বিশ্বে আক্রান্ত ৫১ লাখ ছাড়াল মৃত্যু ৩ লাখ ৩২ হাজার

প্রকাশ : ২৩ মে ২০২০, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে সারা বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ৫১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। করোনা সার্বক্ষণিক তথ্য রাখা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুসারে, গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৫১ লাখ ১ হাজার ৯৬৭ জন। এছাড়া ভাইরাসটিতে মারা গেছেন ৩ লাখ ৩২ হাজার ৯০০ জন। ইতোমধ্যে বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এ প্রাণঘাতী ভাইরাস। এ সপ্তাহে শনাক্ত ৯১ হাজার কোভিড-১৯ রোগীর এক-তৃতীয়াংশই লাতিন আমেরিকার। অন্যদিকে, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে রোগী ২০ শতাংশ করে। বিশাল সংখ্যক রোগী শনাক্ত হচ্ছে ব্রাজিলে। এদিক থেকে দেশটি ক্রমেই ছাড়িয়ে গেছে জার্মানি, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যকে। সর্বাধিক রোগীর সংখ্যার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পরই তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্রাজিল। করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই। নতুন করে ২৮ হাজার ১৭৯ জন নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ লাখ ২০ হাজার ৯০২ জন। যা কয়েকদিনের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। অপরদিকে মারা গেছে ১ হাজার ৪১৮ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৬ হাজার ৩৫৪ জন। আগের দিনের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২২ হাজার ১৪০ এবং মারা গেছে ১ হাজার ৪০৩ জন। এছাড়া করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছে ৩ লাখ ৮২ হাজার ১৬৯। বর্তমানে করোনার অ্যাক্টিভ কেস ১১ লাখ ৪২ হাজার ৩৭৯টি। এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে ১৭ হাজার ৯০২ জন। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই করোনার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে করোনায় সবচেয়ে বিপর্যস্ত নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য। সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৩৫৭ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ২৮ হাজার ৮৮৫ জন।

এদিকে, নিউ জার্সিতে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ১০ হাজার ৮৫২ জন। ইলিনয়েস অঙ্গরাজ্যে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৬৮৬ জন। অপরদিকে মারা গেছে ৪ হাজার ৬০৭ জন। ম্যাসাচুসেটসে আক্রান্ত ৯০ হাজার ৮৪ জন এবং মারা গেছে ৬ হাজার ১৪৮ জন। ক্যালিফোর্নিয়ায় আক্রান্ত ৮৮ হাজার ২০১ এবং মারা গেছে ৩ হাজার ৬১৯ জন। এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আরো এক সপ্তাহ আগেও লকডাউন জারি করত, তবে অন্তত ৩৬ হাজার লোকের প্রাণ বেঁচে যেত। করোনায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়েছে আরেক পরাশক্তি দেশ রাশিয়ায়। গতকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ১৭ হাজার। তবে মৃতের সংখ্যা তুলনামূলক কম রাশিয়ায়। সেখানে করোনায় মারা গেছেন ৩ হাজার ৯৯ জন।

বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুতে শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। দেশটিতে নতুন করে ১ হাজার ১৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর আক্রান্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৫৬৪ জন। ফলে দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ১০ হাজার ৯২১। অপরদিকে, এখন পর্যন্ত মারা গেছে ২০ হাজার ৪৭ জন। দেশটিতে এর মধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৬০ জন। সেখানে করোনার অ্যাক্টিভ কেস ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৭৯টি। তবে ৮ হাজার ৩১৮ জনের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। গত কয়েকদিনে দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। ২০ তারিখের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ২১ হাজার ৪৭২ জন। অপরদিকে মারা গেছে ৯১১ জন। তার আগের দিনের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা ১৬ হাজার ৫১৭। অপরদিকে মারা গেছে ১ হাজার ১৩০ জন।

চতুর্থ সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়েছে যুক্তরাজ্যে। দেশটিতে ২ লাখ ৫২ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত। মৃতের সংখ্যার দিক দিয়ে দেশটি দ্বিতীয়। সেখানে করোনায় মারা গেছেন ৩৬ হাজার ১২৪ জন মানুষ। এছাড়া নতুন করে সুস্থ হয়েছেন আরো ২ হাজার ৬১৫ জন। ফলে সুস্থ হওয়ার সংখ্যা দাঁড়াল ২ লাখ ৫০ হাজার ৯০৮ জনে।দেশটির অঙ্গরাজ্য ইংল্যান্ডেই সবচেয়ে আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে। এখানে এরই মধ্যে ১ লাখ ৩১ হাজার ৯৩২ জন আক্রান্ত ও ২৭ হাজার ৪৩২ জন মারা গেছেন। ইউরোপের দেশ ফ্রান্সে মৃত্যুর সংখ্যা কমছে। নতুন করে ৮৩ জন মারা গেছেন। একজন ডাক্তার বলেছেন, দেশে লকডাউন শিথিল করা সত্ত্বেও দ্বিতীয় ধাপের সংক্রমণ দেখা যায়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে সর্বশেষ মৃত্যুসহ দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ২১৫ জন। হাসপাতালে বর্তমানে ১ হাজার ৭৪৫ জন রোগী রয়েছে, তাদের মধ্যে ৪৯ জন ইনটেনসিভ কেয়ারে রয়েছেন, করোনার পিক সময়ে ইনটেনসিভ কেয়ারে রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৭ হাজার।

