পদ্মা সেতু প্রকল্পের কর্মীরা চাকরির ‘স্থায়ীকরণ’ চান

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৭, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ

পদ্মা সেতু প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণে জোর তৎপরতা শুরু করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, চাকরি স্থায়ী করা না হলে প্রকল্পের কাজে বিঘœ ঘটতে পারে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বেকার হওয়ার শঙ্কায় ইতোমধ্যে অনেকেই চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন। সরকারের অগ্রাধিকার এই প্রকল্পের কাজ সুন্দরভাবে শেষ করার জন্য এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ না নেওয়া হলে কাজে বিঘœ ঘটতে পারে।

সম্প্রতি পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি সেতু বিভাগের সচিবকে পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, প্রকল্পের কাজ সুন্দরভাবে পরিচালনা করার স্বার্থে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। কারণ এর আগে বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক চিঠির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পদ্মা সেতু ফার্স্ট ট্র্যাক প্রকল্প। এটির অগ্রাধিকার অনেক বেশি। এমনকি এখানে যাদের চাকরি দেওয়া হয়েছে নিয়োগ পরীক্ষা অনুসরণ করেই হয়েছে। ফলে তাদের যোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। এ কারণে তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে নিয়মিতকরণ হওয়া ন্যায়সংগত।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু প্রকল্প সমাপ্তির পর সেতু পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ পর্যায়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবলের প্রয়োজন হবে। প্রকল্পের জনবল নিয়মিত করা হলে তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগবে। সে ক্ষেত্রে নতুন জনবল নিয়োগ করা হলে দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবলের অভাবে সেতু ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে।

ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কারণে এ প্রকল্পে নিয়োগ পাওয়া অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেধাবী অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। এ কারণে বারবার নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করতে গিয়ে প্রকল্পের কাজে বিঘœ ঘটছে। একই সঙ্গে অর্থের ও সময় দুটির অপচয় হচ্ছে। পাশাপাশি প্রকল্পে তাদের কাজের যে অভিজ্ঞ ও দক্ষতা অন্যত্রে চলে যাওয়ার কারণে পদ্মা সেতু তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অধীন যমুনা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের জনবল রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা হয়েছে। ১৯৯৭ সালের পর তাদের চাকরি নিয়মিত করা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ ফিল্প আর্কাইভ কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প ‘চলচ্চিত্র সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে সনাতন চলচ্চিত্র সংরক্ষণ’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনস্তদের রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা হয়। তাই অতীতের উদাহরণ মেনে গুরুত্বের বিবেচনায় পদ্মা সেতু আওয়ামী লীগ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত একমাত্র সেতুটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ী করা এখন সময়ের দাবি।

উল্লেখ্য, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দেশের সবচেয়ে বড় সেতু চালু হবে আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে। সড়কের পাশাপাশি সমানতালে চলছে রেলও। ফলে সেতুটি চালু হলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনমান যেমন উন্নত হবে, একই সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ঘটবে। এ ছাড়া ভারতের সঙ্গে পণ্য পরিবহনের কাজটি অনেক সহজতর হবে। আর দেশের দক্ষিণাঞ্চলে গভীর সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সড়ক পথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে এই সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এক সময় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এই প্রকল্পে অর্থায়ন না করে হাত গুটিয়ে নেয় বিশ্বব্যাংক। এ কারণে নবম জাতীয় সংসদের সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে পদত্যাগ করতে হয়। তবে দীর্ঘ তদন্তের পর প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি হয়নি বলে কানাডা আদালত দায়মুক্তি দিয়েছে। এ প্রকল্পে খরচ হবে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা।

"