দেশে করোনায় ঝরল আরো ৭ প্রাণ

* আক্রান্ত বেড়ে ২৪৫৬* ঢাকায় শনাক্ত বেশি মোহাম্মদপুরে

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

মহামারি করোনাভাইরাস দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত) আরো সাতজনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৯১ জনে। করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরো ৩১২ জন। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ৪৫৬ জনে। গতকাল রোববার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, তার সঙ্গে ছিলেন অধিদফতরের এমআইএস পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান খান। নিজের বাসা থেকে এতে সংযুক্ত হয়ে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

মন্ত্রী জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৬৩৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৩ হাজার ৮২৫ জনের। নতুন যাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তাদের মধ্যে আরো ৩১২ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৫৬ জনে। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরো সাতজন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৯১ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরো ৯ জন। ফলে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৭৫ জন।

জাহিদ মালেক বলেন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে যারা ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ভেন্টিলেটর মেশিনে চিকিৎসা নিয়েছেন, এমন ৯ জন রোগীর মধ্যে আটজনই মারা গেছেন। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভালো ফল পাওয়া যায়নি। তবে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে। এরই মধ্যে সাড়ে ৩ হাজার অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনতে আদেশ দেয়া হয়েছে। সারা দেশে ১০ হাজার অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুদ রয়েছে।

করোনার ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায়ের নির্দেশনা থাকলেও তা পালন হচ্ছে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, লকডাউন সঠিকভাবে পালন হচ্ছে না। আক্রান্ত লোকজন নতুন নতুন এলাকায় যাচ্ছেন। ফলে ওইসব এলাকার লোকজনও আক্রান্ত হচ্ছেন। এতে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বেড়ে যাচ্ছে।

বুলেটিন উপস্থাপনকালে করোনার বিস্তাররোধে সবাইকে বাড়িতে থাকার এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

গত ডিসেম্বরের শেষে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এখন বিশ্বে তা-ব চালাচ্ছে। চীন পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিয়ে উঠলেও এখন ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সাড়ে ২৩ লাখ ৩৩ হাজারেরও বেশি। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার। তবে ছয় লক্ষাধিক রোগী এরই মধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

এদিকে, সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) হিসেবে ঢাকার ভেতরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এমন রোগীদের বেশির ভাগই মোহাম্মদপুরের। এরপরই আছে ওয়ারী।

শনিবার দিবাগত রাতে আইইডিসিআর তাদের ওয়েবসাইটে করোনা পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে। এই তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংখ্যক করোনা রোগী ঢাকায় শনাক্ত হয়েছে। ঢাকা শহরে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ৮৪৩ জন।

ঢাকা বিভাগের অন্য জেলায় শনাক্তের সংখ্যা ৭৬৩। ঢাকার পর এই বিভাগের অন্যান্য জেলার মধ্যে শনাক্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি নারায়ণগঞ্জে। এরপর গাজীপুর ও নরসিংদীতে। এই তিন জেলায় শনাক্তের সংখ্যা যথাক্রমে ৩০৯, ১৬১ ও ৯৩ জন।

ঢাকায় শীর্ষে মোহাম্মদপুর

ঢাকায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যার দিক থেকে এখন মোহাম্মদপুর শীর্ষে। এখানে ৩৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর বাইরে ওয়ারীতে ২৮ জন, মিটফোর্ড এলাকায় ২৬ জন, যাত্রাবাড়ীতে ২৫ জন, লালবাগ ও উত্তরায় ২৩ জন করে, ধানমন্ডিতে ২১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

ঢাকায় গুচ্ছ সংক্রমণের সূত্রপাত হয়েছিল যে দুটি এলাকায়, সেই টোলারবাগ ও বাসাবোতে গতকাল শনিবার শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল স্থিতিশীল। টোলারবাগে গতকাল পর্যন্ত ১৯ জন ও বাসাবোতে ১৭ জন শনাক্ত হন।

১০ জনের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে, ঢাকায় এমন আরো ১৩টি জায়গা আছে। এর মধ্যে বংশাল, গেন্ডারিয়া ও হাজারীবাগে শনাক্তের সংখ্যা ১৬ জন করে; গুলশানে ১৪ জন; আজিমপুর, রাজারবাগ ও মিরপুর-১১ নম্বরে ১৩ জন করে; মহাখালীতে ১২ জন, বাবু বাজার, মিরপুর-১২ ও মগবাজারে ১১ জন করে, গ্রিনরোড ও শাঁখারীবাজারে ১০ জন করে।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। সবশেষ হিসাবে দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৪৫৬। মারা গেছেন ৯১ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৫ জন।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পাশাপাশি নানা সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে; যার মূলে রয়েছে মানুষে মানুষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। মানুষকে ঘরে রাখতে রাজপথের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় টহল দিচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ।

 

"