গত ১১ মে ফ্রান্স লকডাউন শিথিল করেছে, কর্মকর্তারা বলেছেন, দ্বিতীয় পর্যায়ের সংক্রমণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট আগাম হবে। ফ্রান্সের ইমার্জেন্সি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট পেট্রিক পেলুক্স শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সংক্রমণ কমলেও লকডাউন শিথিলের কারণে দ্বিতীয়বারে সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। গাণিতিক মডেলে সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা যায়। তিনি বলেন, মহামারি থেমে গেছে এটি মনে করা ঠিক হবে না, আমাদের সামাজিক দূরত্বের প্রতি গুরুত্ব বজায় রাখতে হবে এবং মাস্ক পরা অব্যাহত রাখতে হবে। ইউরোপের আরেক দেশ স্পেনে আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৭জন। আর সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার ৩৭৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৭ হাজার ৯৪০ জনের। জার্মানিতে আক্রান্ত ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯১৮ জন ও মারা গেছেন ৮ হাজার ২৮২ জন।

করোনাভাইরাস মহামারির শুরুতে ইতালি মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু সেখানে রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ৩২ হাজারের বেশি মানুষের জীবন হারানোর পর করোনা এখন বেশ নিয়ন্ত্রণে। তবে জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থা বলছে, কোভিড-১৯ রোগে মার্চ ও এপ্রিলে মৃত্যু হয়েছে সরকারি হিসাবের চেয়েও প্রায় ১৯ হাজার বেশি।ইতালির বৃহত্তর সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠান ইস্তিতুতো নাজিওনেল দেল্লা প্রেভিদেনজা সোসিয়েল (আইএনপিএস) বলেছে, একটি গবেষণায় দেখা গেছে সরকারি মৃত্যুর হিসাব ‘বিশ্বাসযোগ্য’ নয়। তাদের তথ্য মতে, মার্চ ও এপ্রিলে ইতালিতে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪২৯ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২০১৫-১৯ সালের ওই দুই মাসের গড় মৃত্যুর চেয়েও ৪৬ হাজার ৯০৯ হাজার বেশি। কিন্তু এই সময়ে জাতীয় পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে সিভিল প্রটেকশন এজেন্সি করোনায় ২৭ হাজার ৯৩৮ জনের মৃত্যুর খবর জানায়। অর্থাৎ এই সময়ে স্বাভাবিক হিসাবের চেয়েও ১৮ হাজার ৯৭১ জন বেশি মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ হাজার ৪১২ জন দেশের করোনা প্রকোপ উত্তর অঞ্চলের।

ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ২ লাখ ২৮ হাজার ছয়জন করোনায় আক্রান্ত, মৃত্যু ৩২ হাজার ৪৮৬ জনের। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাদুর্ভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছে। দেশটিতে ১০ হাজারের ও বেশি স্বাস্থ্যকর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইয়েমেন ও গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইরানের আধাসরকারি সংবাদ সংস্থাগুলো উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসেম জানবাবেইর উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানায়। তবে কাসেম জানবাবেই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি। প্রতিবেদনে বলা হয়, সপ্তাহখানেক আগে সংক্রমিত স্বাস্থ্য পরিচর্যা কর্মীদের সংখ্যা ছিল মাত্র ৮০০, যাদের ১০০ জনেরও বেশি কর্মী মারা গেছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৪৯ জনে। আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার। এদিকে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই। দেশটিতে একদিনেই আরো ৬ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৬ হাজার ১৯৮ জন। অপরদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১৫০ জন।

দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ১৮ হাজার ২২৬। এর মধ্যে মারা গেছে ৩ হাজার ৫৮৪ জন। ইতোমধ্যে সেখানে সুস্থ হয়ে উঠেছে ৪৮ হাজার ৫৫৩ জন। দেশটিতে করোনার অ্যাক্টিভ কেস ৬৬ হাজার ৮৯টি। ভারতে করোনায় সবচেয়ে বিপর্যস্ত মহারাষ্ট্র। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, রাজ্যটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৩৪৫ জন। ফলে সেখানে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪১ হাজার ৬৪২। অপরদিকে মুম্বাইতে ইতোমধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সেখানে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৮২ জন। মহারাষ্ট্রের পরেই রয়েছে গুজরাট। সেখানে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৭৪৯ জনের। ওই রাজ্যে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৫৬৯। অপরদিকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৫ হাজার ২১৯ জন। মধ্যপ্রদেশে এখন পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২৬৭ জনের।

এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ৫ হাজার ৯৮১ জন। তবে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২ হাজার ৭৩৩ জন। বিহারে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ১৯৮৭। অপরদিকে রাজস্থানে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ২২৭। গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনার উপস্থিতি ধরা পড়ে। এখন পর্যন্ত ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস। ১০ জানুয়ারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম ৪১ জন রোগী শনাক্ত হয় চীনের উহান শহরে। বিশ্বজুড়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ হতে ১ এপ্রিল পর্যন্ত সময় লেগেছে। এরপর থেকে প্রতি দুই সপ্তাহে আরো ১০ লাখ করে আক্রান্ত বাড়ছিল। তবে পরীক্ষা কম হওয়ায় এবং অনেক দেশই হাসপাতালের বাইরের মৃত্যু হিসাবে অন্তর্ভুক্ত না করায় প্রাণহানির প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মৃতদের অর্ধেকের বেশিই ইউরোপের। তবে এরইমধ্যে অনেক দেশ লকডাউন শিথিল করেছে। স্কুল খুলেছে এবং কর্মক্ষেত্র সচল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের ওপর করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন পরীক্ষায় আশাজনক ফল পাওয়া গেছে।

করোনা পরিস্থিতি

যুক্তরাষ্ট্র : ৯৬,৩৫৪

যুক্তরাজ্য : ৩৬,১২৪

ইতালি : ৩২,৪৮৬

ফ্রান্স : ২৯,২১৫

স্পেন : ২৭,৭৪০

ব্রাজিল : ২০,০৪৭

জার্মানি : ৮,২৮২

ইরান : ৭,২৪৯

ভারত : ৩,৫৮৫

 

"

সর্বাধিক পঠিত