চট্টগ্রামে করোনায় মৃত্যুর প্রকৃত হিসাব নেই!

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২০, ০০:০০

কাজী আবুল মনসুর, চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে কোন ধরনের রোগী ক’জন, কোথায়, কীভাবে মারা যাচ্ছেন তার কোনো রেকর্ড নেই। এগুলো সংরক্ষণও হচ্ছে না। করোনায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা কত তা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। বাসাবাড়ি, বেসরকারি হাসপাতালে করোনা উপসর্গে মারা যাওয়া রোগীর কোনো তথ্য নেই স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে। এছাড়া পথে কিংবা জরুরি বিভাগে এসে মৃত্যু হওয়া ব্যক্তিদেরও কোনো তথ্য নেই স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে। গত তিন মাসে করোনা উপসর্গে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ৮০০ জনের অধিক ব্যক্তি মারা যাওয়ার খবর ধারণা করা হলেও বিভিন্ন সংস্থার তথ্যে এ মৃত্যুর সংখ্যা সহস্রাধিক। বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার তথ্য উপাত্তে এ সংখ্যা জানা গেলেও সুনির্দিষ্টভাবে কোনো তথ্য দিতে পারেনি জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় কিংবা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফতর। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হাসপাতালে কোভিড ইউনিটে ইয়েলো জোনে এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত ৫০০ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ তালিকায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মৃত ব্যক্তিদের কোনো তথ্য নেই। জরুরি বিভাগ ও সরকারি সংস্থার তথ্যে চমেকে করোনা উপসর্গে মৃতের সংখ্যা প্রায় ৮০০ জনের মতো।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে শুধুমাত্র ভর্তিরত রোগীদের তথ্য তাদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে পথে কিংবা জরুরি বিভাগে এসে মৃত্যু হওয়া ব্যক্তিদের তথ্য সংযুক্ত নেই সেই তালিকায়। এছাড়া চট্টগ্রামের কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে গত ৩ এপ্রিল থেকে গত রোববার পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে সর্বমোট ১০৫ জন। যাদের মধ্যে করোনা আক্রান্ত রোগী ছিল প্রায় ৫০ জন। বাকি ৬৫ জনেই উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া ১৪ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপসর্গ নিয়ে ১৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়। এর বাইরে নগরীর বেসরকারি হাসপাতালেও মৃত্যুও সংখ্যা কম নয়। কিন্তু সে সঠিক তথ্য নেই সিভিল সার্জন কার্যালয় কিংবা স্বাস্থ্য দফতরেও।

এদিকে চট্টগ্রামে আল মানাহিল ফাউন্ডেশন দাফন-কাফন সম্পন্ন করেছে ৩০৫ জনের। এর মধ্যে করোনা উপসর্গে মারা গেছে প্রায় ১৮৫ জনের মতে। অন্যদিকে গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ চট্টগ্রামের ৩০০ জনের মতো দাফন কাফন সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে অধিকাংশই করোনা উপসর্গে মারা যাওয়া।

চিকিৎসকদের ধারণা করোনা উপসর্গে মারা যাওয়া অধিকাংশই কোভিড পজিটিভ। সে হিসেবে আক্রান্তের সংখ্যার চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। করোনা উপসর্গে মৃত্যুর হার বেশি হলেও সঠিক কোনো তথ্য নেই স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে। এমনকি মৃত্যুর কারণ পর্যন্ত জানেনা স্বাস্থ্য বিভাগ। বিশেষজ্ঞরা বলেন মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে করোনা পরীক্ষার প্রয়োজন ছিল। উপসর্গে মারা যাওয়া সবার নমুনা সংগ্রহকেও পরীক্ষা করানো হলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যেত। এতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে সহজ হতো স্বাস্থ্য বিভাগের।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আবদুর রব জানান, জেনারেল হাসপাতালে করোনা উপসর্গে শতাধিক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। করোনা আক্রান্তের চেয়ে উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যাই বেশি এ হাসপাতালে। মে ও জুন মাসে করোনা উপসর্গে মারা যাওয়া অনেকের নমুনা পরীক্ষ করা হয়নি। আবার অনেকের মৃত্যুর পর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকের পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া গেছে। সে হিসেবে মারা যাওয়া অধিকাংশই করোনা পজিটিভ।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী জানান, উপসর্গে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় হিসেব করা হয় যখন রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকলে। কোভিড ইউনিটের রেড জোনে কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগীদের আর ইয়োলো জোনে সাসপেক্টে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে যারাই হাসপাতালে উপর্সগ নিয়ে ভর্তি হয়, তাদের প্রথম পর্যায়ে ইয়োলে জোনে থাকতে হয়। এর মধ্যে অনেকের হার্ট, কিডনিসহ অন্যান্য সমস্যা থাকে। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে তাদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে রেফার করা যায় না। এছাড়া রেড জোনের আইসিইউ, এইচডিউসহ অক্সিজেন সুবিধা ইয়োলো জোনের চেয়ে বেশি। যার কারণেই উপর্সগ নিয়ে মৃত্যুও হারও বেশি।

 

"