সুদৃঢ় অবস্থানে আওয়ামী লীগ প্রতিপক্ষের প্রার্থীও হেভিওয়েট

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

জুয়েল রানা লিটন/আবু বকর সিদ্দিক পাভেল, নোয়াখালী

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নোয়াখালী-৫ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দলীয় প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত। এখানে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করবেন দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অপরদিকে বিএনপি থেকে নির্বাচন করবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। বড় দুই দলের দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর নির্বাচন করাটা নিশ্চিত।

অন্যদিকে, জাতীয় পার্টি এবং জাসদ থেকেও প্রার্থী হতে পারে বলে জানা গেছে। সূত্র মতে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের একক প্রার্থী- এটা নিশ্চিত হলেও সাবেক আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে দলের অপর আগ্রহী প্রার্থী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফখরুল ইসলাম ফারুকের সঙ্গে সমঝোতা করে আসতে হবে। ইতোমধ্যে ফখরুল ইসলাম ফারুক নানা রকম কর্মকা- দিয়ে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের একটি অংশের মন জয় করে নিয়েছেন।

এদিকে, ওবায়দুল কাদেরের এখনো নির্বাচনী লড়াইয়ের মাঠে রয়েছে খুবই শক্ত অবস্থান। প্রথমত, তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নেই। দ্বিতীয়ত, দল ক্ষমতায় থাকার সুবাদে সারা দেশের মতো নোয়াখালী-৫ আসনেও তিনি ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকা- করেছেন। তৃতীয়ত, সাংগঠনিকভাবে নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট) বেশ গোছালো। এছাড়া ওবায়দুল কাদের ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক যোগ্যতা, সততা, কাজ করার আগ্রহ, সাংগঠনিক দক্ষতা- সব মিলিয়ে আজকের এই শক্ত অবস্থানে এসেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দলীয় কোন্দল, দীর্ঘদিন দল ক্ষমতার বাইরে থাকা, প্রতিপক্ষ হিসেবে ফখরুল ইসলাম ফারুকের আবির্ভাব- সবকিছু মিলিয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মাঠের রাজনীতিতে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন না জেলা বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং হেভিওয়েট নেতা-কর্মীরা।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে শুধু কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট নয়, ওবায়দুল কাদেরের নোয়াখালীর ৬টি নির্বাচনী আসনেই বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মতে, নোয়াখালী-৫ আসনে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে এত শক্ত অবস্থানে আসার পেছনে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপি, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল। ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশনায় তার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এই তিন নেতা দিন-রাত কাজ করে দলকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। অন্যদিকে, কোম্পানীগঞ্জের উপকূলীয় এলাকায় নদীভাঙন রোধে ১৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মুসাপুর ক্লোজার প্রকল্প বাস্তবায়ন, ৩২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নোয়াখালী জেলার জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ২৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সোনাপুর-সোনাগাজী-জোরারগঞ্জ সড়ক ও সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নসহ বড় বড় কাজের পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মন্দির, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নমূলক কাজ করায় ওবায়দুল কাদের এই আসনে নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য এক উচ্চতায়। এছাড়া পদ্মা বহুমুখী সেতু, মেট্রোরেল, ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোর লেন সড়কের মতো বড় বড় প্রকল্প ওবায়দুল কাদেরের হাত ধরেই বাস্তবায়িত হওয়ায় সাধারণ মানুষ মনে করে, এলাকার উন্নয়নে তিনিই উপযুক্ত। ফলে ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষের কাছে হয়ে উঠেছেন জনপ্রিয়। সাধারণ মানুষের মতে, ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিরোধী দলের ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছিল, তা কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাটের মানুষ এখনো ভুলে যায়নি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের ওপর প্রতিশোধ না নিয়ে তাদেরকে নির্বিঘেœ রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। এই আসনে এখন চলছে সহাবস্থানের রাজনীতি। ওবায়দুল কাদেরের মতে, ‘কেউ অধম হলে আমি উত্তম হবো না কেন।’ এই নীতি অবলম্বন করে ওবায়দুল কাদের এবং তার দলের নেতা-কর্মীরা মাঠে রাজনীতি করায় এই আসনে বিরাজ করছে শান্তির সুবাতাস। এ কারণে সাধারণ মানুষ ওবায়দুল কাদেরের ওপর আস্থা রাখছে। তাদের মতে, ওবায়দুল কাদের প্রার্থী হলে এবং নির্বাচনে জয়লাভ করলে সাধারণ মানুষ শান্তিতে থাকতে পারবে।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে আরো সংগঠিত করার জন্য ওবায়দুল কাদের নিজে এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন। দলীয় নেতা-কর্মীরা ইতোমধ্যে কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাটের প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে প্রচারণার মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের চিত্র তুলে ধরছেন। ওবায়দুল কাদেরের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা সংগঠনকে গুছিয়ে নির্বাচনমুখী করতে দিন-রাত কাজ করছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপি জানান, দলীয় কোন্দলমুক্ত ওবায়দুল কাদেরের নোয়াখালীতে তার নির্দেশনায় তার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নেতা-কর্মীরা দিন-রাত কাজ করে দলকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছেন।

"