ডাক্তার না হয়েও তিনি করেন প্রসূতির সিজার

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২০, ০০:০০

পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় মোস্তফা কামাল (৪০) নামে এক মাছ ব্যবসায়ী নিজের মালিকানাধীন ক্লিনিকে নিজেই প্রসূতি নারীর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করছেন। এমন অভিযোগ পেয়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বরিশাল র‌্যাব-৮-এর একটি দল আকস্মিক অভিযান চালিয়েছে শহরের দক্ষিণ বন্দর মাহিমা ক্লিনিকে। এ সময় ক্লিনিকের মালিক ও কথিত চিকিৎসক মোস্তফা কামাল ওরফে মাছ মোস্তফাকে আটক করে র‌্যাব। এদিকে উপজেলার ধানীসাফা বন্দরের হাজি আবদুর রাজ্জাক সার্জিক্যাল ক্লিনিকের এক ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চিকিৎসার নামে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অভিযোগে আমির হোসেন (৪৫) নামের ওই ভুয়া চিকিৎসককে আটক করেছে র‌্যাব-৮।

পরে ওই দুই ভুয়া চিকিৎসককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে মহিমা ক্লিনিকের মালিক মোস্তফা কামালকে তিন মাস ও আমির হোসেনকে ছয় মাসের দ- দেওয়া হয়। র‌্যাব-৮-এর ওই অভিযানের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পিযূষ কুমার চৌধুরী এ দ-াদেশ দেন। গতকাল শুক্রবার দ-িতদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দ-িতরা হলো মঠবাড়িয়া উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে মোস্তফা কামাল ও নোয়াখালীর শাহাজাদপুর উপজেলার আবুল খায়ের মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুয়া চিকিৎসক মোস্তফা কামাল মঠবাড়িয়া পৌর শহরের মাছের আড়তের ব্যবসা করে আসছেন। ২০০৯ সালে সে শহরের হাসপাতাল সড়কে মহিমা ক্লিনিক নামে একটি হাসপতাল চালু করেন। ওই হাসপাতালে নিজেই মালিক আবার নিজেই চিকিৎসক সেজে সিজারিয়ান অপারেশন করে আসছিলেন। ক্লিনিকের বৈধ অনুমোদন না থাকলেও তিনি প্রভাবশালী মদদে ক্লিনিক পরিচালনা করে আসছেন এলাকায় গুঞ্জন ওঠে। এর আগে ক্লিনিকে কয়েক দফা প্রসূতি নারীর মৃত্যুসহ নানা দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনা টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে মোস্তফা নিজেই মালিক নিজেই চিকিৎক হয়ে রোগীদের ঝুঁকিতে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

অন্যদিকে উপজেলার ধানীসাফা বন্দরের হাজি আবদুর রাজ্জাক সার্জিক্যাল ক্লিনিকের চিকিৎসকের কোনো বৈধ কাগজ ও সনদপত্র না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া ডাক্তার সেজে সিজারিয়ান অপারেশন করে আসছেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গোপনে অভিযোগ পেয়ে র‌্যাব-৮-এর একটি দল এ দুই ক্লিনিকে অভিযান চালায়। এ সময় ওই দুই ক্লিনিক দিয়ে কথিত দুই ডাক্তারকে গ্রেফতার করে র‌্যাবের দল। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের দ-াদেশ দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়। সেই সঙ্গে ক্লিনিক দুটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

মঠবাড়িয়া উপজেলা স্থাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী হাসান জানিয়েছেন, ক্লিনিকে ভুয়া ডাক্তার দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করা দুঃখজনক ও ঝুঁকির ব্যাপার। এসব ক্লিনিক ও কথিত চিকিৎসকদের যথাযথ অনুমোদন আছে কি না আমার জানা নেই।

 

"