সংকটে প্রকাশনা শিল্প ক্ষতি ৪০০ কোটি

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঘোর সংকটে পড়েছে প্রকাশনা শিল্প। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই এক ধরনের বন্ধ রয়েছে বই বেচাকেনা। ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটি শেষে গত ৩১ মে থেকে প্রকাশনা সংস্থাগুলোর শোরুম খুললেও সেখানেও নেই বিক্রি। অনলাইনে বই বিক্রিও আশানুরূপ নয়। করোনায় এরই মধ্যে প্রকাশনা খাতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকায়। অনেক প্রকাশক মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে।

মহামারির কালে দেশের প্রকাশনা শিল্পের অবস্থা বর্ণনা করে বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ বলেন, ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণের কথা জানানো হয়। এরপর থেকেই সৃজনশীল বই বিক্রি এক ধরনের বন্ধ। কারণ মানুষ নিজের দৈনন্দিন চাহিদা মেটানোর পরেই বই কেনেন। আর করোনাকালে আমরা সবাই ‘সীমিত’ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি। যার প্রভাব পড়েছে প্রকাশনা শিল্পের ওপর।

করোনাকালে বিপদের মধ্যে আছেন প্রকাশকরা। অন্যান্য ব্যবসার মতো চাইলে ব্যবসা গুটিয়ে চলে যেতে পারছেন না তারা। কারণ লেখক-বাইন্ডার-প্রেসের সবার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক। এ কারণে চাইলেও ব্যবসা থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির যুগ্ম নির্বাহী পরিচালক এবং অন্বেষা প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী শাহাদাত হোসেন বলেন, দেশের সৃজনশীল প্রকাশনা শিল্পের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। এমনিতেই মানুষ বই কম কেনেন। করোনার কারণে বই কেনা প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশের অন্যতম স্বত্বাধিকারী আদিত্য অন্তরের মতে, করোনাকালে প্রকাশনা শিল্পের ব্যবসা ৯০ শতাংশ কমেছে।

তিনি বলেন, বইমেলা শেষ হওয়ার পর মার্চ ও এপ্রিল মাসে বেশ কেনাকাটা হয়। কিন্তু এবার সে সময়টা করোনার কারণে নষ্ট হয়েছে। সেই সঙ্গে মে মাস পর্যন্ত বাংলাবাজারও বন্ধ ছিল। জুন থেকে খুললেও বেচাবিক্রি নেই। এ অবস্থায় আমাদের যে বিনিয়োগ করা আছে, সেটি ওঠানোই অসম্ভব।

বাতিঘরের স্বত্বাধিকারী দীপংকর দাস বলেন, দেশের অন্যান্য খাতের মতো প্রকাশনা খাতেও করোনার বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। আমাদের অনলাইনে বই বিক্রি ভালো হচ্ছে। কিন্তু আমাদের বুক ক্যাফেতে কিন্তু খুব বেশি মানুষ আসছেন না। তবে যারা আসছেন তারা একসঙ্গে বেশ কিছু বই কিনছেন। এটা ইতিবাচক দিক।

করোনা সংক্রমণের কারণে অনলাইনে বই বিক্রিও আশানুরূপ নয় বলে প্রকাশনা সংস্থাগুলো সূত্রে জানা গেছে। যদিও অনলাইনে বই বিক্রির প্রতিষ্ঠানগুলো সংকটের সময়ে বিক্রির হার নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশের আদিত্য অন্তর বলেন, অনলাইনে বই বিক্রি এখন প্রকাশনা খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক। অনেকেই অনলাইনে অর্ডার করে বই কেনেন। কিন্তু করোনার সময়ে অনলাইনে বই বিক্রিও কিন্তু দুই মাস বন্ধ ছিল। এখনো যে খুব বিক্রি হচ্ছে না তা কিন্তু না।

দেশের অনলাইনে বই বিক্রির সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান রকমারির হেড অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড ইনবাউন্ড মার্কেটিং মাহমুদুল হাসান সাদি বলেন, মে মাসের শেষ সপ্তাহে অফিস খোলার পর ৫ জুন থেকে আমাদের কার্যক্রম শুরু করি। এরপর থেকে যা বিক্রি হয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট। তবে এ সময়ে ভর্তি ও নিয়োগ পরীক্ষার সহায়ক বইগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে। সৃজনশীল বইয়ের মধ্যে স্কিল ডেভেলপমেন্টের বই বিক্রি বেশি হচ্ছে। তবে যেহেতু অনেকেই গত বইমেলার বই সংগ্রহ করতে পারেননি তারাই মূলত বই কিনছেন।

প্রকাশনা সংস্থা বাতিঘর প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গত ১৯ এপ্রিল থেকে অনলাইনে বই বিক্রি শুরু করেছে। এ বিষয়ে এর কর্ণধার দীপংকর দাস বলেন, অনলাইনে বই বিক্রি হচ্ছে। সংখ্যাটা অনেক না হলেও হতাশজনক নয়।

 

"