কে হচ্ছেন বেতারের ডিজি!

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২০, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ

কে হচ্ছেন বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক (ডিজি)। এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। লোভনীয় এই পদে বসতে চলছে নানা তদবির। লবিং চালাচ্ছেন কেউ কেউ। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে নানামুখী যোগাযোগ রাখছেন কোনো কোনো আমলা ও প্রকৌশলী। লক্ষ্য যেকোনো মূল্যে ওই পদে বসা। কিন্তু পদটি লোভনীয় হলেও এ পদে বসতে কিছু টেকনিক্যাল যোগ্যতা থাকা অবশ্যক। যারা এ পদে বসতে তদবির ও লবিং করছেন তাদের অনেকের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে বলে জানা গেছে। আবার এ পদের যোগ্য এমন কর্তার লবিং দুর্বলতায় পিছিয়ে থাকায় নানামুখী গুঞ্জন চলছে বাংলাদেশ বেতারের অভ্যন্তরে কর্মরতদের মধ্যে।

প্রশ্ন উঠেছে, নিরপেক্ষ এই সরকারের নীতি-আর্দশ বিকিয়ে মধ্যস্বত্বভোগী কিছু ব্যক্তি যোগ্যদের বাদ দিয়ে অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে থাকা আমলাকে বসিয়ে নিজেরা লাভবান হতে তৎপর রয়েছেন। কারণ গত ১৪ জানুয়ারি ২০২০ অবসরে যান নারায়ণ চন্দ্র শীল। সেই থেকে পদটি শূন্যতা কাটাতে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে জুনিয়রকে চলতি দায়িত্ব দিয়ে ওই চক্রটি কিছুটা লবিংয়ে এগিয়ে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ বেতারের শর্তানুযায়ী এ পদে একমাত্র অভিজ্ঞতা রয়েছে বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী আহম্মদ কামরুজ্জামানের। গত ২০১৪ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে এ পদে কর্মরত রয়েছেন তিনি। তার থেকে পিছিয়ে রয়েছেন উপমহাপরিচালক বার্তা হোসনে আরা তালুকদার ও সালাহউদ্দিন আহমেদ উপপরিচালক, অনুষ্ঠান। এ দুজন যথাক্রমে এ পদে যোগদান করেন ২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ও ২০১৭ সালের ১১ ডিসেম্বর। এ হিসেবে তারা প্রধান প্রকৌশলী থেকে অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতায় পিছিয়ে রয়েছেন।

কারণ নিয়োগ বিধিতে শর্ত রয়েছে, ডিজি পদে পদায়নের জন্য টানা ১৮ বছর অভিজ্ঞতা লাগে। তবে এখানেই শেষ নয়; এর জন্য উপমহাপরিচালক অনুষ্ঠান/বার্তা বিভাগে অথবা প্রধান প্রকৌশলী পদেও অভিজ্ঞতা লাগে ৩ বছরের। চলতি দায়িত্ব দেওয়া হোসনে আরা তালুকদার ওই পদের আসীন হওয়ার সময় থেকে এখনো পিছিয়ে রয়েছে।

কিন্তু গত ১৫/০১/২০২০ উপমহাপরিচালক (বার্তা) হোসনে আরা তালুকদারকে মহাপরিচালক পদে চলতি দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এই কর্মকর্তা এখন ডিজির পদে নিয়মিত হতে চালাচ্ছেন জোর তদবির ও লবিং। এ নিয়ে বাংলাদেশ বেতারের অভ্যন্তরে এক ধরনের ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ চলতি দায়িত্ব পেলেও ডিজি পদে তাকে (হোসনে আরা) পদায়ন সমীচীন হবে না।

গত আট মাসেও ডিজির পদে কাউকে পদায়ন না করায় নানা জল্পনা চলছে বেতারের অভ্যন্তরে। কে হচ্ছেন এখানের শীর্ষ কর্তাব্যক্তি। চলতি দায়িত্বের কর্তাব্যক্তি নাকি বেতারের সুনাম রক্ষার জন্য জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী আহম্মদ কামরুজ্জামানকে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী বেতারের ৭৫ বছর উদ্যাপন অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক পদসহ অন্যান্য পদ আপগ্রেডের ঘোষণা দেন। সে মোতাবেক দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর পর গত ২৪ ডিসেম্বর সচিব কমিটির সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই থেকে বেতারের বিসিএস কর্মকর্তারা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। তথ্য মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন হলে হোসনে আরা তালুকদার কোনোভাবেই মহাপরিচালক পদে পদোন্নতি পাবেন না এমন বদ্ধ ধারণা রয়েছে এখানে কর্মরতদের মধ্যে। তবে প্রশ্ন রয়েছে তার হস্তক্ষেপে সচিব কমিটির সিদ্ধান্ত প্রায় ৫ মাস মন্ত্রণালয়ে আটকে রাখা আছে।

পরে মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছায় এবং এতে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী গত ১২/০৫/২০২০। খবরটি পেয়েই হোসনে আরা তালুকদার মন্ত্রণালয়ে ছুটে যান এবং যেন জিও জারি না হয়; সেজন্য তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এখানেও সফল এখনো চলতি দায়িত্বের এই ডিজি।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, করোনাকালীন এই সময়ে হোসনে আরা ডিজির চলতি দায়িত্বে থেকেও অফিস করেছেন মাত্র তিন কার্যদিবস যা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুরো সময় ডিজি পদে পদোন্নতির জন্য জনপ্রশাসনে সময় ব্যয় করেছেন। এ নিয়েও বেতারের অভ্যন্তরে নানা কানাগুসা ডালপালা মেলেছে বলে গুরুতর অভিযোগ আছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছে, গত ১৮/০৫/২০২০ তারিখ এসএসবির সভা হয়। ডিজির পদে পদায়নের জন্য একটি মহল তার (হোসনে) পক্ষে উঠে পড়ে লেগে আছে। লক্ষ্য বয়স প্রমার্জনা করে পদোন্নতির প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করে ফেলা।

কিন্তু পদোন্নতির ক্ষেত্রে যদি যোগ্য ব্যক্তি থাকে তাহলে বয়স প্রমার্জনার কোনো সুযোগ নেই। সেই দিক থেকে আহম্মেদ কামরুজ্জামন পদোন্নতির দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে হোসনে আরা ওই পদে বসতে এখনো অনড় বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ডিজির চলতি দায়িত্বে থাকা হোসনে আরার স্বামী প্রশাসন সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা। তার নাম মুশতাক হাসান মুহ. ইফতিখার। এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জনশ্রুতি রয়েছে জাতীয়তাবাদী মনোভাবের হওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন পদোন্নতি পাননি। তাই যোগ্যলোককে বাইপাস করে কোনোভাবে হোসনে আরা তালুকদার মহাপরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পেলে বাংলাদেশ বেতারের সব কর্মকর্তা ও শিল্পীদের মাঝে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে এবং যার দায়ভার কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তাবে বলে অভিজ্ঞমহল অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে হোসনে আরা খন্দকারের মন্তব্য না পাওয়া গেলেও আহম্মেদ কামরুজ্জামান বলেন, এখানে আমার বলার কিছু নেই। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘিত না হলে নিয়ম অনুযায়ী আমিই ডিজি হওয়ার কথা। তবে প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নেবেন তা চূড়ান্ত বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

 

"