বিশ্বে মৃত্যু ১,৬০,০০০ হাজার ছাড়াল

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নতুন করোনাভাইরাসের মহামারিতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৬০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি এ রোগের বিস্তারের তথ্য নিয়ে নিয়মিত যে টালি প্রকাশ করছে, তাতে বিশ্বে কোভিড-১৯ এ আক্রান্তের সংখ্যা এখন ২৩ লাখ ২৮ হাজার ৬০০ জন। গতকাল রোববার সকাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৮৫টি দেশ ও অঞ্চলে ১ লাখ ৬০ হাজার ৭০৬ জনের মৃত্যুর তথ্য এসেছে জনস হপকিন্সের টালিতে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৫ লাখ ৯৫ হাজার ২১৭ জন। গত বছরের শেষে চীনের উহান থেকে নভেল বা নতুন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর সাড়ে তিন মাসের মাথায় গত ১০ এপ্রিল বিশ্বেজুড়ে মৃতের সংখ্যা লাখের ঘর স্পর্শ করে। এরপর মাত্র এক সপ্তাহে আরো ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যুতে শুক্রবার রাতে ওই সংখ্যা দেড় লাখে পৌঁছায়। এরপর এক দিনের মাথায় আরো দশ হাজার মানুষের মৃত্যুর হিসাব যোগ হলো এই তালিকায়। গত কয়েক দিনে ইউরোপের পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো রয়েছে বিপর্যস্ত অবস্থায়। শনিবার এক দিনেই সেখানে ৩৩ হাজার ৪৯৪ জন আক্রান্ত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ১৮৪৯ জনের।

জন হপকিন্সের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা কমপক্ষে ৭ লাখ ৩৪ হাজার ৯৬৯। অপরদিকে মারা গেছে কমপক্ষে ৩৮ হাজার ৯০৩ জন। তবে ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭ লাখ ৩৮ হাজার ৯১৩। অপরদিকে মারা গেছে ৩৯ হাজার ১৫ জন। এখন পর্যন্ত করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছে ৬৮ হাজার ২৮৫। তবে ১৩ হাজার ৫৫১ জনের অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক। তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন।

করোনায় বিপর্যস্ত ইউরোপের সমৃদ্ধ দেশ ইতালি। সেখানে এ পর্যন্ত মারা গেছে ২২ হাজার ৭৪৫ জন। ইতালিতে এবার মৃত্যুর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। গত দুই দিনের ব্যবধানে শনিবার মৃত্যুর হার কিছুটা কমেছে। তবে কমছে না আক্রান্তের সংখ্যা। এদিন মৃত্যু হয়েছে ৪৮২ জনের। এর আগের দিন শুক্রবার দেশটিতে প্রাণ হারায় ৫৭৫ জন। আক্রান্ত হয়েছে আরো ৩ হাজার ৪৯১ জন। শুক্রবার এ সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৪৯৩ জন।

শনিবার নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে নাগরিক সুরক্ষা সংস্থার প্রধান অ্যাঞ্জেলো বোরেল্লি জানান, ইতালিতে করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৩ হাজার ২২৭ জন। আর আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯২৫ জন। এদিন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন দুই হাজার ২০০ করোনা রোগী। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪৪ হাজার ৯২৭ জন করোনা রোগী।

ইতালির পরই করোনায় মৃতের সংখ্যায় এগিয়ে আছে স্পেন। দেশটিতে এ পর্যন্ত মারা গেছে ২০ হাজার ৬৩৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মারা গেছে ৬৮৭ জন।

মৃতের সংখ্যায় ৩ নাম্বারে থাকলেও আক্রান্তের সংখ্যায় স্পেনের অবস্থান ২ নম্বরে। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজার ৮৩৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৫ হাজার ৮৯১ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৭৪ হাজার ৭৯৭ জন। এছাড়া স্পেনে বর্তমানে ৯৬ হাজার ৪০ জন শনাক্ত রোগী রয়েছে। তাদের মধ্যে ৮৮ হাজার ৬৬৯ জন চিকিৎসাধীন, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল। বাকি ৭ হাজার ৩৭১ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউইতে রয়েছে। এদিকে স্পেনে লকডাউন শিথিলের পর দেশটিতে আক্রান্তের হার আবারও বাড়তে শুরু করেছে।

