কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বাড়ছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যর্থ প্রশাসন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত লকডাউন না মানায় কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, আমরা করোনাভাইরাস আক্রান্তের সপ্তম সপ্তাহে আছি। এই স্টেজে এসে স্পেন ও আমেরিকায় হাজার হাজার মানুষ মারা গেছেন। আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তাহলে আমরা সংক্রমণ ঠেকাতে পারব। লকডাউন না মানায় অনেক জায়গায় কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে। আর লকডাউনের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমিরের জানাজায় লোক সমাগম ঠেকাতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। গতকাল রোববার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ কথা বলেন। দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে এ স্বাস্থ্য ব্রিফিং হয়।

ব্রিফিংয়ে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালের আইসিইউতে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া যায়নি মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আইসিইউতে ভেন্টিলেটর মেশিনে চিকিৎসাধীন ৯ জন রোগীর ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে। এরই মধ্যে সাড়ে ৩ হাজার অক্সিজেন সিলিন্ডার কেনার জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে ১০ হাজার সিলিন্ডার মজুদ রয়েছে।

জাহিদ মালেক বলেন, বিশেষজ্ঞরা বলেন শতকরা ৮০ শতাংশ রোগী এমনিতেই বিনা চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠেন। ১৫ শতাংশ রোগী হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে থাকেন। সামান্য কিছু পরিচর্যা লাগে। ৫ শতাংশ রোগীর চিকিৎসা প্রয়োজন হয়। আর কিছু রোগী আইসিইউ ভেন্টিলেটরে চলে যায়।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যাতে না হয় সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে নানা পদক্ষেপ। দেশের বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ বিতরণ করে যাচ্ছে সরকার। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সবাইকে চলাচলের আহ্বানও জানানো হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই সেই আহ্বান শুনছেন না সাধারণ মানুষ। এজন্য কিছু ক্ষেত্রে কঠোরও হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে এর মধ্যেও গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক জানাজায় জড়ো হয় হাজার হাজার মানুষ। এই জানাজায় লোক সমাগম ঠেকাতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে।

 

"