আইজিপির ভাষ্য

অর্চনার টানেই বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন ফরহাদ মজহার

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৭, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফরহাদ মজহারকে আদালতের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমোদন চাইবে পুলিশ। দ্রুতই এ-সংক্রান্ত আবেদন করা হবে। পুলিশ বলেছে, ফরহাদ মজহারকে অপহরণের কোনো আলামত মেলেনি। অর্চনা নামের এক নারীর টানেই বাসা থেকে স্বেচ্ছায় বেরিয়েছিলেন তিনি। এদিকে, পরিবারের দাবি, ঢাকার শ্যামলীতে ফরহাদ মজহারের বাসায় আশপাশে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বেড়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সদর দফতরে এক ব্রিফিংয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলেন, ফরহাদ মজহার অপহরণের শিকার হননি। তিনি স্বেচ্ছায় রাজধানীর শ্যামলীর বাসা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। সেদিন ১৮ ঘণ্টা চেষ্টার পর ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করে পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। এ সময় তিনি মোবাইল ফোনে নিজের স্ত্রী ফরিদা আখতারের সঙ্গে ১০ বার ও তার ভক্ত অর্চনা রানীর সঙ্গে ছয়বার কথা বলেছেন।

শহীদুল হক আরো বলেন, গত ৩ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার কিছু সময় আগে ফরহাদ মজহার খুলনার একটি মার্কেটের দোকান থেকে অর্চনা রানীকে দুই দফায় ১৩ হাজার ও দুই হাজার করে মোট ১৫ হাজার টাকা ডিবিবিএলের রকেট সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠান। এ থেকে পুলিশ প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছে, ওই নারীর টানেই তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে যান। অর্চনা রানীর সঙ্গে যোগাযোগের কথা ফরহাদ মজহারের স্ত্রী নাও জানতে পারেন। সে জন্যই হয়তো ফরহাদ মজহার অপহরণের এ নাটক সাজিয়েছেন।

অপরদিকে, পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, ফরহাদ মজহার এখন অসুস্থ, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি। তবে আমরা আদালতের কাছে যাব। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আখতার বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে অর্চনা রানী নামের এক নারীর সঙ্গে ৫-৭ জন লোক তাদের বাসায় ঢোকার চেষ্টা করেন। পরে বাসার নিচ থেকেই তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বেলা আড়াইটার দিকে আরো ৮-১০ জন অপরিচিত ব্যক্তি বাসায় ঢুকতে চায়। এ ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিবারের শঙ্কা, ফরহাদ মজহারকে যেকোনো সময় গ্রেফতার করা হতে পারে।

ফরহাদ মজহার গত ৩ জুলাই ভোরে ঢাকার শ্যামলীর রিং রোডের বাসা থেকে বেরিয়ে ‘অপহৃত’ হন বলে তার স্ত্রী ফরিদা আখতারের অভিযোগ। পুলিশ মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে অনুসন্ধান শুরুর পর সেই রাতেই যশোরে হানিফ এন্টারপ্রাইজের একটি বাসে ফরহাদ মজহারকে পাওয়া যায়। পরদিন গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ফরহাদ মজহার বলেছিলেন, ভোরে ওষুধ কেনার জন্য তিনি বাসা থেকে বের হলে কয়েকজন একটি মাইক্রোবাসে করে তাকে তুলে নিয়ে যায়।

আর ফরিদা আখতারের অভিযোগের ভিত্তিতে আদাবর থানায় নথিভুক্ত মামলায় বলা হয়, ফরহাদ মজহার তার ফোন থেকে স্ত্রীকে পাঁচবার কল করে বলেন, অপহরণকারীরা ৩৫ লাখ টাকা চেয়েছে। উদ্ধারের পরের দিন ঢাকায় আনার পর আদালতে জবানবন্দি দেন তিনি। ওই দিনই শারীরিক অসুস্থতার কারণে ফরহাদ মজহারকে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত বুধবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তিনি।

"