মনোনয়নপ্রত্যাশীদের পদচারণে মুখর নওগাঁ

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

সবুজ হোসেন, নওগাঁ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নওগাঁ-১ (সাপাহার-পোরশা-নিয়ামতপুর) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পদচারণায় নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। মানুষের মুখে মুখে আলোচিত নির্বাচন ও প্রার্থীদের বিষয়।

এখন নির্বাচনী মাঠ দখল এবং মনোনয়ন নিশ্চিত করতে এলাকায় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। এই আসনে বড় দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নাম শোনা যাচ্ছে। ভোট আসতে এখনো প্রায় এক বছর ছয় মাস বাকি থাকলেও থেমে নেই বড় দুই রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর প্রচার প্রচারণা। দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙা রাখতে তৎপর হয়ে উঠেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। আসনটি আওয়ামী লীগের ধরে রাখা আর বিএনপির পুনরুদ্ধার নির্ভর করছে প্রার্থী নির্বাচনের ওপর।

জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-১ (সাপাহার-পোরশা-নিয়ামতপুর) আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, বর্তমান জাতীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাধন চন্দ্র মজুমদার, পোরশা আওয়ামী লীগের সভাপতি এনামুল হক, সাপাহার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শামছুল আলম শাহ চৌধুরী।

বিএনপি থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহসম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন পাইন, নিয়ামতপুর থানা বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক এমপি ডা. ছালেক চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম, সাপাহার উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুন নুর, পোরশা উপজেলা বিএনপির সাবেক সম্পাদক মাসুদ রানা, জেলা বিএনপির সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, জাতীয় পার্টি থেকে পোরশা উপজেলা সভাপতি আকবর আলী কালু। এ ছাড়া বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর মঙ্গল কিসকু এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির আবু হেনা মোস্তফা কামাল চৌধুরী।

দেশের বড় দুটি দলের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য মাঠ পর্যায়ে নিরলসভাবে কর্মীসভা, গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে জাতীয় পার্টি, বাসদ এখনো মাঠে নামেনি।

গত ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী তিন বার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ডা. ছালেক চৌধুরীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে আওয়ামী লীগ থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাধন চন্দ্র মজুমদার। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধন চন্দ্র মজুমদার দ্বিতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অনেকের নাম এলেও শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ থেকে এ আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে সাধন চন্দ্র মজুমদার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে আরো জানা গেছে, সাধন চন্দ্র মজুমদার সংসদ সদস্য হিসেবে জয়ের ব্যাপারে খুবই আশাবাদী। তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করার জন্য এবং জয়ের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার জন্য নির্বাচনী এলাকার ইউনিয়ন, গ্রামে-গ্রামে ছুটে বেড়াচ্ছেন। গত রমজান মাসে প্রত্যেক উপজেলায় ইফতার মাহফিল করেছেন। এ ছাড়াও উপজেলায় গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন এবং উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সভা করেছেন তিনি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন বলে মনে করেন সচেতন মহল। এলাকার সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের মতে, মনোনয়ন যেই পাক না কেন এই আসনে বড় দুই রাজনৈতিক দল নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের মধ্যে লড়াই হবে।

"