আগুনে চার ঘণ্টা অচল ছিল শাহজালাল বিমানবন্দর

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

শাহজালাল বিমানবন্দরের মূল ভবনের তৃতীয় তলায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণ আনতে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করে। দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভাতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। তবে আগুনে কেউ হতাহত হননি। এদিকে, অগ্নিকান্ডের ঘটনায় তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

অগ্নিকান্ডের ঘটনায় বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট স্থগিত করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিমানবন্দরে সব ধরনের দাফতরিক কার্যক্রমও বন্ধ ছিল। যাত্রী ও কর্মকর্তাদের পরে নিরাপদে বের করে আনা হয়। প্রায় চার ঘণ্টা বিমানবন্দরের সার্বিক কার্যক্রম স্থবির ছিল। আগুন ও প্রচন্ড ধোঁয়ার কারণেই এমনটা হয়েছে। এদিকে, শাহজালাল বিমানবন্দরের অনুসন্ধান বিভাগ থেকে জানানো হয়, বেলা ২টায় নোভোএয়ারের কক্সবাজারগামী একটি ফ্লাইট শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে গেছে। এরপর আর কোনো ফ্লাইট ছেড়ে যায়নি। এরপর গতকাল বিকেল ৫টা থেকে বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরে। অগ্নিকা-ের সময় বিমানবন্দরের বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িক বিচ্ছিন্ন রাখা হয়।

ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার পলাশ চন্দ্র মোদক জানান, শুক্রবার বেলা ১টা ৩৭ মিনিটের দিকে বিমানবন্দরের মূল ভবনের তৃতীয় তলায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে উত্তরা, কুর্মিটোলা, সদর দফতর ও টঙ্গী ফায়ার স্টেশন থেকে ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

অপরদিকে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ কর্মকর্তা কে এম রেজাউল করিম বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় যাত্রী ও স্বজনদের বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষমাণ রাখা হয়। আগুনে কেউ হতাহত হয়নি। এ ঘটনায় ফ্লাইট শিডিউলেরও কোনো বিঘœ হয়নি। তৃতীয় তলায় অবস্থিত কোনো একটি এয়ারলাইন্সের অফিস থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলেও জানান তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকান্ডে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।

তবে অপর একটি সূত্র জানায়, এয়ার ইন্ডিয়ার অফিস থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এ সময় বিমানবন্দর এলাকা ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করতে থাকেন। আগুন লাগার পরপরই বিমানবন্দরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। জোরদার করা হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এ সময় বিভিন্ন ফ্লোরের অধিকাংশ কর্মী বাইরে বেরিয়ে আসেন। বন্ধ করে দেওয়া হয় বহির্গমনের কার্যক্রম।

এদিকে, অগ্নিকান্ডের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঢাকা বিভাগের ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক (ডিডি) দেবাশীষ বর্মণকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন, সহকারী পরিচালক মামুন মাহমুদ ও সিনিয়র স্টেশন অফিসার (কুর্মিটোলা) আবদুল মান্নান। কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং এতে বিমানবন্দরে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

"