ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এবার হাট নয়

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২০, ০০:০০

হাসান ইমন

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে রাজধানীতে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোরবানির পশুর হাট না বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। রাজধানীর আশপাশে অপেক্ষাকৃত খোলামেলা জায়গায় বসানো হবে হাটÑ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। তবে আগের চেয়ে কয়েকটা কমবে পশুর হাট। এদিকে ঢাকা উত্তরের মতো দক্ষিণেও হাট কমানোর কথা চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকা দুই সিটির আটটি হাটের ইজারা সম্পূর্ণ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, চলমান বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে রেড জোন ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হাট না বসানোর চিন্তা চলছে। যেসব এলকায় বসতি কম এমন এলাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। আশপাশের দুই থেকে তিনটি এলাকা মিলিয়ে এক-একটি হাট করা হতে পারে। এরই মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বেশ কয়েকটি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট না বসানোর সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় সংস্থাটির মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, হাট ইজারা দিয়ে হয়তো কোটি টাকা আয় করা যাবে। কিন্তু টাকার চেয়ে মানুষের জীবনের মূল্য অনেক বেশি। তাই আমি ঢাকার বাইরের দিকে তুলনামূলক কম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হাট বসানোর জন্য নির্র্দেশ দিয়েছি, যেন ব্যবসায়ীরা পশু বিক্রিও করতে পারেন, আবার জনস্বাস্থ্যও বিবেচনায় রাখা যায়।

আতিকুল ইসলাম বলেন, একটা হাট ছিল তেজগাঁও এলাকায়। এখানে আমরা ভালো টাকা পেতাম। কিন্তু এবার এখানে হাট বসাব না। দ্বিতীয়ত আফতাবনগরে। এই এলাকায় আমাদের একটা হাট বসে। পাশেই দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটা হাট বসে। যেহেতু একই এলাকায় দুটি হাট বসছে তাই আমি সেখানে হাট না বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

ডিএনসিসি মেয়র বলেন, উত্তরা ১০, ১১ এবং ১২ এই তিনটি সেক্টরে বড় হাট বসত। গত বছর এই হাটে ইজারা মূল্য পাওয়া গিয়েছিল ৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। কিন্তু এবার এই হাট হবে না। উত্তরার লোকজন উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টর বৃন্দাবন এলাকা থেকে পশু কিনতে পারবেন। এই এলাকায় মানুষের বসবাস কম। আর মোহাম্মদপুর, বছিলা, লালমাটিয়াসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বছিলার ভেতরে রায়েরবাজার কবরস্থান যেখানে আছে সেখানে একটি হাটের অনুমোদন দিব। এছাড়া বাজার থাকবে পূর্বাচল ব্রিজ সংলগ্ন মস্তুল ডুমনী এবং ১০০ ফুট সড়কের সাইদ নগর এলাকাতে। আগে যেসব দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল তার সবই বাতিল করে নতুন করে ইজারা দেওয়া হবে।

গাবতলী স্থায়ী পশুর হাট থাকবে জানিয়ে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, করোনা-ভাইরাসের সংক্রমণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা ঢাকার ভেতরে পশুর কোনো হাট না রাখার কথা ভাবছি। আগের দরপত্রগুলো বাতিল করে নতুন করে ঢাকার বাইরে হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিগগিরই এটি বাস্তবায়ন করা হবে। এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সূত্রে জানা যায়, ১৪টি অস্থায়ী ও একটি স্থায়ীসহ মোট ১৫টি পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত ছিল সংস্থাটির। ইতোমধ্যে চারটি অস্থায়ী ও একটি স্থায়ী হাটের ইজারাও সম্পূর্ণ হয়েছে। বাকিগুলো আগামী ৯ জুলাই দ্বিতীয়বার টেন্ডার ড্র করার কথা রয়েছে। তবে বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হাট কমানোর পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বলেন, আমরা এখনো সবগুলো হাটের ইজারা সম্পূর্ণ করেনি। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় হাট কমানোর চিন্তাভাবনা আছে। আগামী কর্মদিবসে হাট ইজারা কমিটির মিটিং এবং মেয়রের সঙ্গে এ বিষয়ে বসা হবে। তবে সামগ্রিক বিবেচনায় হাট কমানোর সম্ভাবনা বেশি।

প্রসঙ্গত, আসন্ন ঈদুল আজহায় পশু কেনাবেচার জন্য ঢাকায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মোট ২৬টি পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় দুই সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরে ১১টি ও দক্ষিণে ১৫টি হাট বসানোর কথা ছিল। ইতোমধ্যে দুই সিটির আট হাটের ইজারা সম্পূর্ণ হয়েছে। ডিএনসিসির ইজারা হওয়া হাটগুলো হলো কাওলা-শিয়ালডাঙ্গা সংলগ্ন খালি জায়গার ইজারা হয়েছে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিং (আফতাবনগর) ব্লক-ই, সেকশন-৩ এর খালি জায়গার হয়েছে ১ কোটি ৯ লাখ টাকা। ভাষানটেক রাস্তার নির্মাণাধীন অব্যহৃত ও পরিত্যক্ত অংশ এবং পাশের খালি জায়গার ইজারা হয়েছে ৪৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরস্থিত বৃন্দাবন হতে উত্তর দিকে বিজিএমইএ পর্যন্ত খালি জায়গার হাটটির ইজারা হয়েছে ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ডিএসসিসির ইজারা হওয়া হাটগুলো হলো গোপীবাগে বালুর মাঠ ও কমলাপুর স্টেডিয়াম সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গার ইজারা হয়েছে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এছাড়া উত্তর শাহজাহানপুরের মৈত্রী সংঘ মাঠ এলাকার খালি জায়গার এ বছর দর উঠেছে ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। হাজারীবাগের ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজি মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গার ইজারা হয়েছে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৫ টাকা। পোস্তাগোলা শ্মশান ঘাট এলাকার খালি জায়গা ইজারা হয়েছে ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

 

"