নূর চৌধুরীকে ফেরত দিতে কানাডার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত এএইচএমবি নূর চৌধুরীকে ফেরত দিতে কানাডা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার বিনোয়েত পিয়েরে লারামি গতকাল রোববার শেখ হাসিনার সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে গেলে তার মাধ্যমে এই আহ্বান জানান বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

পঁচাত্তরের পর পালিয়ে যাওয়া নূর চৌধুরী কানাডার টরন্টোতে রয়েছেন। সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে ফাঁসিতে ঝুলতে ফেরত পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল মৃতু?্যদ-বিরোধী কানাডা। তবে গত বছর শেখ হাসিনা কানাডা সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে নূর চৌধুরীকে ফেরতের বিষয়ে আলোচনা করেন। সেই সময় এ বিষয়ে অটোয়ার সুর নরম হয়। কোন প্রক্রিয়ায় নূর চৌধুরীকে ফেরত পাঠানো হবে, তা খুঁজতে একমত হয় কানাডা সরকার।

ইহসানুল করিম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কানাডার হাইকমিশনারকে বলেছেন, একজন খুনি কানাডায় আছে- নূর চৌধুরী, তাকে ফেরত পাঠান। জবাবে কানাডার রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ পৌঁছে দেবেন।’

নূর চৌধুরী ছাড়া বাংলাদেশের জাতির জনক হত্যাকান্ডে মৃত্যুদন্ডের রায় নিয়ে বিদেশে পালিয়ে আছেন আরো পাঁচজন। তারা হলেন আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এম রাশেদ চৌধুরী, আব্দুল মাজেদ এবং রিসালদার মোসলেম উদ্দিন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে ৫ জনের ফাঁসি ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি কার্যকর হয়। তারা হলেন সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মুহিউদ্দিন আহমদ (আর্টিলারি), বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন (ল্যান্সার)। এছাড়া পলাতক আজিজ পাশা ২০০১ সালে জিম্বাবুয়েতে মারা যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কানাডার বিদায়ী হাইকমিশনারের সাক্ষাতে বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, ‘তারা সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়।’ এ সময় স্বচ্ছ ভোটবাক্স চালুসহ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং অবদানের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর ২১ বছর দেশে গণতন্ত্র ছিল না। তার সরকারই মানুষের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ইহসানুল করিম বলেন, ‘গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ না করা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা একটা কোয়ালিশন সরকার গঠন করার কথা বলেছিলাম। বিএনপিকে বলেছিলাম, তারা যে মন্ত্রণালয় চায়, তা দেওয়া হবে।’ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে প্রধানমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কানাডার হাইকমিশনার। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন তিনি। দুই দেশের সম্পর্ক আরো জোরদার হচ্ছে মন্তব্য করে হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

"