খেয়ে-পরে বাঁচতেই সব খুলে দিয়েছি

প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষ যেন খেয়ে-পরে যাতে বাঁচতে পারে সেজন্যই সব কিছু খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকে তাদের জীবনযাত্রা যেন অব্যাহত রাখতে পারে, সচল রাখতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা এ পদক্ষেপ নিয়েছি। কাজেই আমাদের সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই অর্থনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে যেতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকের শুরুতে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি প্রতিটি জেলা হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। দেশের ইতিহাসে একনেক বৈঠক এবারই প্রথম ভিডিও কনফারেন্সে হয়েছে। এতে ১৬ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরে ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। অনুমোদিত টাকার মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দেবে ১৪ হাজার ৪০১ কোটি ৫২ লাখ এবং বৈদেশিক ঋণ ১ হাজার ৮৮১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই না, দেশের মানুষ কষ্ট পাক। সেদিকে লক্ষ্য রেখে কয়েকটি ক্ষেত্রে আগের নির্দেশনাগুলো অর্থাৎ যেগুলো বন্ধ ছিল, সেগুলো উন্মুক্ত করেছি। তবে এ রকম দিন থাকবে না। আমরা যেকোনো প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে পারব। সেভাবেই আমাদের নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রেখে নিজ নিজ কর্মস্থলে কাজ করে যেতে হবে। আমরা দেশের অসহায় মানুষের কথা বেশি চিন্তা করি। করোনায় শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্ব বলতে গেলে স্থবির। সব জায়গায় এ সমস্যাটা দেখা দিয়েছে। আমরাও তার বাইরে না। আমাদের অর্থনীতি যে গতিশীলতা পেয়েছিল, করোনাভাইরাস আসার পর তাতে স্থবিরতা এসে গেছে। এটা শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপী চলছে। দেশবাসীকে বলব, স্বাস্থ্যবিধি যেগুলো দেওয়া হয়েছে, সবাই সেটা মেনে চলবে, সেটাই আমরা চাই। আমরা চাই না, আমাদের দেশের মানুষ কষ্ট পাক। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা যেসব বন্ধ ছিল, সেসব খুলে দিয়েছি। তবে এ ক্ষেত্রে সবাই চলাফেরাসহ সব কিছুতেই স্বাস্থ্যবিধিটা মেনে চলবেন। যেটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি সেটা মেনেই আমাদের চলতে হবে। আমাদের দেশের মানুষ তারা যেন সুরক্ষিত থাকে। মনে রাখতে হবে নিজের সুরক্ষা মানে অপরকে সুরক্ষিত করা। আমরা নিজ পরিবার এবং সহকর্মীকে সুরক্ষা দিতে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করব।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ অর্থনীতিতে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল, তাতে আমাদের আশা ছিল মুজিববর্ষেই আমরা আমাদের দারিদ্রের হার কমিয়ে এনে বাংলাদেশকে একটা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাব। কিন্তু কোভিড-১৯ ভাইরাসের কারণে সেই গতিশীলতা কিছুটা স্থবির হয়ে গেছে। তবে এই দিন থাকবে না। আমরা যেকোনো প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে এগিয়ে যাব।

গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সংযুক্ত ছিলেন। একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর তথ্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প যথাক্রমে ‘কোভিড-১৯ এমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যান্ডামিক প্রিপেয়ার্ডনেস’ প্রকল্প ও ‘কোভিড-১৯ রেসপন্স এমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স’ প্রকল্প; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প (তৃতীয় পর্যায়)’ প্রকল্প; ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (সপ্তম পর্যায়)’ প্রকল্প; বিদ্যুৎ, জ্বালানি খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প যথাক্রমে ‘শতভাগ পল্লী বিদ্যুদায়নের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ (রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগ) (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্প ও ‘শতভাগ পল্লী বিদ্যুতায়নের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ (ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ) (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্প; কৃষি মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প যথাক্রমে ‘কৃষি যন্ত্রপাতি ও লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন ব্যবস্থাকে অধিকতর লাভজনক করা’ প্রকল্প ও ‘মানসম্পন্ন মশলা বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিতরণ’ প্রকল্প; পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘সাতক্ষীরা জেলার পোল্ডার ১, ২, ৬-৮, এবং ৬-৮ (এক্সটেনশন) এর নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন’ এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্প।

এর মধ্যে ৩ হাজার ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম এবং প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প তৃতীয় পর্যায়ে মোট ব্যয় ৬ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় ১ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে হবে কোভিড-১৯ রেসপন্স ইমার্জেন্সি অ্যাসিসট্যান্স প্রকল্প। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণ সহায়তায় কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্ড অ্যান্ড প্যানডেমিক রেসপন্স প্রকল্পে ব্যয় হবে ১ হাজার ১২৭ কোটি টাকা। আরো ৩৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে হবে দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনগার প্রকল্প। শতভাগ পল্লী বিদ্যুতায়নের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা। প্রকল্পটি রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কৃষি যন্ত্রপাতি ও লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন ব্যবস্থাকে অধিকতর লাভজনক করা প্রকল্প। এছাড়া ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে মানসম্পন্ন মসলা বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও বিতরণ প্রকল্প। আর সাতক্ষীরায়য় বাঁধ পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭৫ কোটি টাকা।

 

 

"