ঢাকাসহ ১৩ জেলায় অবনতির আশঙ্কা

দ্বিতীয় দফায় বন্যা

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২০, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র গতকাল মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৩টি জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নাটোর, নওগাঁ, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও ঢাকা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। এছাড়া নীলফামারী, লালমনিরহাট, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও রংপুর জেলার বন্যা পরিস্থিতির আগামী ২৪ ঘণ্টায় উন্নতি হতে পারে।

‘কুশিয়ারা ব্যতীত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকায় প্রধান নদ-নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদী আরিচা পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি সমতল হ্রাস পেতে পারে। অপরদিকে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে যা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। দ্বিতীয় দফার বন্যায় গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, রংপুরের পীরগাছা, সিরাজগঞ্জ, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর ও জামালপুরের ইসলামপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টÑ

গাইবান্ধা : গাইবান্ধা ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জেলার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার ২৬টি ইউনিয়ন পুনরায় বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। ওইসব এলাকার ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি। ইতিপূর্বে যেসব এলাকা থেকে পানি নেমে গিয়েছিল ওইসব এলাকা আবার নতুন করে বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। শুকনো খাবার ও জ্বালানির অভাব ও গবাদিপশু নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন বন্যার্তরা। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার এবং ঘাঘট নদীর পানি বিপৎসীমার ৭১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ইসলামপুর (জামালপুর) : জামালপুরের ইসলামপুরে প্রথম দফার রেকর্ড ভেঙে গত ২৪ ঘণ্টায় বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি ৪৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। তলিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়িসহ ফসলি জমি। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৯০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাত্র ১৫৪ টন জিআর চাল, শুকনো খাবার ও গো-খাদ্য বাবদ আড়াই লাখ টাকা পর্যায় ক্রমে বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানা উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু।

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) : সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় কুশিয়ারাসহ শাখা নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। দ্বিতীয় দফা বন্যার কবলে পড়ে উপজেলার একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঢাকা-সুনামগঞ্জ রোডে ইছগাঁও নামক স্থানে জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা গত দুই দিন ধরে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রানীগঞ্জ দক্ষিণপাড়-রৌয়াইল যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা গত সোমবার ভেঙে যায়। হাওর এলাকার বসতবাড়ির আঙিনাগুলো দুই থেকে চার ফুট পানির নিচে। খড়ের গাদা পানিতে নিমজ্জিত থাকায় ভিজে পচন ধরেছে। গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।

পীরগাছা (রংপুর) : তিস্তা নদীতে দেখা দিয়েছে ভাঙন। গতকাল মঙ্গলবার নতুন করে ভাঙনকবলিত ১৫টি পরিবার ঘরবাড়ি নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বাঁধে চলে এসেছে। অনেকে আত্মীয়-স্বজন ও অন্যের ভাড়া জমিতে ঘরবাড়ি নিয়ে ছুটে আসছেন। এদের মধ্যে ২নং গাবুড়া এলাকার লোকজনই বেশি। গতকাল সরেজমিনে গেলে বাঁধে আশ্রয় নেওয়া আবুল কাশেম বলেন, নিজের জমি-জমা নেই। কয়েক বছরে আটবার ঘরবাড়ি সরিয়ে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছি। এবারো সব ভেঙে নিয়ে বাঁধে আসলাম। দেখি কোথায় বসতি গড়ি। কুলছুম বেগম নামে আরেক বৃদ্ধ বলেন, গত সোমবার কিছু শুকনো খাবার পেলেও আর কেউ ফিরেও তাকায়নি। খুব অভাবের মধ্যে আছি।

কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে ৫৬টি ইউনিয়নের চার শতাধিক গ্রামের দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি। আগামী ৪৮ ঘণ্টা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে তিস্তা নদীর পানি কিছুটা হ্রাস পেয়ে কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার, সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন ও চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হানিফা বলেন, তাদের ইউনিয়নের প্রতিটি পরিবার পানিবন্দি।

সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পাট, ভুট্টা শাকসবজি সহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গতকালের মঙ্গলবার সকালে যমুনা নদীতে পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনার পানি সমতল ১৩ দশমিক ৭৪ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে বলে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানান। অপর দিকে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর ৩৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানান।

 

"