ভিয়েতনামের প্রথম চালান চট্টগ্রামে

চাল মজুদ : ১৬ হাজার মিলার কালো তালিকায়

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৭, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা চালের প্রথম চালান চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। ২০ হাজার মেট্রিক টন চাল নিয়ে ভিয়েতনাম থেকে আসা জাহাজ ‘ভিসাই ভিসিপি-০৫’ গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। এদিকে, অবৈধভাবে চাল মজুদ করায় ১৬ হাজার মিল মালিককে তিন বছরের জন্য ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করার কথা জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। সচিবালয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানিয়ে বলেন, কালো তালিকাভুক্ত এসব মিলারের কাছ থেকে আগামী তিন বছর সরকার চাল কিনবে না। ভিয়েতনাম থেকে আসা চাল খালাস প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কাস্টমস ফরমালিটিজ আছে, সেগুলো যদি আজকে শেষ হয় তাহলে কাল সকাল থেকে খালাস করতে পারব। আর ফরমালিটিজগুলো যদি আজকে শেষে হতে বিলম্ব হয় তাহলে রোববার খালাস হয়ে যাবে। এ ছাড়া কম্বোডিয়া সমঝোতা চুক্তির খসড়া পাঠিয়েছে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আগস্টে কম্বোডিয়া যাব। সেখান থেকেও জিটুজি ভিত্তিতে চাল আনতে পারব। মিয়ানমারও আমাদের চাল দিতে আগ্রহী। সরকার দেরিতে চাল আমদানি প্রক্রিয়া কেন শুরু করল- এমন জিজ্ঞাসায় মন্ত্রী বলেন, আমরা যথাসময়ে চাল আমদানি প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আমরা ট্যারিফ উঠিয়ে দেওয়ার জন্য আগেই চিঠি লিখেছিলাম, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের স্বার্থের কথা চিন্তা করেছেন।

কৃষকরা যেন তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পান, সে জন্য প্রধানমন্ত্রী ট্যারিফটা দেরিতে উঠিয়েছেন এবং ট্যারিফটা যথাসময়ে উঠিয়েছেন। যথাসময়ে ট্যারিফ উঠানোর যে প্রতিক্রিয়া, সে প্রতিক্রিয়া আমরা লক্ষ করছি বাজার ক্রমান্বয়ে নিম্নমুখী হচ্ছে।

হাওরে অকাল বন্যায় ফসলের ক্ষতি এবং সরকারি গুদামের মজুদ কমে আসার প্রেক্ষাপেটে সরকার সম্প্রতি ভিয়েতনাম থেকে ৯০৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গত ১৪ জুন দরপত্র ছাড়াই সরকারি পর্যায়ে এই চাল আমদানির অনুমতি দেয়।

ভিয়েতনাম থেকে প্রতি মেট্রিক টন ৪৭০ মার্কিন ডলার দরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল কিনতে খরচ পড়ছে ১৯৫ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। এ ছাড়া ৪৩০ মার্কিন ডলার দরে দুই লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল আমদানিতে ৭১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে।

চুক্তি অনুযায়ী, ভিয়েতনামের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ভিনাফুড টু এই চালের ৬০ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এবং বাকি ৪০ শতাংশ মোংলা বন্দর দিয়ে সরবরাহ করবে।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারে চালের দাম বাড়ার একমাত্র কারণ হচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা হাওর অঞ্চলে অকাল বন্যার পর থেকেই চাল মজুদ করেছিল। আমরা যে ক্রয়মূল্য (৩৪ টাকা) দিয়েছিলাম, বাজারের মূল্যের সঙ্গে বিরাট ফারাক ছিল। ফলে আমরা সংগ্রহ করতে পারিনি।

অসাধু চাল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব মিল মালিক অসাধুভাবে চাল মজুদ করেছে তাদের আমরা তিন বছরের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করেছি। তাদের কাছ থেকে আমরা আর চাল কিনব না।

টানা কয়েক বছর বাম্পার ফলনের কারণে কয়েক বছর চালের বাজার স্থিতিশীল থাকলেও এবার বোরো মৌসুমে আগাম বন্যায় সরকারি হিসাবে ছয় লাখ টনের মতো ধান নষ্ট হয় হাওরে। পাশাপাশি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে (১০ টাকা কেজি দরের চাল) সাড়ে সাত লাখ টন চাল বিতরণ করায় সরকারি মজুদ অনেক কমে আসে।

এই পরিস্থিতিতে বাজারে চালের দাম বাড়তে শুরু করলে সরকার উদ্যোগী হয়। সরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির জন্য দরপত্র দেওয়ার পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়।

রোজার মধ্যে চালের দাম যখন ৬০ টাকা কেজিতে পৌঁছে গেল, তখন পাইকার ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ছিল, স্থানীয় পর্যায়ের শিল্প গ্রুপগুলো অটোমিল করে সারা দেশের চালের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে সরকার চেষ্টা করেও তখন চালের মূল্য স্বাভাবিক অবস্থায় নামিয়ে আনতে পারেনি। সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাও জুনের শেষে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে চালের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য ‘অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিকে’ দায়ী করেন।

"