জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা

সরাইলের এএসপিকে প্রত্যাহার তদন্তে কমিটি

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এক ইসলামী দলের নেতার জানাজায় বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ঠেকাতে ব্যর্থতার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপারকেও (এএসপি) সরানো হয়েছে। এএসপি মাসুদ রানাকে প্রত্যাহারের পাশাপাশি জানাজায় লোক সমাগমের ঘটনা তদন্তের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের কথা গতকাল রোববার পুলিশ সদর দফতরের এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় জানানো হয়।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন ও অর্থ) ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ কুমার (অপরাধ) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন (প্রশাসন)। কমিটিকে ২২ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

জেলার পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলে, একই ঘটনায় ব্যর্থতার জন্য সরাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল হককেও পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এর আগে এ ঘটনার জন্য শনিবার রাতেই সরাইল থানার ওসি শাহাদাৎ হোসেন টিটুকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়।

শনিবার সকালে ওই জানাজায় বিপুল মানুষের অংশগ্রহণ দেখে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে রাতে পুলিশ সদর দফতর থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। রোববার পুলিশ সদও দফতর থেকে জানানো হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জানাজায় লোক সমাগমের ঘটনায় ওসিসহ সার্কেল এএসপি প্রত্যাহার এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন।

জনসমাগমের পর ওসি মো. শাহাদাৎ বলেছিলেন, আমরা চিন্তাও করতে পারিনি যে এত লোক হবে। লোকজন আসতে শুরু করার পর আমাদের আর কিছু করার ছিল না।

সরাইলের ইউএনও আবু সালেহ মো. মুসা বলেছিলেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে এই জানাজার অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুলিশকে জানালেও তারা কিছু করতে পারেনি।

বাংলাদেশে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার পর এর বিস্তার ঠেকাতে দেশজুড়ে যে অবরুদ্ধ অবস্থা তৈরি করা হয়েছে, তাতে যেকোনো জনসমাগম এখন নিষিদ্ধ। মসজিদগুলোতে নামাজ পড়তে মুসল্লিদের ঢোকা বন্ধ করা হয়েছে, কবরস্থানে যাওয়াও বারণ করা হয়েছে। যেহেতু নতুন এই করোনাভাইরাসের কোনো টিকা কিংবা নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই তাই সংক্রমণ এড়াতে মানুষের বিচরণ কমানোই একমাত্র পন্থা। এজন্য ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে সবাইকে। বাংলাদেশে মানুষকে তা মানাতে গিয়ে পুলিশের হিমশিম খাওয়ার মধ্যে শুক্রবারই তাদের আরো কঠোর হতে বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তার পরদিনই সরাইলে পুলিশের সামনে হাজার হাজার মানুষকে জড়ো করে খেলাফত মজলিশ নেতা মাওলানা জুবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজা হলো। আনসারীর প্রতিষ্ঠিত সরাইলের জামিয়া রহমানিয়া বেড়তলা মাদ্রাসায় শনিবার সকাল ১০টা থেকে এই জানাজা হয়। এতে মানুষের ভিড় মাদ্রাসার সীমানা ছাড়িয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গিয়ে ঠেকেছিল।

আনসারী শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মার্কাস পাড়ায় নিজের বাসায় মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। তিনি ১৯৯৬ সালে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে হেরেছিলেন।

 

"