নিশোর বরখাস্তের কারণ নাঈমের সঙ্গে সেলফি নয়

প্রকাশ : ২০ মে ২০১৭, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফারহানা নিশোকে অনুষ্ঠান প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে একুশে টেলিভিশন। তবে ঠিক কী কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি তখন। এ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা গুঞ্জন। গত দুদিন ফারহানা নিশো, চ্যানেলটির সিইও মনজুরুল আহসান বুলবুল এবং মানবসম্পদ বিভাগের কাছে বরখাস্তের ‘আসল কারণ’ জানতে চেয়েও উত্তর পাওয়া যায়নি। এদিকে নিশোকে বরখাস্তের কারণ হিসেবে দুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় উঠে এসেছে নানা তথ্য। যার একটি রাজধানীর বনানীতে ছাত্রী ধর্ষণের অন্যতম আসামি নাঈম আশরাফের সঙ্গে ফারহানা নিশোর বেশ কিছু সেলফি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিডিয়ার অনেকেই। তবে ১৭ মে ফারহানা নিশোকে পাঠানো বরখাস্তপত্রে তিনটি কারণ উল্লেখ করেছে একুশে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ। চ্যানেলটির মানবসম্পদ বিভাগ থেকে গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমের হাতে আসা সেই বরখাস্তপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে-‘আপনি একুশে টেলিভিশন লিমিটেডের অনুষ্ঠান বিভাগ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব সম্পর্কিত কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণ, পর্যালোচনা ও আত্মপক্ষ সমর্থনে আপনার প্রদত্ত বক্তব্য ও উপস্থাপিত নথিগুলো আমলে নিয়ে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, ক. আপনি আপনার নিয়োগপত্রের ১০নং শর্ত ভঙ্গ করে অন্য ব্যবসায় জড়িত হয়েছেন এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। খ. আপনি প্রতিষ্ঠানের আর্থিকনীতি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। গ. আপনি একুশে টেলিভিশন লিমিটেডের ব্যবসা সম্পর্কে প্রতারণা ও অসাধুতার আশ্রয় নিয়ে প্রতিষ্ঠানকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। উল্লিখিত অসদাচরণের দায়ে আপনাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হলো।’

এদিকে গতকাল এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ফারহানা নিশোর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি। অনেক নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে গেল বছর ফেব্রুয়ারিতে একুশে টেলিভিশনে যোগ দেন ফারহানা নিশো। তখনই তার যোগদান নিয়ে চ্যানেলকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, যা প্রাকাশ্যে চলে এসেছিল। উপস্থাপক, সংবাদপাঠিকা ও বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে বেশ জনপ্রিয় ফারহানা নিশো। চ্যানেল ওয়ান ও বৈশাখী টিভির করপোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান হিসেবেও কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। ২০০৩ সালে এনটিভিতে সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে নিশোর ক্যারিয়ার শুরু হলেও মাঝে গ্রামীণফোনের টেকনিক্যাল ডিভিশন ও ওয়ারিদ টেলিকমে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট বিভাগেও কাজ করেন বেশ কিছুদিন।

"