ফ্রান্সে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে ৬৪২ জন মারা গেছে। শনিবার এ কথা জানিয়ে দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, হাসপাতাল ও ইনটেনসিভ কেয়ারে মৃত্যুর সংখ্যা কমছে।

ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৩৬৪ জন এবং নার্সিংহোমে ২৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে করোনা মহামারিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৩২৩ জন।

তবে কয়েক দিনে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ৫৫১ জন কমে বর্তমানে মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৬৩৯ জন এবং ইনটেনসিভ কেয়ারে রোগী ১৯৪ জন কমে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৩৩ জন।

হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা পরপর চতুর্থ দিনের মতো এবং ইনটেনসিভ কেয়ারে পরপর দশম দিনে রোগীর সংখ্যা হ্রাস অব্যাহত রয়েছে।

গত ১৭ মার্চ থেকে ফ্রান্সে লকডাউন অব্যাহত রয়েছে। এতে করোনা বিস্তারের প্রবণতা কমে আসছে। তবে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো চলতি সপ্তাহে ঘোষণা দিয়েছেন, লকডাউন ১১ মে পর্যন্ত চলবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণে যুক্তরাজ্যে এ পর্যন্ত ১০৯ বাংলাদেশিসহ মারা গেছেন ১৫ হাজার ৪৯৮ জন। আর আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ২১৭ জন। সুস্থ হয়েছেন মাত্র ৩৪৪জন।

গত শনিবার দেশটিতে বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, সকালে সংগঠনটির নেতা রউফুল ইসলাম করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। লন্ডনের কুইন্স হাসপাতালে ১৬ দিন ভর্তি ছিলেন তিনি। বাংলাদেশে তার গ্রামের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার। তিনি সেখানকার বিয়ানীবাজার ক্যানসার হাসপাতালের ভূমিদাতা, ট্রাস্টি ও ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। সব মিলিয়ে ১০৯ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য বিভাগ। এদিকে পুরো গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে মানবদেহে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম ঘটনা শনাক্ত হয়। তার প্রায় এক মাস পর প্রথম মৃত্যুটি চীনে ঘটেছিল ১১ জানুয়ারি।

এছাড়া বেলজিয়ামে ৫ হাজার ৪৫৩, ইরানে ৫ হাজার ৩১, চীনে ৪ হাজার ৬৩২, জার্মানিতে ৪ হাজার ৪০৫, নেদারল্যান্ডসে ৩ হাজার ৬০১, ব্রাজিলে ২ হাজার ২০১, ইন্দোনেশিয়ায় ৫৩৫, ভারতে ৪৮৮, দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৩২, পাকিস্তানে ১৪৩, সৌদি আরবে ৯২, মালয়েশিয়ায় ৮৮ ও অস্ট্রেলিয়ায় ৬৯ জন মারা গেছেন।

চীনের বাইরে প্রথম মৃত্যুটি ঘটেছিল প্রায় এক মাস পর ২ ফেব্রুয়ারি ফিলিপিন্সে। সেদিন মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩৬২। মৃতের সংখ্যা ১ হাজারে পৌঁছেছিল ১০ ফেব্রুয়ারিতে। অর্থাৎ প্রথম মৃত্যুর পর মৃতের সংখ্যা ১ হাজারে পৌঁছতে লেগেছিল ঠিক এক মাস। এরপর মৃতের সংখ্যা দুই হাজারে যেতে সময় লাগে ৮ দিন। তার এক মাস পর ১৯ মার্চ মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়ায়। এরপর লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে মৃত্যু। বিপর্যন্ত ইউরোপ ও আমেরিকায় মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হওয়ায় প্রতি দুই দিনে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার করে বাড়তে থাকে। গত ২ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়ায়; তা থেকে এক লাখে যেতে সময় লেগেছিল আট দিন।

বাড়ছে সংখ্যা

যুক্তরাষ্ট্র : ৩৮,৯১০

স্পেন : ২০,৬৩৯

ইতালি : ২৩,২২৭

ফ্রান্স : ১৯,৩৪৯

জার্মানি : ৪,৫৩৮

যুক্তরাজ্য : ১৫,৪৯৮

ইরান : ৫,০৩১

 

"