী প্রচারণার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি থেকে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে এ আসনে ২০-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) থেকে নবাব আলী আব্বাস খান, সাবেক এমপি (সংস্কারপন্থি) এম এম শাহীনও মনোনয়ন আলোচনায় রয়েছেন। আর জাতীয় পার্টি থেকে মুহিবুল কাদের পিন্টু ও জাতীয় পার্টির জেলা সহসভাপতি লুৎফুল হকও মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) : এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান এমপি সৈয়দা সায়রা মহসীন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শিল্পপতি এম এ রহিম (সিআইপি), পৌর মেয়র ফজলুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত পুরকায়স্থ, চেম্বার সভাপতি কামাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান বাবুল ও সাবেক ছাত্রনেতা আবদুল মালিক তরফদার শোয়েবও মনোনয়ন চাইতে পারেন। বিএনপি থেকে সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত এম সাইফুর রহমানের ছেলে সাবেক এমপি এম নাসের রহমান এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানও মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে জানা গেছে। জাতীয় পার্টি থেকে জেলা সভাপতি সৈয়দ শাহাবউদ্দিন আহমদ ও জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নূরুল হকও মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) : এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান এমপি সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক রফিকুর রহমানও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে তৎপর রয়েছেন। বিএনপি থেকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান (সোনা মুজিব) ও পৌর মেয়র মহসীন মিয়া মধুও অনেকটা তৎপর। জাতীয় পার্টি থেকে জেলা সহসভাপতি মো. আছলাম মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেনও মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের ৪টি আসনে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের টিকিট পেতে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করছেন। প্রত্যেকে নিজের গুরুত্ব ও জনসমর্থন দেখাতে দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি নানা সামাজিক কর্মসূচির আয়োজন করছেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস, তালামীযসহ বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক দলের নেতারা নির্বাচনে অংশ নিতে প্রচারণা শুরু করেছেন।

"