ছাত্রলীগ নেতার দখলে প্রতিবন্ধীদের জমি

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৭, ০০:০০

দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি

রাজশাহী দুর্গাপুরে প্রতিবন্ধীদের অফিস ও ট্রেনিং সেন্টারের জমি দখল করে ঘর তোলার অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মোস্তফা কামাল হিমেলের বিরুদ্ধে। প্রতিবন্ধী সংস্থা ‘একতা’র অভিযোগ, জোর করে এই ছাত্রলীগ নেতা জমি দখল করে ঘর তুলেছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ও তৃণমূল সমাজ কল্যাণ সংস্থা- একতা সূত্রে জানা যায়, শারীরিক প্রতিবন্ধীদের অফিস ও ট্রেনিং সেন্টার ভবন নির্মাণের জন্য আনসার ভিডিপি ব্যাংকের কর্মকর্তা মাসুদ রানা দুর্গাপুর কালিদহ মৌজার ২৫৭ খতিয়ানের ১৫৬ ও ৬১৪ নম্বর আরএস দাগের ৭ শতাংশ জমি আলমগীর হোসেন ভুলু ও রুবিনা নাসরিন নামের দুই ব্যক্তির কাছ থেকে ক্রয় করেন। পরে তিনি ১৩৭০ ও ১৩৭১ নম্বর দলিল দুটি খারিজও করেন। তিনি প্রস্তাবিত ১২২৫৫ খতিয়ানের ৪ শতাংশ জমির ২ শতক প্রতিবন্ধী সংস্থার নামে ৯৯ বছরের অঙ্গীকার নামা করে দেন। সেখানে তারা অফিস ও ট্রেনিং সেন্টার ভবন নির্মানণ করবেন। কিন্তু জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি হিমেল ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে এ জায়গা জবরদখল করে নেন।

প্রতিবন্ধী সংস্থা আরো বলেছে, ২১ নভেম্বর ২০১৬ সালে ছাত্রলীগের সহসভাপতি হিমেল তার লোকজন নিয়ে জোর করে ঘর তোলেন এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসেন। পরে প্রতিবন্ধী সংস্থা ওই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে থানায় জিডি করে (যার নম্বর ২৯০ )। কিন্তু পুলিশ কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে চলে আসে। পরে প্রতিবন্ধী সংস্থাটি গত ২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করে। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজীবুল ইসলাম খানকে সরেজমিনে দেখে সমাধানের নির্দেশ দেন। ২০১৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজীবুল ইসলাম খান সরেজমিনে যান এবং তিনি ওই জমি খারিজ করে দেন। পরে ২০১৭ সালে ১ জানুয়ারি সহকারি কমিশনার (ভূমি) উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে অফিসে ডাকেন। কিন্তু ছাত্রলীগের ওই নেতা কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তখন জায়গা খালি করার নির্দেশ দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজীবুল ইসলাম খান। কিন্তু ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে ছাত্রলীগের সহসভাপতি কোনোভাবে জায়গাটি ছাড়ছেন না। পরে গত ২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর ২৯ ও ৩৭ নং স্মারকে রাজশাহী অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) বরাবর দুটি চিঠি পাঠায় একতা। একই সঙ্গে রাজশাহী কমিশনার, বিভাগীয় কমিশনার এবং রাজশাহী এসপি বরাবর ন্যায়বিচার চেয়ে প্রতিবন্ধীরা জমি দখলমুক্ত চায়। কিন্তু আজো প্রতিবন্ধীদের জায়গা ছেড়ে দেননি ছাত্রলীগের ওই নেতা।

এদিকে, প্রতিবন্ধী সংস্থার সভাপতি আমজাত হোসেন, তার ফেসবুক আইডিতে অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপাসন প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুলের বরাবর জমি দখলমুক্ত চেয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তার ওই পোস্ট নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মোস্তফা কামাল হিমেলের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ থাকায় কোনো কথা হয়নি। এদিকে, দুর্গাপুর পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ হলে তিনি বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘর তুলেছে তাও দেখেছি। সমাধানের জন্য হিমেলকে বলা হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বলেন, প্রতিবন্ধীরা জমি দখলের অভিযোগ করেছে। আমরা দুপক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছি।

"