উন্নয়নকাজ অবশ্যই গুণগত ও টেকসই হতে হবে

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের উন্নয়নে নেওয়া প্রকল্পের কাজ অবশ্যই গুণগত ও টেকসই হতে হবে জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্পে আর নিম্নমানের কাজ বরদাশত করা হবে না। কেউ নিম্নমানের কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল সোমবার মন্ত্রণালয়ে নিজ কক্ষ থেকে দেশের ১২ জেলার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর গৃহীত কার্যক্রমের খোঁজখবর নিতে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীদের সঙ্গে এক অনলাইন সভায় এ কথা বলেন তিনি।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, দেশের রাস্তাঘাট, সুপেয়পানি, স্যানিটেশনসহ ছোট বা বড় যেকোনো প্রকল্প নেওয়া হোক, তা মানসম্মত এবং টেকসই হতে হবে। মানুষকে উন্নয়নের সুফল দিতে হলে যেকোনো কাজ টেকসই এবং কোয়ালিটি-সম্পন্ন করতে হবে।

গুণগত মানসম্পন্ন কর্মকান্ড নিশ্চিত করতে গিয়ে কেউ প্রতিকূলতার সম্মুখীন হলে তার মন্ত্রণালয় তা শক্ত হাতে মোকাবিলা করবে উল্লেখ করে মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, দেশের উন্নয়নে আর নিম্নমানের কাজ করতে দেওয়া হবে না।

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেকোনো ধরনের ঝুঁকি এবং সমস্যার সম্মুখীন হলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর পরিশ্রমকে বাস্তবে রূপ দিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন সব প্রতিষ্ঠানকে দেশের উন্নয়নে একযোগে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সমগ্র দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিবিড়ভাবে জড়িত উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন অনেকাংশেই স্থানীয় সরকার বিভাগের ওপর নির্ভর করে।

মো. তাজুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছরই বর্ষাকালে অতিবর্ষণ এবং উজান থেকে পানি এসে অনেক চরাঞ্চল তলিয়ে যায়। এতে করে বাড়িঘর, ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়। এসব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে।

সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইফুর রহমান যোগ দেন।

উল্লেখ্য, বন্যা মোকাবিলা-সংক্রান্ত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং সমন্বয় করার জন্য জনস্বাস্থ প্রকৌশল অধিদফতরের ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয় এবং বন্যাকবলিত সব জেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং পানিভর্তি জেরিক্যান বিতরণের মাধ্যমে নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বগুড়া, কুড়িগ্রাম ও সিরাজগঞ্জ জেলার বন্যাকবলিত এলাকায় অস্থায়ী নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহের জন্য ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট প্রস্তুত রেখেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। চাহিদা ও পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল মজুদ আছে। বন্যার পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডুবে যাওয়া নলকূপ জীবাণুমুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্লিচিং পাউডার জেলা ও উপজেলায় আছে বলেও সভায় জানায় জনস্বাস্থ প্রকৌশল অধিদফতর।

 

"