প্রথম দিনে ৯১ স্থাপনায় মিলেছে এডিসের লার্ভা

ডিএনসিসির দ্বিতীয় পর্যায়ের চিরুনি অভিযান

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নগরবাসীকে ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষা দিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী বছরব্যাপী মশকনিধন কার্যক্রমের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ে ১০ দিনব্যাপী চিরুনি অভিযান শুরু হয়। গতকাল শনিবার প্রথম দিনের চিরুনি অভিযানে ৯১টি স্থাপনায় এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়। একইসঙ্গে ১২টি মামলায় ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় পর্যায়ের ১০ দিনব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের প্রথমদিনে গতকাল সকাল ১০টা থেকে ৫৪টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মোট ১২ হাজার ৬১৯টি বাড়ি, স্থাপনা, নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করে মোট ৯১টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া ৮ হাজার ৭৬৪টি স্থাপনায় এডিস মশা বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এ সময়ে ১২টি মামলায় মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যান্য স্থাপনার মালিককে সতর্ক করা হয়েছে। উল্লিখিত সব সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনাপূর্বক কীটনাশক ছিটানো হয়েছে এবং জনসাধারণকে এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যে এবারো প্রতিটি ওয়ার্ডকে ১০টি সেক্টরে ভাগ করে প্রতিটি সেক্টরকে ১০টি সাবসেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিদিন প্রতিটি ওয়ার্ডের একটি সেক্টরে অর্থ্যাৎ ১০টি সাবসেক্টরে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে। চিরুনি অভিযানে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে ছয়জন চিকিৎসক, ৯ জন কীটতত্ববিদ, ডিএনসিসির তিনজন কীটতত্ববিদ এবং ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা প্রত্যক্ষভাবে কাজ করছেন। দীর্ঘমেয়াদি আধুনিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে গতবারের মতো এবারো এডিসের লার্ভা প্রাপ্তির স্থানগুলো এবং প্রজনন উপযোগী পরিবেশগুলোর তথ্য অ্যাপে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় পর্যায়ের অভিযান সফল করতে গত শুক্রবার রাত ৮টায় মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে একটি অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ডিএনসিসির সব বিভাগীয় প্রধান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কীটতত্ত্ববিদরা অংশগ্রহণ করেন। ডিএনসিসি মেয়র এবার চিরুনি অভিযান চলাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত আরো জোরদার করার নির্দেশ দেন। যেসব ক্ষেত্রে ভবন বা স্থাপনার মালিক পাওয়া যাবে না, সেসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনে নিয়মিত মামলা করা হবে। এছাড়াও ডিএনসিসির পক্ষ থেকে শিগগিরই সমন্বিত মশকনিধন ব্যবস্থাপনা বা আইভিএম অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে যার মাধ্যমে সারা বছরের মশক নিধন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। এছাড়াও আগামী মঙ্গলবার থেকে গৃহস্থালি বর্জ্যরে সঙ্গে সংক্রামক বর্জ্য পাওয়া গেলে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি বিবেচনায় সেখানেও জরিমানা করা হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি বর্জ্য পৃথকীকরণের দীর্ঘমেয়াদি যে পরিকল্পনা সেটি বাস্তবায়ন শুরু হবে।

প্রসঙ্গত, প্রথম পর্যায়ের ১০ দিনব্যাপী (৬ থেকে ১৫ জুন) চিরুনি অভিযানে ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ডে মোট ১ লাখ ৩৪ হাজার ১৩৫টি বাড়ি, স্থাপনা, নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করে মোট ১ হাজার ৬০১টিতে এডিস মশার লার্ভা এবং ৮৯ হাজার ৬২৬টি স্থাপনায় এডিস মশা বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এ সময়ে মোট ২১ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

 

"