মাঠপর্যায়ে কঠোর তদারকি শূন্যের কোঠায় ডেঙ্গু রোগী

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২০, ০০:০০

হাসান ইমন

রাজধানীসহ সারা দেশে সংস্থাগুলোর মাঠপর্যায়ের তদারকিতে এডিশবাহিত রোগ বা ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব অনেক নিয়ন্ত্রণে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা এখন নেই বললেই চলে। এর পেছনে কারণ হিসেবে জানা যায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো মশা নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ৬ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ১০ দিনব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম (চিরুনি অভিযান) পরিচালনা করে। এ ছাড়া ২০ জুন থেকে সপ্তাহব্যাপী হাসপাতালগুলোতে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করে সংস্থাটি। থেমে নেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনও। প্রতিদিনই মশক নিধন কার্যক্রমসহ জলাশয় পরিষ্কার এবং জলাশয়গুলোতে হাঁস ও মাছ ছেড়েছে সংস্থাটি।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, এডিশ মশা নিয়ন্ত্রণে ৬ জুন থেকে ১০ দিনব্যাপী একযোগে ৫৪ ওয়ার্ডে চালানো হয় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান বা চিরুনি অভিযান। এ সময় বিভিন্ন ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ভবন মালিকদের ২৪ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। পরবর্তী সময়ে একই অপরাধে কেউ অভিযুক্ত হলে আরো কঠোর শাস্তি, এমনকি জেল পর্যন্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ডিএনসিসি। এই ১০ দিনে ডিএনসিসির ৫৪ ওয়ার্ডে ১ লাখ ৩৪ হাজার ১৩৫টি বাড়ি, স্থাপনা ও নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করে ১ হাজার ৬০১টিতে এডিস মশার লার্ভা এবং ৮৯ হাজার ৬২৬টি বাড়ি-স্থাপনায় এডিস মশা বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নগরবাসীকে ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষা দিতে ডিএনসিসি এই বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান (চিরুনি অভিযান) পরিচালনা করে।

এ ছাড়া দ্বিতীয় ধাপে ২০ জুন থেকে সপ্তাহব্যাপী রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করে সংস্থাটি। ছয় দিনে ১৭২টি হাসপাতালে এই বিশেষ মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে সংস্থাটি। এ ছাড়া নগরবাসীকে ডেঙ্গু থেকে রক্ষায় নগরীর ৪০টি স্থানে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে ডিএনসিসি। এ বিষয়ে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে একটা মৌসুমে কিছু সভা-সেমিনার বা কিছু করাই কাজ না। ডেঙ্গু নিয়ে ৩৬৫ দিনই কাজ করতে হবে। আমি প্রথম দিন থেকে এ নিয়ে কাজ শুরু করেছি। তিনি আরো বলেন, চিরুনি অভিযানটা অব্যাহত থাকবে, মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। মানুষ এগিয়ে এলে আমাদের জরিমানা করতে হবে না।

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গত ৭ জুন নগরীর নবাবগঞ্জ পার্কে মশকমুক্তকরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। নগরীর ৭৫টি ওয়ার্ডে বছরব্যাপী একযোগে এই কার্যক্রম চলবে। প্রতি ওয়ার্ডে আটজন মশককর্মী সকাল ৯টা থেকে শুরু করে দুপুর ১টা পর্যন্ত লার্ভিসাইডিং করছে। অন্যদিকে ওয়ার্ডপ্রতি ১০ জন মশক ক্রু বেলা আড়াইটা থেকে শুরু করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ফগিং কার্যক্রম চালায়। ওয়ার্ড কাউন্সিলররা সরাসরি এসব কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

এ বিষয়ে ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, প্রথমে জরিমানা করতে চাই না। আমরা চাই জনগণই স্বতঃস্ফূর্তভাবে সম্পৃক্ত থাকুক। তারা নিজেরাই যদি আমাদের জানান, তাদের আঙিনায় লার্ভা আছে, তবে আমাদের লোকজন গিয়ে তা ধ্বংস করে দেবে। এজন্য সামান্য সার্ভিস চার্জ নেওয়া হয়। আমরা এটি শুরু করেছি এবং ভালো সাড়া পাচ্ছি। মানুষ কীভাবে রেসপন্স করেন, তার ওপর আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

বছরব্যাপী সমন্বিত মশক নিধন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তাপস বলেন, সমন্বিত মশক নিধন কাজের অংশ হিসেবে জলাশয়গুলোতে তেলাপিয়া মাছের চাষ এবং হাঁস পালন করা হচ্ছে। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার জানান, গত ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগ নিয়ে ৩১৮ জন ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৩১৪ জন সুস্থ হয়ে বাসায় চলে গেছেন। বর্তমানে ঢাকা শিশু হাসপাতালে তিনজন এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) একজন চিকিৎসাধীন। নতুন কোনো রোগী আর হাসপাতালে ভর্তি হননি। ডা. আয়েশা আক্তার জানান, চলতি বছর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশে কোনো রোগীর মৃত্যুর তথ্য আইইডিসিআরের কাছে নেই।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর এডিস মশার কথা সবার মনে আছে। এবার অনেক বিশেষজ্ঞ বলেছিলেন তিন থেকে চার গুণ বেশি হবে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে কথা দিয়েছি, বলেছি আমরা প্রস্তুত আছি। তাতে এখন পর্যন্ত যে অবস্থা, তাতে আমরা সফলতার একটা জায়গায় আছি। কারণ আমরা সঠিক পথে আছি। আমাদের ইচ্ছা আছে, আমাদের সৎ উদ্দেশ্য আছে। আমরা কাজ করছি।’

 

"