ডা. সাবরিনা ৩ দিনের রিমান্ডে

দুর্নীতির সন্ধানে দুদক, কল লিস্ট ধরে তদন্তে পুলিশ

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২০, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক

করোনার ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার জেকেজির চেয়ারম্যান ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের কার্ডিয়াক সার্জন ডা. সাবরিনা আরিফের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর রহমান শুনানি শেষে রিমান্ডের আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেওয়ান মো. সবুর আসামি সাবরিনাকে আদালতে হাজির করে চার দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আসামির পক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। করোনার ভুয়া মেডিকেল রিপোর্ট প্রস্তুত ও সরবরাহ করে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গতকাল দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সংস্থাটির বিশেষ তদন্ত অনুবিভাগকে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দুদক পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্র্য এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডা. সাবরিনা চৌধুরীর মোবাইল ফোনের কল লিস্টে থাকা নম্বর ধরে ধরে তদন্ত করছে পুলিশ। তিনি একাধিক মোবাইল সিম ব্যবহার করতেন, যা সন্দেহ বাড়িয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মনে। গতকাল দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও জোনের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, তদন্তের স্বার্থে আমরা কল লিস্ট ধরে কাজ করছি। কেননা প্রতারণা করতে অনেক সিম ব্যবহার করা হয়।

গত রোববার দুপুরে ডা. সাবরিনাকে তেজগাঁও বিভাগীয় উপপুলিশ (ডিসি) কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। করোনাভাইরাস পরীক্ষায় জালিয়াত চক্রের হোতা হুমায়ুন কবির ও তার স্ত্রী তানজীনা পাটোয়ারী আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন। সাবরিনার স্বামী ওভাল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও জেকেজির সিইও আরিফুল হক চৌধুরীও রিমান্ড শেষে কারাগারে রয়েছে।

তেজগাঁও থানা সূত্রে জানা গেছে, সাবরিনার কাছ থেকে চারটি সিম জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটির বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। একটি তার নামে থাকলেও অপরটি আরেকজনের নামে নিবন্ধিত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তা স্বীকারও করেছেন সাবরিনা।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা সন্দেহ করছেন, সাবরিনা এসব মোবাইল সিম দিয়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সাবরিনা সব সময় ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা, রাজনীতিকের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। তাদের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলে তার একার পক্ষে এত বড় অপরাধ করা সম্ভব নয়।

এদিকে তেজগাঁও থানার হাজতখানায় প্রথম রাত পায়চারী করে ও না ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন ডা. সাবরিনা। তাকে চিন্তাগ্রস্ত দেখাচ্ছিল। তার নিরাপত্তায় দুজন নারী পুলিশ ছিলেন। তাদের সঙ্গে মাঝে মধ্যে কথাও বলেছেন। খেয়েছেন থানা থেকে সরবরাহ করা খাবার।

সাবরিনা ছিলেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের কার্ডিয়াক সার্জন। পাশাপাশি তিনি রেজিস্ট্রারের দায়িত্বও পালন করেন। তিনি খেয়াল-খুশিমতো অফিসে যাতায়াত করতেন। ঠিকমতো সিটে থাকতেন না। অফিসের বিভিন্ন স্টাফদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। তবে ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতেন না। কারণ হাসপাতালের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল।

করোনা টেস্টের ভুল রিপোর্ট সরবরাহের অভিযোগে গত ২২ জুন বেসরকারি জেকেজি হেলথ কেয়ারে অভিযান চালায় র‌্যাব। এতে ওই প্রতিষ্ঠান এবং তার কর্ণধারদের প্রতারণার সব তথ্য বেরিয়ে আসে। সাবরিনা এ প্রতিষ্ঠানের চেয়্যারম্যান ছিলেন। রোববার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

 

"