সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী

মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের সর্ববৃহৎ প্রকল্প

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প এবং বিনিয়োগের দিক থেকে সর্ববৃহৎ প্রকল্প। এই প্রকল্পে জাপান বিনিয়োগ করেছে, এটা ইতিবাচক। কারণ, ১৯৬১ সাল থেকে দেশটি এখানে বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে। এছাড়া সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান জিরো টলার‌্যান্স বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। মুহিত বলেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।

রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসনের ‘অন্তরা’ হলে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জাপানি প্রতিষ্ঠান জাইকার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক-পরবর্তী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশে এ যাবৎ সর্ববৃহৎ প্রকল্পগুলোর মধ্যে দেশের একমাত্র মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অন্যতম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, বিদ্যুৎ, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম এমপি, এসডিজির সমন্বয়ক (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) আবুল কালাম আজাদ, মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রকল্প পরিচালকসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এছাড়া জাইকার পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত এবং জাইকার প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা সমঝোতা স্মারক-পরবর্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, দেশের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ। সবগুলোই গ্যাসভিত্তিক। তবে মাতারবাড়ী প্রথম কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এটাই দেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগের প্রথম কোনো প্রকল্প, যেখানে অর্থায়ন করেছে জাপান সরকার। এই প্রকল্পের সূচনা হওয়ার মধ্য দিয়ে সরকার আগামীতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প থেকে আস্তে আস্তে সরে আসবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়ী-মহেশখালী ছিল লবণ চাষভিত্তিক একটি এলাকা। সেই বিবেচনায় এটি অনন্য ও ব্যতিক্রমী প্রকল্প।

সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় সরকারের অবস্থান তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান সম্পূর্ণভাবে জিরো টলার‌্যান্স। সন্ত্রাসবাদ কার্যক্রমকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তোফিক-ই-ইলাহী বলেন, জাপানি অর্থায়নের সবচেয়ে বড় প্রকল্প মাতারবাড়ী, যা ভবিষ্যতে দেশে উদাহরণ হয়ে থাকবে। এই বিদ্যুকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে নির্মাণ হবে বিনোদনকেন্দ্র এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকা-।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পের দরপত্রে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নিয়েছিল। কিন্তু প্রথমে সংশয় ছিল, এত বড় প্রকল্প সামলাতে পারব কিনা। তবে মাতারবাড়ী প্রকল্প করায় যারা জমি ও সম্পদ দিয়ে সহায়তা করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ রয়েছে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার। এখন আমাদেরকে তাদের দিকেই নজর দিতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প মাতারবাড়ী, যার বিনিয়োগের পরিমাণ ৬ বিলিয়ন ডলার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম এমপি বলেন, ‘মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কাজকে শুরু করার জন্য বিভিন্ন সময় স্টেকহোল্ডার এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করেছি। জায়গার জন্য সংগ্রাম করেছি। চূড়ান্তভাবে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এখন বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হচ্ছি। এই প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ছিল। আজ বাস্তবায়নের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল।’

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি শক্তিশালী সেক্টর। আমাদের লক্ষ্য উন্নত রাষ্ট্রে উন্নীত করা। কারণ, উন্নত বিশ্বের অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র কয়লাভিত্তিক; শুধু বাইরে ছিল বাংলাদেশ। মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশও আন্তর্জাতিক বিশ্বের কাতারে পৌঁছে গেল।’

সংসদীয় কমিটির সভাপতি বলেন, ‘সন্ত্রাস কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী আলোচিত বিষয়। আমাদের এখানে গুলশানের হলি আর্টিজান এবং শোলাকিয়াও সন্ত্রাসী আক্রমণের শিকার হয়েছিল। কিন্তু সরকার ভালোভাবে সেটা মোকাবেলা করেছে। এই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দেশের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা ছিল।’

সরকারের বিভিন্ন কর্মকা-ের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘এখন বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে দেশে। বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। জাপান বাংলাদেশের পরম বন্ধু। তাই তাদের অনুরোধ করব, আপনারা এখানে বিনিয়োগ করুন।’

জাপানি ও বাংলাদেশি নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান সম্পর্কে তাজুল ইসলাম এমপি বলেন, জাপানের মানুষ খুবই পরিশ্রমী। এখানকার মানুষও জাপানকে অনুসরণ করে কর্মঠ হয়ে উঠছে। এছাড়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান সফর করেন। তখন থেকেই জাপান সরকার এখানে বিনিয়োগ করে আসছে।

এসডিজির সমন্বয়ক (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) আবুল কালাম আজাদ বলেন, সিঙ্গাপুরের আদলেই হবে মাতারবাড়ী বিদ্যুকেন্দ্র।

"