অনলাইনেই শিক্ষাবর্ষ শেষের দাবি ভারতে

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২০, ০০:০০

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে

অনলাইনেই চলতি শিক্ষাবর্ষ শেষ করার জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন দেশের আড়াই ভারতের অভিভাবক। দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডের পরীক্ষা জুলাই মাসে হবে, তারপর খুলতে পারে স্কুল, কলেজÑ এমনই জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিওয়াল। আর এতেই অভিভাবকরা প্রশ্ন তুলেছেন, স্কুল শুরু হলে বাচ্চাদের কি আর সামলে রাখা যাবে সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং বজায় রাখার ক্ষেত্রে। সেই আশঙ্কা থেকেই এবার কেন্দ্রের কাছে আবেদন জমা দিয়েছেন অভিভাবকরা। তাদের দাবি, এখনই স্কুল খোলার বিষয়ে চিন্তাভাবনা না করাই ভালো। তার চেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেই স্কুল খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। যদিও শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, জুলাই মাসে কী পরিস্থিতি দাঁড়ায়, তা বিচার করেই স্কুল খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু অভিভাবকদের মতে, চলতি শিক্ষাবর্ষটি শেষ করা হোক অনলাইনেই। আর সেই অনলাইন পিটিশনে সই করেছেন প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার অভিভাবক। এ রাজ্যেও জুনে স্কুল খোলা হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হলেও শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, রাজ্যে সব স্কুল বন্ধ থাকবে ৩০ জুন পর্যন্ত। সেইসঙ্গে মঙ্গলবারই উচ্চমাধ্যমিকের স্থগিত পরীক্ষার সূচিও পালটে দিয়েছে রাজ্য সরকার। উচ্চমাধ্যমিকের অবশিষ্ট তিনটি পরীক্ষা হবে ২, ৬ ও ৮ জুলাই।

এদিকে করোনার জেরে ভারতে মৃত্যুর হার ২ দশমিক ৮২ শতাংশ। যেসব দেশগুলোতে করোনায় সর্বনিম্ন মৃত্যু হয়েছে, সেই তালিকাতেও ভারতের নাম রয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব লব আগরওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, ১৪টি দেশের জনসংখ্যা ভারতের সমান। তাদের তুলনায় ভারতে আক্রান্ত ২২ দশমিক ৫ গুণ ও মৃত্যু ৫৫ দশমিক ২ গুণ দাঁড়িয়েছে বেশ কয়েকটি রিপোর্টে। করোনায় মৃত্যুতে ৭ নম্বরে ধরা হয়েছে ভারতকে। কিন্তু লব আগরওয়াল বলেছেন, শুধুমাত্র মৃত্যুর সংখ্যা হিসেব করলে, ভুল হবে। জনসংখ্যার ভিত্তিতে মৃত্যুর হার নির্ণয় করতে হবে। কোভিড-১৯-এ ভারতে মৃত্যুর হার ২ দশমিক ৮২ শতাংশ। দেশে ৭৩ শতাংশ মানুষ মারা গেছেন কো-মর্বিডিটিতে। ভারতের জনসংখ্যার ১০ শতাংশের মধ্যে ৫০ শতাংশ মৃত্যু করোনাভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। লব আগরওয়াল জানিয়েছেন, সুস্থতার হারের উন্নতি হয়েছে। মোট ৯৫ হাজার ৫২৭ জন সুস্থ হয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৭০৮ জন সুস্থ হয়েছেন। অর্থাৎ সুস্থতার হার ৪৮ দশমিক ০৭ শতাংশ। ৩ মে সুস্থতার হার ছিল ২৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ ও ১৫ এপ্রিলে তা ছিল ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ। তিনি জানিয়েছেন ভারতের জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতি লাখ মানুষের মধ্যে মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৪১। অন্যান্য দেশে সেই সংখ্যাটা ৬২, ৮২-র ঘরে পৌঁছে গেছে। সঠিক সময় করোনা রোগীকে চিহ্নিত করে, চিকিৎসা করার ফলেই মৃত্যুর হার কমানো গেছে বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব লব আগরওয়াল। এর মধ্যেই দিল্লিতে করোনা রোগীদের সহযোগিতার জন্য দিল্লি করোনা আপ চালু করেছে কেজরিওয়াল সরকার। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, দিল্লি করোনা আপের মাধ্যমে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে বেড ও ভেন্টিলেটর সম্পর্কে সব তথ্য জানতে পারবেন নাগরিকেরা। দিল্লিতে প্রতিদিন কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তবে তাতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। রাজ্য সরকার করোনা মোকাবিলায় সবরকম ব্যবস্থা করে রেখেছে। দিল্লি করোনা আপের পাশাপাশি দিল্লি ফাইট করোনা.ইন/বেডস ওয়েব সাইটের মাধ্যমে দিল্লির নাগরিক হাসপাতালে বেডের সংখ্যা জানতে পারবেন নাগরিকেরা। তিনি আরো বলেছেন, যদি হাসপাতাল কোনো কোভিড রোগীকে বেড নেই বলে অস্বীকার করে, তাহলে দিল্লি সরকারের হেল্প লাইন নম্বরে ফোন করে স্বাস্থ্যমন্ত্রকে বিষয়টি জানতে হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রক সেই রোগীকে সহযোগিতা করবে।

 

"