৫০ দিনের ট্রায়াল

করোনা আক্রান্তের ৯৬ ভাগই সুস্থ ‘ফ্যাভিপিরা’য়

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৫০ জনকে দুই মাস ফ্যাভিপিরা ওষুধ ট্রায়ালে ৯৬ ভাগ রোগী সুস্থ হয়েছে, এমনটাই দাবি করেছেন বিকন ফার্মা। তবে জটিল রোগী বা অন্তঃসত্ত্বা নারীদের এই ওষুধ দেওয়া হয়নি। ওষুধটির কার্যকারিতা পরীক্ষার্থে ‘ঢাকা ট্রায়াল’ নামে ৫০ দিনের ট্রায়াল হয়। ঢাকার চারটি হাসপাতালে পরীক্ষামূলকভাবে এই ওষুধটি করোনা পজেটিভ রোগীদের ওপর প্রয়োগ করা হয়। সেখান থেকেই এমন সফলতা পেয়েছে বলে গতকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলনে দাবি করে বিকন ফার্মা। তবে যাদের মাঝে করোনার কোনো লক্ষণ নেই তাদের এই ওষুধ প্রয়োগ করার প্রয়োজন নেই বলেও জানায় বিকন ফার্মা। বিকন ফার্মার উৎপাদিত ওষুধের নাম ফ্যাভিপিরা। এর জেনেরিক নাম ফ্যাভিপিরাভির। যা জাপানে অ্যাভিগান নামে পরিচিত।

বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের হেড অব পোর্টফোলিও মাসুদ বিল্লাহ বলেন, মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত আমাদের ওষুধটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়েছে। এরপর ট্রায়ালের রেজাল্ট নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সেই ট্রায়ালের ফল বুধবার (গতকাল) ঘোষণা করা হলো।

মাসুদ বিল্লাহ বলেন, সোসাইটি অব মেডিসিন আমাদের এই ওষুধটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করেছে। ওষুধ উৎপাদনকারী হিসেবে আমরা বলতে পারি, আমাদের ওষুধটি মানসম্মত।

গতকাল ওয়েস্টিন হোটেলের বলরুমে দুপুর আড়াইটায় সংবাদ সম্মেলন হয়। সেখানে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফল তুলে ধরেন সোসাইটি অব মেডিসিনের প্রেসিডেন্ট ডা. বিল্লাল আলম। সেমিনারে বক্তা হিসেবে আরো ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এস এম আবদুর রহমান ও বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের (বিএমআরসি) চেয়ারম্যান ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী।

বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস উৎপাদিত ফ্যাভিপিরার জেনেরিক নাম ফ্যাভিপিরাভির। জাপানে ওষুধটি অ্যাভিগান হিসেবে পরিচিত। ফ্লুর ওষুধ অ্যাভিগান প্রথম করোনা চিকিৎসায় ব্যবহার করে চীন। তারা জানায়, ওষুধটি করোনার চিকিৎসায় বেশ কার্যকর। এরপর করোনার চিকিৎসায় অ্যাভিগানের ব্যবহার নিয়ে কাজ করতে শুরু করে জাপান। বেশকিছু দেশ জাপানের কাছ থেকে অ্যাভিগান কিনতে শুরু করে। বাংলাদেশে বিকন ফার্মার পাশাপাশি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসও ওষুধটি উৎপাদনের অনুমতি পায়।

 

"