১৯ হজ ফ্লাইট বাতিল, রাজস্ব ক্ষতি ৪০ কোটি টাকা

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভিসা জটিলতার কারণে যাত্রী না পেয়ে ১৯ হজ ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। আর এতে ৪০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসাদ্দেক আহমেদ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল বুধবার বিমানের বলাকা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এ পরিস্থিতির যে অবসান হবে, সেই জায়গাটায় আমরা এখনো যেতে পারছি না।’ এ জন্য সরাসরি কাউকে দায়ী না করলেও বাড়িভাড়া করার ক্ষেত্রে হজ এজেন্সিগুলোর সমন্বয়হীনতার কথা বলেছেন বিমানের এমডি। এ সংকট কাটিয়ে হজযাত্রীদের সবাইকে সৌদি আরবে পাঠানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে বিভিন্ন সূত্র প্রতিদিনের সংবাদকে জানায়, হজযাত্রীদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তা বেড়ে চলেছে। ই-ভিসা জটিলতা, ফ্লাইট বিপর্যয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতা,

মধ্যস্বত্বভোগীর প্রতারণা ও এক শ্রেণির মুনাফালোভী হজ এজেন্টদের পাকচক্রে হজযাত্রীরা দুঃসহ সময় পার করছেন। এ সংকট ও ভোগান্তির জন্য হজ এজেন্সি ও ধর্ম মন্ত্রণালয় পরস্পরকে দুষছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, হজের মতো ধর্মীয় পবিত্রতা নিয়েও রাঘববোয়ালদের ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে বেপরোয়া। হজ নিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। তাদের অনুগত হজ এজেন্টদের কাছে নিবন্ধিত হজযাত্রীরা আছেন স্বস্তিতে। অন্য হজযাত্রীদের অবস্থা করুণ।

এখনো ৪৮ হাজার হজযাত্রীর ভিসা হয়নি। আর নয় দিন পর সৌদি সরকার ভিসা দেবে না। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ২৮টি এজেন্সি পাঁচ হাজার ১১৭ হজযাত্রীর ভিসার আবেদনই জমা দেয়নি। হজের শেষ ফ্লাইট যাবে ২৬ আগস্ট। প্রায় প্রতিদিনই যাত্রীর অভাবে বাতিল হচ্ছে শিডিউল ফ্লাইট। ই-ভিসা জটিলতার কারণে টিকিট কনফার্ম থাকার পরও যাত্রীরা বিমানে উঠতে পারছেন না। ই-ভিসার প্রিন্ট নিতে গিয়ে সার্ভার ও যান্ত্রিক ত্রুটিতে আটকা পড়ছেন যাত্রীরা। ইতোমধ্যে বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত জটিলতা নিরসন না হলে কমপক্ষে ৪০ হাজার যাত্রীর হজ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। আর হজ এজেন্টদের সংগঠন হাব নেতারা কেউ কেউ বলছেন, ১০ হাজার হজযাত্রীর হজযাত্রা অনিশ্চিত হতে পারে।

সৌদি সরকারের কোটা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে এবার এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যাওয়ার কথা। কিন্তু ভিসা জটিলতা, সৌদি আরবে মোয়াল্লেম ফি বৃদ্ধি ও টানা দ্বিতীয়বারের হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে ভিসা ফি বৃদ্ধির ফলে এবারের হজযাত্রায় জটিলতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। বাতিল ১৯টি হজ ফ্লাইটের বাইরে হজযাত্রী পরিবহনের দায়িত্বে থাকা সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসেরও চারটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

বিমানের এমডি ও সিইও মোসাদ্দেক আহমেদ গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘হজযাত্রী পরিবহনে আমরা লাভ-লোকসান হিসাব করি না। এখানে ৪০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। এটাকে লোকসান বলব না, কারণ এ আয় থেকে আমাদের খরচও হতো।’ চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এবার ৩০ আগস্ট হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে। সৌদি সরকার ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ভিসা দেবে আর হজের শেষ ফ্লাইট যাবে ২৬ আগস্ট। গত ২৪ জুলাই ফ্লাইট শুরুর পর ১৬ দিনে ৭০টি ফ্লাইটে ৪০ হাজারের মতো হজযাত্রীকে সৌদি আরব পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে বিমান ২৪ হাজার ১১৫ জনকে জেদ্দা নিয়ে গেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে ৫২ হাজার হজযাত্রীর ভিসা করিয়ে সব আনুষ্ঠানিকতা সেরে তাদের জন্য ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার বিষয়টিকে ‘বেশ কঠিন’ বলেই মনে করছেন মোসাদ্দেক আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘এটা খুব চ্যালেঞ্জিং একটা সিচুয়েশন। সিচুয়েশনটা ইমপ্রুভ করা দরকার। আমরা এর মধ্যে হজযাত্রী পরিবহনের জন্য ১৪টি সøটের আবেদন করেছিলাম। যার মধ্যে সাতটি আমরা ব্যবহার করতে পারব।’ বিমানের এত বেশি ফ্লাইট বাতিল হলেও সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসের ক্ষেত্রে ততটা সমস্যা না হওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মোসাদ্দেক বলেন, ‘সৌদিয়ার কোনো হজ ফ্লাইট নেই। সেখানে শিডিউলড ফ্লাইটে যাত্রীরা যাতায়াত করছে। কিন্তু বিমানের যেগুলো বাতিল হয়েছে সব হজ ফ্লাইট। যাত্রী না থাকর কারণে সেগুলো বাতিল হয়েছে।’

"